Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
Rampurhat Medical College

নামেই মেডিক্যাল কলেজ, এখনও ভুগছে রেফার রোগে

রোগীর পরিজনদের দাবি, মেডিক্যাল কলেজ হলেও এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায় না।

সৌরভ চক্রবর্তী
সৌরভ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১৫:১৪

link
সৌরভ চক্রবর্তী
সৌরভ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১৫:১৪

options
link
নামেই মেডিক্যাল কলেজ, এখনও ভুগছে রেফার রোগে zoom
নামেই মেডিক্যাল কলেজ, এখনও ভুগছে রেফার রোগে
Advertisement

সরকারি হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার ভিত কতটা মজবুত? কোথায় দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবা? পরিকাঠামোর অভাবই কি বাড়াচ্ছে রোগীদের দুর্ভোগ? চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা সচেষ্ট, তবু গাফিলতি কোথায়? ‘সংবাদ প্রতিদিন’ অন্তর্তদন্ত। আজ নবম পর্ব।

জেলার একমাত্র মেডিক্যাল কলেজ বলে কথা! তাই রোগভোগে আর বর্ধমান বা কলকাতায় ছুটতে হবে না ভেবেই খানিক স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন সিউড়-সহ এ তল্লাটের বাসিন্দারা। কিন্তু সে আশা আদৌ পূরণ হয়নি। অন্তত স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা তেমনই। ২০১৮ সালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বীরভূম জেলার প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একমাত্র সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হিসাবে যাত্রা শুরু করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডের বহু মানুষেরও অনেক আশা ছিল একে নিয়ে। কিন্তু আট বছর পরও সেই প্রত্যাশার বড় অংশই অপূর্ণ থেকে গিয়েছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল, বিশেষ করে সিউড়ি ও বোলপুর থেকে জটিল রোগীদের অধিকাংশক্ষেত্রেই রামপুরহাটে না পাঠিয়ে সরাসরি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ বা কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়। এমনকী, রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ থেকেও অনেক রোগীকে মৌখিকভাবেও সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল বা অন্যত্র পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ। মেডিক্যাল কলেজ চত্বরেই এমন ভোগান্তি নিয়ে সরব রোগীর পরিজনদের দাবি, মেডিক্যাল কলেজ হলেও এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায় না। বেশ কিছু বহির্বিভাগে সপ্তাহে ছয় দিন চালু থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এক-দু’দিনের বেশি পরিষেবা মেলে না। কার্ডিওলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, নিউরোসার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এখনও চালুই হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এমআরআই পরিষেবা। এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান পরিষেবাও নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগও রয়েছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই দালালদের সক্রিয়তা রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ।

সিউড়ির বাসিন্দা রণজিৎ বসাক বলেন, “রামপুরহাটে মেডিক্যাল কলেজ (Rampurhat Medical College) থাকলেও সিউড়ি থেকে রোগীদের বর্ধমান বা কলকাতাতেই পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের দোষ নেই, তাঁরা রোগীর স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেন।” রামপুরহাটেরই বাসিন্দা শফিউদ্দিন আলম জানিয়ে দিলেন, “নামেই মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে। রোগীর অবস্থা খারাপ হলেই বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও পরিষেবাই না থাকে, তা হলে মেডিক্যাল কলেজ করার উদ্দেশ্য কী?” বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের সামনের রাস্তার পাশাপাশি কয়েকটি ওয়ার্ড, এমনকী, এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান ঘরেও জল ঢুকে পড়ে! স্বাভাবিক পরিষেবা তখন মাথায়! পরিকাঠামোগত এই ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শোভন দে। তাঁর দাবি, “অধিকাংশ পরিষেবা থাকলেও কিছু বিভাগে এখনও ঘাটতি রয়েছে, যা দ্রুত পূরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নর্দমা সংস্কার ও পাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিটি স্ক্যান কক্ষ স্থানান্তরিত হয়েছে এবং এক্স-রে কক্ষও অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

(চলবে)

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.