পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ। শনিবার বীরভূম সফরে গিয়ে সেই আশিসের রামপুরহাটের বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন গাড়ি থেকে নেমেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিসের ছেলে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায়কে জড়িয়ে ধরেন তিনি। এরপর বাড়ির ভিতরে ঢুকে যান। বেশ কিছুক্ষণ পরে সেখান থেকে বের হন শুভেন্দু। বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, তাঁর দেওয়া কালীঠাকুর রোজ পুজো করে বাড়ি থেকে বেরোতেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ১৬ আগস্ট রামপুরহাটে বাড়ি সংলগ্ন পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হয় আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ। একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদে (টিআরডিএ) দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। পরিবারের অভিযোগ, সেই নিয়েই চিন্তায় ছিলেন আশিস। তাঁর রহস্যমৃত্যুর পর তাঁর ছেলে শতদলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এদিন বীরভূমে এসে আশিসের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু। কথা বলেন আশিসের স্ত্রীর সঙ্গে। আশিসের রহস্যমৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, টিআরডিএ দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হয়নি। এমনকী পুলিশ তাঁকে তদন্তের জন্য ডেকে পর্যন্ত পাঠায়নি।
আরও পড়ুন:
বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওনারা (আশিসের পরিবার) আমাকে বলেছেন, প্রশাসন, বিজেপির কেউ উত্তক্ত করেনি। এখানকার বিজেপির কর্মীরা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করতেন। বউদি (আশিসের স্ত্রী)-কে আমি নম্বর দিয়ে এসেছি। দাদাকে তো ফিরিয়ে দিতে পারব না। পাশে থাকার দায়িত্ব পালন করব। আমি একটি প্রোগ্রামে ওঁনাকে একটা কালীঠাকুর দিয়েছিলাম। প্রত্যেকদিন সেই ঠাকুরকে পুজো করে বেরোতেন আশিসবাবু।” আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শতদল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যে ভরসা ও আস্থা দিয়েছেন তাতে আমরা চিরকৃতজ্ঞ। প্রথম দিন থেকে উনি আমাদের খবর নিয়েছেন।”
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট রাজ্যের প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় । উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটের একটি জায়গায় তিনি লেখেন, “রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবন এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি।” টিআরডিএ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁকে ম্যালাইন করা হচ্ছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ করেন আশিস। তিনি লেখেন, “টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি। আমাকে অপমান (ম্যালাইন) করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
১০৮ জন উদ্ধার হলেও এখনও নেপালে নিখোঁজ ২৭৫ ভারতীয়, জানাল বিদেশমন্ত্রক
-
গাড়ি থামিয়ে জোর করে টাকা আদায়! সাসপেন্ড কলকাতা পুলিশের দুই কর্মী
-
অশোকনগরে শুরু তেল উৎপাদন, তৃণমূলকে দুষে শমীক লিখলেন, ‘শক্তিশালী হোক বাংলার অর্থনীতি’
-
স্মার্টওয়াচ অতীত, শরীরের খুঁটিনাটি হিসেব রাখবে অত্যাধুনিক ‘টেম্পল’, কবে আসছে ভারতের বাজারে?
-
পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স! ‘কাউকে ছাড়া হবে না’, কড়া বার্তা মন্ত্রী দিলীপের