পরিবর্তনের বাংলায় এবার শ্রাবণী মেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। প্রথমবার এই মেলাকে জাতীয় উৎসবের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তারকেশ্বর এবং শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে রয়েছে ভক্তদের আবেগ এবং ভক্তি। লাখো লাখো শিবভক্ত এই সময় তারকেশ্বরে বাবার মাথায় জল ঢালতে যান। বিপুল সমাগমকে মাথায় রেখে এবার মন্দিরকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। থাকছে বিশেষ লেজার শো এবং আলোর মেলায় সাজছে গোটা মন্দির চত্বর। এমনকী যে রাস্তা ধরে শিবভক্তরা যাবেন, সেখানেও থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। গোটা এই আলোর সজ্জার দায়িত্বে চন্দননগরের আলোক শিল্পীরা। অকাল মরশুমে আলোর সজ্জার দায়িত্বে পেয়ে খুশি তাঁরা।
শিল্পী জয়ন্ত দাস বলেন, ”তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলায় চন্দননগর থেকে আলো যাওয়ায় সরকারকে আমরা সাধুবাদ জানাই। পূর্বতন সরকার আমাদের জন্য খুব একটা চিন্তাভাবনা করেনি। নতুন সরকারের প্রতি আমরা আশাবাদী।”
আরও পড়ুন:
দফায় দফায় বৈঠক শেষে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘোষণা করেছিলেন, তারকেশ্বরের মন্দির এবং রাস্তা সাজানো হবে চন্দননগরের আলো দিয়েই। সেই মতো বৈদ্যবাটি নিমাই তীর্থ ঘাট থেকে তারকেশ্বর মন্দির পর্যন্ত রাস্তা সেজে উঠছে আলোক সজ্জায়। বিভিন্ন আলোয় সাজানো হচ্ছে রাস্তার দু’ধারে থাকা রাস্তাগুলিও। শুধু তাই নয়, তারকেশ্বর মন্দির ও শিবের মূর্তি ত্রিশূল ডমরু-সহ বিভিন্ন অবয়ব আলো দিয়ে সাজানো হচ্ছে। কাজ প্রায় শেষের দিকে। শেষমুহুর্তের ব্যস্ততা আলোক শিল্পীদের। তাঁদের কথায়, জগদ্ধাত্রী পুজোর পর তেমন বড় অর্থের কাজ প্রায় থাকে না। দুর্গাপুজোর জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। এবার শ্রাবণী উপলক্ষে বিপুল আলোর বরাত হাসি ফুটিয়েছে শিল্পীদের মুখে।

আলোক শিল্পী মনোজ সাহা বলেন, ”চন্দননগরের আলো দিয়েই সাজানো হচ্ছে তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা। নিমাই তীর্থ ঘাট থেকে তারকেশ্বর মন্দির পর্যন্ত গোটা রাস্তা আলো দিয়ে সাজানো হচ্ছে। কলকাতার ঠিকাদার সংস্থা চন্দননগরের আলোক শিল্পীদের কাজ ভাগ করে দিয়েছে। কৈকালা থেকে তারকেশ্বর মন্দির পর্যন্ত আমি বরাত পেয়েছি। প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার গাছে ও মন্দির চত্বরে এলইডি দিয়ে সাজানো হচ্ছে। আলোর গেটে থাকছে মন্দিরের আদল, শিবের মূর্তি-সহ বিভিন্ন রকম ডিজাইন দিয়ে গেট।” নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মনোজ সাহা।

সরকারের এহেন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন আরেক শিল্পী জয়ন্ত দাসও। তিনি বলেন, ”তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলায় চন্দননগর থেকে আলো যাওয়ায় সরকারকে আমরা সাধুবাদ জানাই। পূর্বতন সরকার আমাদের জন্য খুব একটা চিন্তাভাবনা করেনি। নতুন সরকারের প্রতি আমরা আশাবাদী। মাননীয় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথা মতো চন্দননগরের আলোক শিল্প নিয়ে শ্রাবণী মেলা সাজানো হচ্ছে।” আলোক শিল্পী দীপক সাউ বলেন, ৮ ও ১২ ফুটের ত্রিশূল, ডমুরু, কাশী বিশ্বনাথের আদলে চারটি গেট লাগানো হচ্ছে। কাজ প্রায় শেষের দিকে। এলাকা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী শিল্পীরা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দীপক সাউ। অন্যদিকে, বরাত পাওয়া আলোক শিল্পীর সংখ্যা তুলনামূলক অনেকটাই কম বলে দাবি শিল্পীদের। এক্ষেত্রে তাঁদের দাবি, আগামী দিনে আলোর কাজ অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে পেলে ভালো হবে। আরও শিল্পী কাজ পাবেন।
সর্বশেষ খবর
-
‘রঘু ডাকাত’ ফ্লপ করার পর শুনতে হয়েছিল ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ফিনিশড’! কী জবাব পরিচালকের?
-
মেলবোর্নে মোদির অনুষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে ভিড়! রাহুল-খাড়গেকে ক্ষমা চাইতে বলল আয়োজকরা
-
ইংল্যান্ড সিরিজ থেকেই শুরু বিশ্বকাপ প্রস্তুতি, রোহিত-কোহলির ভবিষ্যৎ জানিয়ে দিলেন গিল
-
তৃতীয় স্বামীর লালসার শিকার ১৪ বছরের মেয়ে! সব জেনেও আড়াল ‘গুণধর’ মায়ের, তারপর…
-
মহানায়কের জন্মশতবর্ষে বিশেষ উদ্যোগ রাজ্যের, প্রসেনজিৎকে চিঠি দিয়ে কী আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর?