মঙ্গলবার ফলতায় ‘পুষ্পা’ বাহিনীর তাণ্ডব। ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ফলতায় দাঁড়িয়ে হামলাকারীদের শাস্তির নিদান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অদিকারীর (Suvendu Adhikari)। যাঁদের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সবাইকে খুঁজে বের করে পাকড়াও করার নির্দেশ দেন তিনি। বুধবার ফলতায় জনকল্যাণ শিবির থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এখানে গুণ্ডামি, জঙ্গিপনা, জমিলুট করতে দেব না। যত বড় মাফিয়া, ডন হোক না কেন, সবক শেখাবে রাজ্য সরকার।” এই প্রসঙ্গ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তৃতায় উঠে আসে মঙ্গলবারের তাণ্ডবের ঘটনা।
তিনি বলেন, “আমি পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে নির্দেশ দিচ্ছি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের যে ধারা আছে, সেই ধারাতে এমন শিক্ষা দিতে হবে, যাতে কোনওদিন পুলিশ-বাহিনীকে আক্রমণ করার সাহস না পায়।”
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকাল আমি কার্শিয়াংয়ে ছিলাম। টিভিতে দেখলাম ফলতায় মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে কিছু লোক পুলিশ ও প্যারা মিলিটারিতকে আক্রমণ করতে গেছিল। এখানে এসপিকে বলে যাচ্ছি, ভিডিওতে যতগুলোকে দেখা গেছে, কেউ যেন বাড়িতে না থাকে। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।” তিনি বলেন, “আমি পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে নির্দেশ দিচ্ছি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের যে ধারা আছে, সেই ধারাতে এমন শিক্ষা দিতে হবে, যাতে কোনওদিন পুলিশ-বাহিনীকে আক্রমণ করার সাহস না পায়।” ফলতার মানুষকে আশ্বস্ত করে শুভেন্দু জানান, “যারা হামলা করেছে, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে চড়ানোর কাজও ডবল ইঞ্জিন সরকার করবে”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ফলতায় ‘পুষ্পা’কে ছাড়াতে স্ত্রীর নেতৃত্বে থানায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়। ফলতার শতল কলসায় এলাকায় লাগাতার বিক্ষোভ চলে। এরপরই জাহাঙ্গিরের অনুগামীরা ফলতা থানার দিকে এগোতে থাকে। পুলিশ সূত্রে দাবি, তাদের কাছে খবর ছিল, এই ভিড় জাহাঙ্গির খানকে ছিনিয়ে নিতে এবং থানায় তাণ্ডব চালাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী অ্যাকশন শুরু করে। জাহাঙ্গিরের অনুগামীদের লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বাহিনী। চলে লাঠিচার্জও। তাড়া খেয়ে পালাতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। বাঁচার পথ না পেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেন অনেকে। সেই ঘটনার দু’টি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয় গতকালই। পুলিশ সূত্রে খবর, গোটা ঘটনায় নেতৃত্বে ছিলেন জাহাঙ্গির স্ত্রী। এই হামলাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নামে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গিরকে ছাড়ানোর জন্য থানায় হামলাকাণ্ডে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। যারা সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থেকে দিনের পর দিন সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন, ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেই স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষকে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
তোলাবাজির আঁতুড় ঘর! ডোমজুড়ে তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙচুরের পর আগুন লাগাল ‘উন্মত্ত’ জনতা
-
কাকে বিশ্বাস করবেন মমতা! প্রদীপের পর এবার সাংগঠনিক পদে ইস্তফা রবীন্দ্রনাথের
-
হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ, রেলকে জানাতে হবে বিকল্প জায়গা, বড় নির্দেশ হাই কোর্টের
-
বিশ্বকাপ ফুটবলে বুঁদ বিশ্ব! রাত জেগে খেলা দেখেও সুস্থ থাকুন স্রেফ এই টিপসেই
-
যোগ্য হয়েও তৃণমূল জমানায় বঞ্চিত! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দ্বারস্থ সঙ্গীতশিল্পীরা, মধ্যস্থতায় রুদ্রনীল