Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
Darjeeling

রান্নার গ্যাসের কমছে জোগান, ঝাঁপ বন্ধের আশঙ্কা দার্জিলিং-সিকিমের অনেক হোটেলের!

ভরা বসন্তে পাহাড় ভ্রমণের ভাবনা! দার্জিলিং অথবা সিকিম পাহাড়ে বেড়ানোর পরিকল্পনা? তবে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। যুদ্ধের আঁচ আসার সম্ভাবনা পর্যটনের উপর। গ্যাসের সিলিন্ডারের আকালের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রান্নার গ্যাস না থাকলে কীভাবে হোটেল ব্যবসা চলবে? সেই প্রশ্ন উঠছে।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: মার্চ ১০, ২০২৬, ১৮:২৬

link
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: মার্চ ১০, ২০২৬, ১৮:২৬

options
link
রান্নার গ্যাসের কমছে জোগান, ঝাঁপ বন্ধের আশঙ্কা দার্জিলিং-সিকিমের অনেক হোটেলের! zoom
পাহাড়ে জোগান কমছে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের।
Advertisement

ভরা বসন্তে পাহাড় ভ্রমণের ভাবনা! দার্জিলিং অথবা সিকিম পাহাড়ে বেড়ানোর পরিকল্পনা? তবে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। যুদ্ধের আঁচ আসার সম্ভাবনা পর্যটনের উপর। গ্যাসের সিলিন্ডারের আকালের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রান্নার গ্যাস না থাকলে কীভাবে হোটেল ব্যবসা চলবে? সেই প্রশ্ন উঠছে। বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর রেস্তরাঁ ও হোটেল শিল্পে তীব্র সঙ্কটের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান না পেয়ে বহু রেস্তরাঁ বন্ধের মুখে চলে যেতে পারে! হুহু করে বাড়তে পাড়ে খাদ্য সামগ্রীর দাম। বিপাকে পড়তে পারেন পর্যটকরা। সেই আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করেছে।

এই মুহূর্তে দার্জিলিং ও সিকিম পর্যটকে ঠাসা। মনোরম আবহাওয়ায় একটু স্বস্তি ফিরে পেতে ভিন রাজ্যের পর্যটকেরাও ভিড় জমাতে শুরু করেছেন ওই দুই পাহাড়ে। এরই মধ্যে বিপদ ডেকে এনেছে মধ্যপ্রাচ্যে বেড়ে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ। ভারতে এলপিজি গ্যাস মূলত আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ইত্যাদি দেশ থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে। আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। জানা গিয়েছে, ফলে ভারতের অন্তত ৩৭টি জাহাজ আটকে গিয়েছে। যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশ জুড়ে রেস্তরাঁ ও হোটেল শিল্পে তীব্র গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিরাট প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমের পর্যটন শিল্পেও।

Advertisement
Supply of cooking gas dwindles, many hotels in Darjeeling-Sikkim face closure
ম্যালের রাস্তা।

ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ডিস্ট্রিবিউটররা হিমশিম খাচ্ছেন। গ্যাসের মজুত ভাণ্ডার কমে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে। হোটেল ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না-হলে দার্জিলিং ও সিকিম পাহাড়ের বহু ছোট-বড় রেস্তরাঁ, হোটেল ও খাবারের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে।

রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, “ভরা পর্যটন মরশুমে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাহাড়ের হোটেল, রেস্তোরাঁগুলো বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ভরা মরশুমে গরম জল, চা, খাবার সরবরাহ করতে প্রতিটি হোটেলে দিনে অন্তত ১০টি বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার দরকার হয়। সেটা না পেলে বিপর্যয় নেমে আসবে।”

রাজবাবু আরও জানান, রান্নার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না-হলে মানুষ ফের কাঠের জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ফিরবে। ফলে সংরক্ষিত জঙ্গল এলাকায় কাঠপাচারের সমস্যা বাড়বে! এমনিতেই ৭ মার্চ মাঝরাত থেকে এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে। রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে সিলিন্ডার পিছু ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। এরপর যদি গ্যাস সরবরাহ অনিশ্চিত হয় তবে পর্যটন শিল্প বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়াবে।

Supply of cooking gas dwindles, many hotels in Darjeeling-Sikkim face closure
ফাইল চিত্র।

দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং পাহাড়ে সাড়ে তিনশো হোটেল রয়েছে। কালিম্পংয়ে দুশো। এছাড়াও দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে দু’হাজারের বেশি হোম-স্টে রয়েছে। অন্যদিকে, সিকিম সরকারের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে এখন ১,১৮১টি হোটেল, ১,৯৮১টি হোমস্টে, ৬০০টিরও বেশি রেস্তরাঁ রয়েছে। অতিরিক্ত গেস্ট হাউস এবং পিজি সুবিধা রয়েছে। যেখানে আরও দেড় হাজার পর্যটক থাকতে পারবেন। সব মিলিয়ে রাজ্যের হোটেল ও হোমস্টেগুলোতে ২২ হাজার ৬৫২টি রুম এবং ৪৩ হাজার ৮০৭টি শয্যা রয়েছে।

এখন শুধু গ্যাংটকে প্রতিদিন ৪৫ হাজার পর্যটক থাকতে পারেন। ওই সমস্ত হোটেল ও হোমস্টেগুলোর পরিষেবা পুরোপুরি বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস নির্ভরশীল। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি সম্রাট স্যান্যাল বলেন, “বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পর্যটন শিল্প। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পর্যটকদের প্যাকেজ খরচ বাড়বে। কারণ, হোটেল, রেস্তোরাঁগুলো বিদ্যুতের সাহায্য নিয়ে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করবে।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.