Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ২৬ জুন ২০২৬
Birbhum

বীরভূমে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন, আদিবাসী মহিলাদের দিশা দেখাচ্ছে ‘উৎকর্ষে আরোহন’

বীরভূমের শান্তিনিকেতন থানার দমদমা গ্রামে অন্ধকার ঘুচিয়ে দিচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। একই সঙ্গে আদিবাসী মহিলাদের হাতে আসছে রোজগারের সুযোগ। স্রেফ রোদের তেজকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক স্বাধীনতার পথে হাঁটছেন গ্রামের ২৮ জন গৃহবধূ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২, ২০২৬, ১৭:০১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২, ২০২৬, ১৭:০১

options
link
বীরভূমে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন, আদিবাসী মহিলাদের দিশা দেখাচ্ছে ‘উৎকর্ষে আরোহন’ zoom
রাঙামাটির পথে এবার স্বনির্ভরতার নয়া পাঠ। নিজস্ব ছবি।

রাঙামাটির পথে এবার স্বনির্ভরতার নয়া পাঠ। বীরভূমের শান্তিনিকেতন থানার দমদমা গ্রামে অন্ধকার ঘুচিয়ে দিচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। একই সঙ্গে আদিবাসী মহিলাদের হাতে আসছে রোজগারের অস্ত্র। স্রেফ রোদের তেজকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক স্বাধীনতার পথে হাঁটছেন গ্রামের ২৮ জন গৃহবধূ। নেপথ্যে রয়েছে ‘উৎকর্ষে আরোহন’ নামের একটি সংস্থা।

নিজস্ব ছবি।

শান্তিনিকেতনের প্রান্তিক গ্রাম দমদমা। মাটির দেওয়াল আর খড়ের চালের সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। সেই চেনা ছবিটাই বদলে গেল আধুনিক বিজ্ঞানের ছোঁয়ায়। আদিবাসী মহিলারা এখন আর শুধু ঘরের কাজে সীমাবদ্ধ নন। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সৌরশক্তি চালিত মশলা শুকানোর ড্রায়ার ও মশলা গুঁড়ো করার আধুনিক যন্ত্র। গ্রামের লক্ষ্মী কিস্কু, প্রতিমা হেমব্রম বা তারা মান্ডিরা এখন উদ্যোক্তা। তাঁরা নিজেরাই হলুদ, আদা ও তেজপাতা সংগ্রহ করছেন। ড্রায়ারে শুকিয়ে সেই মশলা গুঁড়ো করে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে সেই পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে ‘তপোবন’ আশ্রম ও ঘোষ ঠাকুর পরিবার। ওই পরিবারের সদস্য তথা সৌর বিজ্ঞানী ঋচীক ঘোষ ঠাকুর নিজে মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। কীভাবে রোদকে কাজে লাগিয়ে ড্রায়ার চালাতে হয়, তা হাতে-কলমে শিখছেন আদিবাসী বধূরা। বিজ্ঞানী ঋচীকের মতে, এই প্রযুক্তির প্রয়োগ গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ সুগম করেছে।

নিজস্ব ছবি

উদ্যোগটি কেবল ব্যবসায়িক নয়, এটি একটি সামাজিক বিপ্লব। শুধু যন্ত্র নয়, ২৮টি পরিবারের অন্ধকার কাটাতে বসানো হয়েছে সৌর প্যানেল ও আলো। ফলে রাতে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে আর চিন্তা করতে হচ্ছে না তাঁদের। সম্প্রতি ইনকাম ট্যাক্সের জয়েন্ট কমিশনার বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় ও সংস্থার কর্ণধার অনুপম মজুমদার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। অনুপমবাবু জানান, মহিলাদের এই উৎসাহই তাঁদের আগামী দিনে আরও বড় কাজের রসদ জোগাচ্ছে।

আগে যারা পুরোপুরি পরিবারের পুরুষদের উপার্জনের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, আজ তাঁরাই সংসারের হাল ধরছেন। লক্ষ্মী কিস্কুর গলায় সেই আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি জানালেন, আগে ভাবতেই পারেননি নিজেরা কিছু তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। এই যন্ত্রগুলোই এখন তাঁদের জীবনের অভিমুখ বদলে দিয়েছে। দমদমা গ্রামের এই লড়াই প্রমাণ করে দিল, সদিচ্ছা থাকলে প্রান্তিক এলাকাতেও উন্নয়নের চারা গাছ মহীরুহ হয়ে উঠতে পারে। বীরভূমের রুক্ষ মাটিতে এখন স্বনির্ভরতার নতুন সবুজ ডানা মেলছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.