এসআইআর (SIR in West Bengal) আতঙ্কে ফের মৃত্যু। এবার মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটল উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে। মৃতের নাম লক্ষ্মীকান্ত রায়। সোমবার দুপুরে হাঁটতে বেরিয়ে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। তারপরেই মৃত্যু। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্বে শুনানির নোটিস পেয়েই তীব্র আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা যেন সারাক্ষণ তাড়া করে বেড়াচ্ছিল পঞ্চাশোর্ধ লক্ষ্মীকান্ত রায়কে। ভয়ে-সন্ত্রস্তে গত কয়েকদিন ধরে কাজকর্মও বন্ধ করে নিজের বাড়িতেই কার্যত সারাক্ষণ জড়সড় হয়ে গুটিয়ে থাকতেন তিনি। ২০০২ এর ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় আগামী ১৯ জানুয়ারি স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে বিডিও কার্যালয়ে শুনানিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই সোমবার দুপুরে চলে গেল প্রাণ।
আরও পড়ুন:
এদিন হাটের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু লোকজনে ভরা ধনকৈল্য হাটের মাঝে আচমকা মাথা ঘুরে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পেশায় ওই মজুরের। এদিন বিকালে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের সীমান্তবর্তী ধনকৈল্য হাটের ঘটনায় তুমূল চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত লক্ষ্মীকান্ত রায় পেশায় দিনমজুর। কালিয়াগঞ্জের বোচাডাঙ্গার চান্দলের বাসিন্দা। স্ত্রী ও পুত্র রয়েছে। মৃতের ছেলে হীরু রায়ের দাবি, “আগামী ১৪ জানুয়ারি এসআইআরের শুনানির ডাক পেয়েছিলেন। তারপর থেকে ভীষণ আতঙ্কে খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন বাবা। ভয়ে বাইরে আর কাজে যেতেন না।” পরিবার সূত্রের দাবি, ২০০২ সালের ভোটারের তালিকায় বাবা ও অন্যাদের নাম নেই। যদিও গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার ওই প্রৌঢ় ভোট দিয়েছিলেন।
জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূলের নিতাই বৈশ্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “টেকনিক্যাল সমস্যার জন্যই হয়তো ২০০২ সালর ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়েছিল। এবার হয়তো ব্যবস্থা হয়ে যেত। কিন্তু তার আগে কমিশনের ভয়ে সব শেষ হয়ে গেল।” অন্যদিকে এসআইআর আতঙ্কের বিরোধিতা করে বিজেপির যুব নেতা পুর কাউন্সিলর গৌরাঙ্গ দাস বলেন,” মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু মৃত্যু হলেই তৃণমূল এসআইআরের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।” কালিয়াগঞ্জ বিডিও বিদ্যুৎবরণ বিশ্বাস বলেন,”এক ব্যক্তি হাটে হৃদরোগে মারা গিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এসআইআরের শুনানির জন্য প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি বাসিন্দা আছে।” রায়গঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,” ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট বলা সম্ভব নয়। তদন্ত চলছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ক্যাম্পাসে বন্দে মাতরম যাত্রা এবিভিপির, বাইরে মিছিল এসএফআইয়ের! ফের তপ্ত যাদবপুর
-
মাতৃভাষাকে ভালোবেসে! বাংলায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপকদের বৃত্তিতে স্কুলে ১ লক্ষ দান প্রাক্তন শিক্ষিকার
-
জলরাক্ষসের আঘাতে এখনও বিধ্বস্ত নেপাল! এর মধ্যেই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত
-
চিন আটকে নেই যন্ত্রমানবে, শিল্পায়নে রোবট বিপ্লবের চেনা ছক বদলে দিচ্ছে বেজিং
-
মোদির পোস্টার বিতর্কে রক্ষাকবচ মিললেও শ্রীলেখাকে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের, কী বললেন বিচারপতি?