অর্ণব দাস, বারাসত: দীর্ঘ কুড়ি বছর খোঁজ ছিল না মেয়ের। মা জানতেও না, মেয়ে আদৌ বেঁচে আছে কি না। সেই মেয়ের সঙ্গেই মায়ের দেখা হল এসআইআরের সূত্র ধরে! হাজারও ঝক্কির মাঝে দত্তপুকুরে যেন মিলনোৎসব। এনুমারেশন ফর্ম পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি আনতে দমদমে গিয়েছিলেন মা কল্যাণী অধিকারী। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল জামাইয়ের। আর তারপর সহজেই মেয়ের কাছে পৌঁছে গেলেন কল্যাণীদেবী। ২০ বছর পর মা-মেয়ের মিলন মুহূর্তে আবেগপ্রবণ অনেকেই। তাঁরা বলছেন, ভাগ্যিস এসআইআর হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়ের বিয়ের পর দমদমে তাঁর শ্বশুরবাড়ি এলাকাতেই ভাড়া থাকতেন কল্যাণীদেবী। পরবর্তীতে আর্থিক সমস্যার কারণে বছর কুড়ি আগে তিনি চলে আসেন দত্তপুকুর থানার কোটরা এলাকায়। তাঁর কিছুদিন পরই মেয়ে জামাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাঁর। পরবর্তীতে বহুবার দমদম-সহ সংলগ্ন এলাকায় মেয়ের খোঁজ করেছেন তিনি। কিন্তু কিছুতেই মেয়েকে পাননি।
এরপর হানা দেয় মহামারী করোনা। এমন দুঃসময়ে বৃদ্ধা কল্যাণীদেবী মন্দির থেকে প্রশাসনের দরজায় দরজার ঘুরেছেন, কিন্তু হারানো মেয়ের সন্ধান পাননি। এরই মধ্যে অনটন বাড়লে তিনি আশ্রয় নেন দত্তপুকুরের নাকশা কালীমন্দিরে। তারপর থেকে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরপর শুরু হয় এসআইআর প্রক্রিয়া। স্থানীয় বিএলও কল্যাণীদেবীর কাছে ২০০২ সালের নথি চান। এই কারণেই সম্প্রতি তিনি গিয়েছিলেন দমদমে ভাড়ায় থাকা এলাকায়। সেখানেই রাস্তায় আচমকা জামাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় তার। তারপর সাক্ষাৎ হয় মেয়ের সঙ্গে। কল্যাণী দেবীর কথায়, “এসআইআরের জন্য নথি আনতে গিয়ে ২০বছর পর জামাইয়ের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়। জামাই নথি জোগাড় করে দিয়েও বাড়িতে নিয়ে যায়। তারপর ওদের বাড়ি গিয়ে মেয়ের সঙ্গে দেখা হল। এতদিন বুক ফাঁকা ছিল। সন্তানকে পেয়ে শান্তি ফিরে পেলাম।”
সর্বশেষ খবর
-
সভাপতি পদে দায়িত্ব নিয়েই মহামেডানকে ঋণমুক্ত করার আশ্বাস হুমায়ুনের, বার্তা ‘রাজনীতি’ নিয়েও
-
আগামী সপ্তাহেই সংসদে ‘অপারেশন লোটাস’! মমতার নির্দেশে হঠাৎ দিল্লিতে অভিষেক
-
‘ওয়াকা ওয়াকা’র নস্ট্যালজিয়া উসকে ফিরছে শাকিরা ম্যাজিক, কোন গানে ‘ফিফা’র মঞ্চ মাতাবেন নোরা?
-
‘ভাইকিং’ পোশাকে ফোটোশুট হালান্ডদের, বিশ্বকাপের আগে বিপাকে নরওয়ে
-
কারা পাবেন আবাসের বাড়ি? সুবিধাভোগী যাচাইয়ে ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা, রয়েছে ‘সেলফ সার্ভে’র সুবিধাও