ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং করার! কিন্তু বাবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে যাওয়ার পর সংসারের চাপ কিছুটা এসে পড়ে তাঁর উপর। তৈরি হয় প্রবল আর্থিক সঙ্কট। এহেন পরিস্থিতিতে ঠিকাদার মামার মাধ্যমে তারাতলায় ওই নির্মীয়মাণ অভিশপ্ত গুদামে কাজে যোগ দিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানার গাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা ২০ বছরের তরুণ রোহিত চৌধুরী। মাস ছয়েক আগেই সেখানে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু জীবনের প্রথম কর্মক্ষেত্রেই অকালে ঝড়ে গেল তাজা তরুণ প্রাণ। ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার। শোকে বিহ্বল মা নিলমদেবী।
এই বিষয়ে আরও খবর
নিলমদেবী বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছেলের সঙ্গে কথা হল। আমি ওকে বাড়ি আসতে বলেছিলাম। কিন্তু ছেলে বলেছিল জুলাই মাসের প্রথমেই ওর কাকার বিয়েতে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসবে। ওটাই শেষ কথা।”
গাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা বেনারস চৌধুরী ও নিলমদেবীর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ছিলেন রোহিত। ছোট ছেলে রোহন অগ্রদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। ২০২৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে আই টি আই পড়তে যাওয়ার ঠিক ছিল। সেই লক্ষ্যেই এগোতে চাইছিলেন রোহিত। কিন্তু বছর তিনেক আগে বাবার স্ট্রোক হয়ে যাওয়ার পর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেই থেকেই তিনি বিছানায় শয্যাশায়ী। এদিকে সংসার চালানোর তাগিদে নিলমদেবী সবজি বিক্রির পেশা বেছে নেন। ভোর থেকে সবজি বিক্রি করে দুপুরে বাড়ি ফিরে গৃহস্থালি কাজ সামলাতে হয়।
জানা গিয়েছে, রোহিতের মামাবাড়ি কৃষ্ণনগর। মামা সুভাষ চৌধুরী নির্মাণকাজের ঠিকাদারি করেন। তিনি যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার পর রোহিত সংসারের পরিস্থিতি দেখে ছয়মাস আগে তারাতলায় ওই নির্মীয়মাণ গুদামে কাজে লাগেন। ফিডার মেকানিকের সহকারী হিসাবে কাজ করছিলেন। কিন্তু সেখানেই যে বিপদ লুকিয়ে তা কল্পনাতেও ভাবতে পারেননি কেউ! নিলমদেবী বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছেলের সঙ্গে কথা হল। আমি ওকে বাড়ি আসতে বলেছিলাম। কিন্তু ছেলে বলেছিল জুলাই মাসের প্রথমেই ওর কাকার বিয়েতে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসবে। ওটাই শেষ কথা।”

ভাইকে হারিয়ে চোখের জলে ভাসছেন রোহিতের এক দিদি। কৃষ্ণনগরে বসে টেলিভিশনের পর্দায় বিপর্যয়ের খবর পান তিনি। তারপর থেকে প্রমাদ গুনছিলেন। কু ডাকছিল মন। বারবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল একটাই প্রশ্ন ওই শেডের নিচে ভাই নেই তো? সঙ্গে সঙ্গে স্বামীর সঙ্গে এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছে যান তিনি। সেখানে পৌঁছে জানতে পারেন, তাঁর আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে! ভাই আর নেই। তা শোনার পর থেকে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারেননি। অঝোরে কেঁদেই চলেছেন তিনি। কঠিন বাস্তবকে মানতে পারছেন না রোহিতের দিদি। কান্না বাঁধ মানছে না তাঁর।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
ফুটবলের পর এবার ক্রিকেটেও মালিকানা, নতুন দল কিনলেন জন আব্রাহাম, সঙ্গী জন্টি রোডস
-
জঙ্গলে লুকিয়ে ১০০০ বছরের প্রাচীন শহর, কেন হয়েছিল জনশূন্য? হতবাক গবেষকরা
-
পার্টনারের সঙ্গে কখনওই ঝগড়া হয় না বলে গর্ব করেন? নেপথ্যে থাকতে পারে ৪ জটিল মনস্তত্ব
-
চিরকালের জন্য বাকিংহাম প্যালেস ছাড়লেন রাজা চার্লস! হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?
-
স্বাস্থ্যকর খাবার বানাতে সর্বক্ষণ এয়ার ফ্রায়ারের ব্যবহার, ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে না তো?



