শাহজাদ হোসেন, ফরাক্কা: সম্প্রীতির নজির। অসীম খান, মোরসালিম ও আমিরুল শেখের তৈরি লোহার রথে চড়বেন জগন্নাথ। তুঙ্গে শেষমুহূর্তের প্রস্তুতি।

মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের ফিডার ক্যানেলের পশ্চিমপাড়ের বেওয়া – ২ নম্বর গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত নিশিন্দ্রা ঠাকুরপাড়া। দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামে রথযাত্রা পালিত হত। বসত মেলা। বছর কয়েক আগে গ্রামে বন্ধ হয়ে যায় রথ উৎসব। গত বছর থেকে ফের নিশিন্দ্রা ঠাকুরপাড়ায় ছোটো করে শুরু হয়েছে রথ উৎসব। এবার গ্রামবাসীরাই সিদ্ধান্ত নেন যে, লোহার রথে চড়বেন জগন্নাথ। রথ তৈরির দায়িত্বভার দেওয়া হয় শিক্ষিকা তনুশ্রী মিশ্রকে। ২১ জুন ফরাক্কার বেনিয়াগ্রাম মেলার মাঠের সামনে একটি গ্রিলের দোকানে রথ তৈরির বায়না দেওয়া হয় যার মালিক মোরসালিম শেখ। এরপর অসীম খান, আমিরুল শেখের সঙ্গে মিলে মাত্র আড়াই দিনের মধ্যে তিনি তৈরি করে ফেলেন ছ’ফুট উচ্চতার একটি রথ। প্রায় ৫৫ কেজি লোহা দিয়ে তৈরি এই রথের দৈর্ঘ্য আড়াই ফুট।
দোকানের মালিক মুরসালিম শেখ জানান, “হিন্দু-মুসলিম আমরা ভাই ভাই। আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। রাজনৈতিক সুবিধা লাভের আশায় কিছু অসাধু মানুষ আমাদের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে চলেছেন। তাই হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই আমি এই বায়না নিয়েছিলাম।” এপ্রসঙ্গে তনুশ্রী মিশ্র জানান, “লোহার রথ তৈরি করতে সমস্ত হিন্দু ভাইদের দোকানে ঘুরেছি। বহু অনুরোধ করেছি। কিন্তু অল্প সময়ে কেউ লোহার রথ তৈরি করতে রাজি হননি। অবশেষে খুন্তিপাড়ার মোরসালিম শেখ এক কথায় রথ তৈরির করতে রাজি হন। অল্প সময়ে এত নিখুঁত ও নিষ্ঠার সঙ্গে দাদারা রথটা তৈরি করেছেন। আমি মনে করি এটা মহাপ্রভুর ইচ্ছা। তিনি চেয়েছেন, মোরসালিম, অসীম ও আমিরুলদের হাত দিয়ে রথটা তৈরি হোক। তিনি যখন নিজের রথ মুসলিম ভাইদের হাতে তৈরি করিয়ে নিতে চান সেখানে সমস্যা থাকতে পারে না। এখানেই সাম্য, এখানেই ঐক্য, এটাই মানবতা। এটাই আমাদের ভারতবর্ষ।”
সর্বশেষ খবর
-
দুই ‘সেরা’ গোলের ম্যাচে বাজিমাত ‘গোলদস্যু’ হালান্ডের, প্রি কোয়ার্টারে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে
-
বাড়িতে পাথর ছুড়ছে দুষ্কৃতী! সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে তোপ অভিষেকের
-
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কথা হল, চাপ বাড়বে ট্রাম্পের?
-
নীচু জাত! কলেজের অশিক্ষক কর্মীকে নির্যাতন, ঘরে ঢুকতে বাধা অধ্যক্ষার! বিতর্ক পুরুলিয়ায়
-
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের সাক্ষাৎ, উপহার আম ও সন্দেশ! কী কথা হল?