ফের চর্চায় ডায়মন্ড হারবার মডেল। তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি থেকে উদ্ধার রাজ্য পুলিশের পোশাক, গুলির খোল! এছাড়াও মিলেছে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী, ওষুধ, ত্রিপল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের সরিষা অঞ্চলে। ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে। অভিযোগের তির উঠেছে সরিষার কামারপোল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শনিবার গভীর রাতে প্রধানের বাড়িতে গ্রামবাসীদের হানা দেওয়ার ঘটনায় উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
এই বিষয়ে আরও খবর
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে কয়েকজন গ্রামবাসী প্রধান মইদুল ইসলামের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী মজুত থাকার খবর পেয়ে সেখানে যান। অভিযোগ, বাড়ির বিভিন্ন ঘর থেকে উদ্ধার হয় কয়েক হাজার সরকারি তিরপল, শিশুদের খাদ্যসামগ্রী, কম্বল, পোশাক এবং বিপুল পরিমাণ ওষুধ। শুধু তাই নয়, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পের লোগোযুক্ত প্রচুর ওষুধও সেখানে পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ হওয়া সরকারি ত্রাণ দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের পোশাক ও গুলির খোল উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার খবর পেয়ে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ এবং পারুলিয়া কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
ঘটনার আরও বিস্ফোরক দিক সামনে আসে, যখন ওই বাড়ি থেকে পুলিশের পোশাক এবং বন্দুকের গুলির খোল, বাক্স উদ্ধারের দাবি ওঠে। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ হওয়া সরকারি ত্রাণ দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের পোশাক ও গুলির খোল উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার খবর পেয়ে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ এবং পারুলিয়া কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস, সেগুলি কীভাবে প্রধানের বাড়িতে এল এবং পুলিশের পোশাক ও গুলির খোল সেখানে কীভাবে পৌঁছল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রধান মইদুল ইসলাম এলাকাছাড়া রয়েছেন। ফলে তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জন্য যে ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ হয়, তা প্রভাবশালীদের বাড়িতে মজুত থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। ডায়মন্ড হারবার বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি উত্তম বাগ দাবি করেন, “তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সমস্ত কিছু আত্মসাৎ করেছে। সরকার মানুষের জন্য যে ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছিল, তা নিজেদের বাড়িতে মজুত করেছে। প্রধান মইদুল ইসলামের বাড়ি থেকে পুলিশের পোশাক পাওয়া গিয়েছে। আমাদের সন্দেহ, ওই পোশাক ব্যবহার করে এলাকায় ভয় দেখানো এবং তোলাবাজির মতো কাজ করা হত। বন্দুকের গুলির বাক্সও উদ্ধার হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।”
স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রধান মইদুল ইসলাম এলাকাছাড়া রয়েছেন। ফলে তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, “শিশু খাদ্য, ওষুধ, হাজার হাজার ত্রিপল, পোশাক—যে জিনিসগুলি সাধারণ মানুষের পাওয়ার কথা, তা সাধারণ মানুষ পায়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। আমরা গ্রামবাসীদের ধন্যবাদ জানাই, কারণ তাঁদের উদ্যোগেই বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন, নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” যদিও এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ঘটনাটি নিয়ে তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, তার উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
ডেকে নিয়ে গিয়ে নাবালিকাকে আকণ্ঠ মদ্যপান, হোটেলে ‘গণধর্ষণ’! প্রশ্নের মুখে নির্যাতিতার বান্ধবীর ভূমিকা
-
সমুদ্রতটে ৭০০ ডলফিন ও তিমির লাশ! উৎসবের নামে নৃশংস হত্যালীলা, নিন্দায় সরব বিশ্ব
-
বিশ্বকাপ রুখতে ফুটবলারদের মূর্তি বিবস্ত্র করে প্রতিবাদ! শিক্ষকদের মার পুলিশের, উত্তপ্ত মেক্সিকো
-
বর্ষায় কীভাবে বাড়ি রক্ষা করবেন, জেনে নিন সহজ কৌশল
-
রোমারিওর ফেভারিট তালিকায় নেই ব্রাজিলই, কেন এমন মনে করেন কিংবদন্তি তারকা



