Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
Mount Everest

ডেথ জোনের ল্যান্ডমার্ক, ৩০ বছর পর ডিএনএ টেস্টে প্রকাশ্যে এভারেস্টের ‘গ্রিন বুটস’-এর পরিচয়

সম্প্রতি ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের পর্বতারোহী দল 'গ্রিন বুটস' নামে পরিচিত মৃত পর্বতারোহীর শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১৩:৪৭

link
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১৩:৪৭

options
link
ডেথ জোনের ল্যান্ডমার্ক, ৩০ বছর পর ডিএনএ টেস্টে প্রকাশ্যে এভারেস্টের ‘গ্রিন বুটস’-এর পরিচয় zoom
বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক 'গ্রিন বুটস'-এর রহস্য উন্মোচন।
Advertisement

মাউন্ট এভারেস্টের (Mount Everest) ডেথ জোনের অন্যতম বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক ‘গ্রিন বুটস’-এর রহস্য উন্মোচন। ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি) শনাক্ত করেছে এভারেস্টের ওই বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক আসলে ভারতীয় পর্বতারোহী দোরজে মোরুপের হিমায়িত দেহাবশেষ। সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষার পর ওই তথ্য সামনে এসেছে।

১৯৯৬ সাল থেকে ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে এক মৃত পর্বতারোহীর ‘গ্রিন বুটস’। তুষারাবৃত ওই এলাকায় বাতাস এতটাই হালকা যে সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অক্সিজেন রয়েছে। তাই ‘গ্রিন বুটস’ দেখে পর্বতারোহীর সতর্ক হয়ে দ্রুত এলাকা অতিক্রমের চেষ্টা করেন।

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৯ হাজার ৩২ ফুট উঁচুতে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। নেপাল ও চিন সীমান্তে হিমালয়ের এই শৃঙ্গটি জয়ের অমোঘ টানে পর্বতারোহীরা জীবনকে বাজিতে রেখে অভিযানে ঘর ছাড়েন। কারণ, এভারেস্ট জয় মানে পর্বতারোহণের চূড়ান্ত কৃতিত্ব অর্জন। কিন্তু এভারেস্ট শৃঙ্গ জয়ের স্বপ্ন থাকলেও অনেকেই সেখানে থেকে যান চিরকালের মতো। একটি পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম সফল এভারেস্ট জয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত শৃঙ্গে পৌঁছানোর চেষ্টায় অথবা নেমে আসার সময় ৩০০ জনেরও বেশি পর্বতারোহী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রায় সব ঘটনাই ঘটেছে ২৬ হাজার ফুট উঁচু ‘ডেথ জোন’ নামে পরিচিত বিপজ্জনক এলাকায়। এখানেই ১৯৯৬ সাল থেকে ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে এক মৃত পর্বতারোহীর ‘গ্রিন বুটস’। তুষারাবৃত ওই এলাকায় বাতাস এতটাই হালকা যে সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অক্সিজেন রয়েছে। তাই ‘গ্রিন বুটস’ দেখে পর্বতারোহীর সতর্ক হয়ে দ্রুত এলাকা অতিক্রমের চেষ্টা করেন। কারণ, চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য সেখানে শরীর ঠিকঠাক কাজ করতে পারে না। হাইপোক্সিয়া, সেরিব্রাল এডিমা এবং পালমোনারি এডিমার মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতি দেখে পর্বতারোহী সুইস চিকিৎসক এডুয়ার্ড উইস-ডুনান্ট এলাকার নামকরণ করেন ‘ডেথ জোন’। 

Advertisement

কিন্তু যে ‘গ্রিন বুটস’ মৃত্যুর উপত্যকায় ল্যান্ডমার্ক হয়েছে সেটা কোন দেশের পর্বতারোহীর সেটা এতদিন রহস্যের আড়ালেই ছিল। অথচ দেহটি ১৯৯৬ সাল থেকে ডেথ জোনে বরফে তলিয়ে পড়ে আছে। সম্প্রতি ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের পর্বতারোহী দল ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত মৃত পর্বতারোহীর শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। আরও অনেক পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর জানা গিয়েছে, সেটি আসলে ভারতীয় পর্বতারোহী দোরজে মোরুপের হিমায়িত দেহাবশেষ। তিনি ১৯৯৬ সালে এভারেস্ট অভিযানে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।

ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রাণহানির ঝুঁকির জন্য সাধারণত এভারেস্ট থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করা হয় না। মৃত পর্বতারোহীদের দেহ উন্মুক্ত অবস্থায় বরফে ঢেকে পড়ে থাকে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গ্রিন বুটস’ শনাক্ত করার পর ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ দোরজে মোরুপের হিমায়িত দেহ উদ্ধারের জন্য বিশেষ অভিযানের আয়োজন করেছে।

অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই উদ্ধার কাজে ছয়জন অত্যন্ত অভিজ্ঞ শেরপার একটি দল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়াও কাঠমান্ডুতে দেহ নামিয়ে আনা। পরে সেটি ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে তিব্বতে কর্মরত চিনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের এক কর্তা জানান, এখন সেই প্রক্রিয়া চলছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.