Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Nitin Nabin

বঙ্গে প্রথম ভাষণেই নীতীনের মুখে নজরুল-রামমোহন! বিজেপির ‘নবীন’ নীতিতে ‘বাঙালিয়ানা’র ছাপ

প্রথম ভাষণেই শুভেন্দু অধিকারীর নীতি খারিজ করলেন নীতীন। বাংলার মাটিতে প্রথম ভাষণে সেভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য শোনা গেল না বিজেপি সভাপতির মুখে।

Advertisement
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ২২:২৩

link
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ২২:২৩

options
link
বঙ্গে প্রথম ভাষণেই নীতীনের মুখে নজরুল-রামমোহন! বিজেপির ‘নবীন’ নীতিতে ‘বাঙালিয়ানা’র ছাপ zoom
বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। ফাইল ছবি

সদ্যই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একপ্রকার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি বঙ্গে লড়ছে শুধু হিন্দু ভোটের আশায়। হিন্দুদের বাড়িতে গেরুয়া পতাকা টাঙানোর নিদানও দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর সেই উগ্র হিন্দুত্ববাদের নীতি বঙ্গের প্রথম ভাষণেই একপ্রকার খারিজ করে দিলেন বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীন। দুর্গাপুরে ‘কমল মেলা’য় এসে তিনি ভাষণ শুরু করলেন কাজি নজরুলের নামে। একই সঙ্গে বঙ্গের অন্য মনীষীরাও উঠে এলেন তাঁর ভাষণে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর ইস্পাতনগরীর রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দানে কমল মেলার উদ্বোধন করেন নীতীন নবীন। মঞ্চে উঠে প্রথমেই ভারত মাতার মূর্তিতে পুষ্পাঞ্জলি দিতে দেখা যায় বিজেপি সভাপতিকে। অবশ্য নীতীন দুর্গাপুরে আসার পরই একপ্রকার অস্বস্তিতে পড়ে যায় বঙ্গ বিজেপি। নতুন সভাপতিকে নিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন কর্মীরা। নবীন দুর্গাপুরের হোটেলে ঢোকার সময়ে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা চোখে পড়ে। ভিড়ের চাপে মহিলা কর্মীরা পড়ে যান। বহু বিজেপি কর্মী ভিড়ের ঠেলায় পড়ে যান পাশের নর্দমায়। ভেঙে যায় হোটেলের সামনের পুলিশ ব্যারিকেড। অস্থায়ী গেটের একাংশ হেলে পড়ে। ভিড়ের সুযোগে সাংবাদিক-সহ বেশ কিছু বিজেপি কর্মীর মানিব্যাগ চুরি হয়ে যায়। বিজেপি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ প্রায় হাতজোড় করে শান্ত করার চেষ্টা করেন কর্মীদের। পরে নীতীন নবীন হোটেলে ঢুকে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে এদিন কমল মেলায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশল, বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পান্ডে, সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, সৌমিত্র খাঁ। প্রদীপ জ্বালিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন নীতীন।

Advertisement

বাংলায় বলেন, “বঙ্গভূমিকে আমি প্রণাম করছি।” একে একে রাজা রামমোহন রায়, ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিত রায় থেকে উত্তম কুমারের নামও উঠে আসে নীতীনের বক্তৃতায়। তিনি বলেন,” এই রকম মেলার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীদের কুটির শিল্প থেকে সংস্কৃতির মঞ্চ এই মেলা।” বাংলার যুব ও মাতৃ শক্তিকে প্রণাম জানিয়ে নীতীন বলেন, “বাংলার ভূমিকে আমার প্রণাম। বাংলা কী করে এগিয়ে যাবে তা নিয়ে চিন্তা করেন প্রধানমন্ত্রীও। বাংলার সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিকশিত ভারতের সঙ্গে বিকশিত বাংলা গড়তে লড়াই করতে হবে বাংলার যুব ও নারীশক্তিকে। বাংলার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ আমরা। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” এরপরই মা দুর্গা ও কালীর নাম নিয়ে তিনি বলেন,”মাতৃ আরাধনার কেন্দ্র এই বাংলা। মা দুর্গার মাটি এই বাংলা। তাই ভারতে বাংলার নারীশক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা লড়াই করব।”

তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাংলার মাটিতে প্রথম ভাষণে সেভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য শোনা গেল না নীতীনের মুখে। বরং কোনও রাজনৈতিক আক্রমণ বা তৃণমূল-বিরোধী স্লোগান না দিয়ে কৌশলে বাঙালিয়ানায় শান দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি। বাংলার মনীষীদের কথা মনে করাটা সেই উদ্দেশ্যেই।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.