Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
হিমালয়ে হাহাকার
Nepal Flash Flood

‘চিনা সরকারই দায়ী’, নেপাল বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফিরে বেজিংকে দুষছেন উত্তরপাড়ার পর্যটক

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা অঞ্জনা স্যান্যালের সাফ কথা, সময়মতো বিপর্যয়ের খবর জানালে বহু মানুষকে বাঁচানো যেত।

Advertisement
সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১৪:৫৬

link
সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১৪:৫৬

options
link
‘চিনা সরকারই দায়ী’, নেপাল বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফিরে বেজিংকে দুষছেন উত্তরপাড়ার পর্যটক zoom
নেপাল বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফিরলেন উত্তরপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা অঞ্জনা স্যান্যাল

হিমবাহ হ্রদ ফেটে অনর্গল জলরাশি, সঙ্গে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান – প্রকৃতির জোড়া ধাক্কায় বিপর্যস্ত নেপালই এখন সংবাদ শিরোনামে। টানা ৬ দিন পরও নেপালের ধ্বংসস্তূপের ছবিটার তেমন বদল নেই। সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৮০০ পেরিয়েছে। হাজার দুয়েক মানুষের এখনও খোঁজ নেই কোনও। বেসরকারি মতে সেই হিসেব যে আরও কত, জানা নেই। বাংলার বহু পর্যটক নেপাল হয়ে কৈলাস, মানস সরোবর যাত্রায় বেরিয়েছিলেন, তাঁরা অনেকে তীর্থ দর্শন করতে না পেরে ব্যর্থ মনোরথে ফিরেছেন। কিন্তু মনে মনে নিশ্চিন্ত এই ভেবে যে এত বড় বিপর্যয় থেকে অন্তত প্রাণরক্ষা পেয়েছে। তেমনই একজন উত্তরপাড়ার (Uttarpara) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা অঞ্জনা স্যান্যাল। নেপাল বিপর্যয়ের (Nepal Flash Flood) জন্য তিনি সরাসরি চিনকেই দায়ী করলেন। তাঁর সাফ কথা, সময়মতো চিন বিপর্যয়ের খবর জানালে নেপালে বহু মানুষকে বাঁচানো যেত।

অঞ্জনা স্যান্যাল নেপালে বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি চিনের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘হিমবাহ যখন ভেঙে পড়ে তখন সকাল প্রায় ৭টা ১০। ৬০ শতাংশ ভেঙে উপর থেকে গলতে গলতে জল নামছিল পাহাড়ের গা বেয়ে। আমরা নেপালে বসে সেই খবর জানতে পারি প্রায় ৮টা ৪০ নাগাদ। এই দেড়ঘণ্টায় যদি সময়মতো চিন বিপর্যয়ের খবর নেপাল সরকারকে জানাত তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচত, ক্ষতিও এড়ানো যেত। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে চিন সরকার করেছে।”

উত্তরপাড়ার ৬৯ বছরের অঞ্জনা স্যান্যাল গিয়েছিলেন কৈলাসযাত্রায়, নিজস্ব ছবি

কলকাতার এক নামী পর্যটন সংস্থার সঙ্গে গত ২১ আগস্ট কাঠমাণ্ডু হয়ে কৈলাসের উদ্দেশে রওনা হন ৬৯ বছরের অঞ্জনা স্যান্যাল। ২৫ আগস্ট রাতে চিনের ভিসা পান তাঁরা। ২৬ আগস্ট অর্থাৎ বিপর্যয়ের দিন সকালে তাঁরা গাড়ি নিয়ে কৈলাসযাত্রা করেন। অঞ্জনাদেবী জানান, বেশ রোদ ঝলমলে দিন ছিল। কিন্তু কিছু দূর এগোতে দেখেন, পাহাড়ের গা বেয়ে শুধু ধোঁয়া আর একটা শব্দ। তখনই উলটোপথে ফেরা মানুষজন তাঁদের সতর্ক করেন যে হড়পা বান নামছে পাহাড়ের গা বেয়ে। বড় বিপদ হয়েছে। তা শোনামাত্রই অঞ্জনাদেবীর গাড়ির নেপালি চালক অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি ঘুরিয়ে নিরাপদে সেখান থেকে ফিরে আসেন। এত বড় বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফিরেও তাঁর আক্ষেপ ছিল, কৈলাশ দর্শন এবার আর হল না। আবার কবে যেতে পারবেন এমন দুর্গম এলাকায়, সেই ভেবে চোখের জল আটকাতে পারছিলেন না বলে জানান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। কিন্তু এও জানান, চিনা দূতাবাস থেকে তাঁকে সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ আবার যেতে পারবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

এরপরই অঞ্জনা স্যান্যাল নেপালে বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি চিনের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘হিমবাহ যখন ভেঙে পড়ে তখন সকাল প্রায় ৭টা ১০। ৬০ শতাংশ ভেঙে উপর থেকে গলতে গলতে জল নামছিল পাহাড়ের গা বেয়ে। আমরা নেপালে বসে সেই খবর জানতে পারি প্রায় ৮টা ৪০ নাগাদ। এই দেড়ঘণ্টায় যদি সময়মতো চিন বিপর্যয়ের খবর নেপাল সরকারকে জানাত তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচত, ক্ষতিও এড়ানো যেত। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে চিন সরকার করেছে।” তাঁর অভিযোগ যে নেহাৎ মনগড়া নয়, তা একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টেও অনেকটা স্পষ্ট। তিনমাসে আগেই হিমবাহ সংক্রান্ত রিপোর্ট বেজিংয়ের কাছে চেয়েছেল কাঠমাণ্ডু। কিন্তু তা দিতে গড়িমসি করে চিন। হয়ত সময়মতো রিপোর্ট পেলে আগাম সতর্কতা নেওয়া যেত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.