বিড়ির ধোঁয়া, অভাব আর বঞ্চনা যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, তাঁরাই এবার অ্যাপ্রন গায়ে চড়িয়ে মানবসেবার স্বপ্ন দেখছেন। বাড়ির দেওয়ালে ফাটল। চাল দিয়ে জল পড়ে। পাশের ঘরেই মা-কাকিমারা সারাদিন বিড়ি বাঁধেন। আঙুল কালো হয়, বুকের ভিতর কাশি জমে। এটাই মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বিড়ি মহল্লার আসল ছবি। সেই ছবিটাই এবার বদলে দিতে চলেছেন ১৮ জন। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার বিড়ি শ্রমিক পরিবারের ১৮ জন ছেলেমেয়ে নিটে সফল হয়েছেন। অভাব-অনটনের মাঝে তাঁদের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটা আর স্বপ্ন নেই, সত্যি হতে চলেছে।
মুর্শিদাবাদ মানেই বিড়ি শিল্প। জেলার অর্থনৈতিক বুনিয়াদ এই শিল্প।নিত্যদিনের সমস্যা গঙ্গা ভাঙন, পরিযায়ী জীবন। অভাব এখানে নিত্যসঙ্গী। তবুও এই মাটি থেকেই উঠে এল জেলার ১২৩ জন নিট কৃতী। সবচেয়ে বেশি জঙ্গিপুরেই। এই মহকুমা থেকে সর্বভারতীয় ডাক্তারি পরীক্ষায় পাস করেছেন ৫০ জন। পরিসংখ্যান খানিকটা এরকম – রঘুনাথগঞ্জ ২০, সামশেরগঞ্জ ১৫, সুতি ৯, ফরাক্কা ৫, সাগরদিঘি ১। এর মধ্যে ১৮ জনই বিড়ি শ্রমিকের ঘরের।
আরও পড়ুন:
মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) মানেই বিড়ি শিল্প। জেলার অর্থনৈতিক বুনিয়াদ এই শিল্প। বেসরকারি হিসাবে ১৫ লক্ষ, সরকারি হিসাবে ৭ লক্ষ মানুষের পেট চলে এখানে। নিত্যদিনের সমস্যা গঙ্গা ভাঙন, পরিযায়ী জীবন। অভাব এখানে নিত্যসঙ্গী। তবুও এই মাটি থেকেই উঠে এল জেলার ১২৩ জন নিট কৃতী। সবচেয়ে বেশি জঙ্গিপুরেই। এই মহকুমা থেকে সর্বভারতীয় ডাক্তারি পরীক্ষায় পাস করেছেন ৫০ জন। পরিসংখ্যান খানিকটা এরকম – রঘুনাথগঞ্জ ২০, সামশেরগঞ্জ ১৫, সুতি ৯, ফরাক্কা ৫, সাগরদিঘি ১। এর মধ্যে ১৮ জনই বিড়ি শ্রমিকের ঘরের। এই ১৮ জনের গল্পই এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে।
সামশেরগঞ্জ জোতকাশীর মীজানুর রহমান। নিটে তাঁর র্যাঙ্ক ৯৭৬০। বাবা দিনমজুর, মা বিড়ি শ্রমিক। ঘরে ছয় ভাই ও দুই বোন।মীজানুর পরিবারের পঞ্চম সন্তান। পেট চালাতেই হিমশিম। বাকি ভাইয়েরা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। কোচিং নেওয়ার টাকা নেই। রাত ১২টা পর্যন্ত ইউটিউব আর পুরনো নোটস দেখে পড়েছেন। বলছেন, ‘‘অভাব ছিল, তাই বলে পড়া ছাড়িনি।”
সামশেরগঞ্জ জোতকাশীর মীজানুর রহমান। নিটে তাঁর র্যাঙ্ক ৯৭৬০। বাবা দিনমজুর, মা বিড়ি শ্রমিক। ঘরে ছয় ভাই ও দুই বোন।মীজানুর পরিবারের পঞ্চম সন্তান। পেট চালাতেই হিমশিম। বাকি ভাইয়েরা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। কোচিং নেওয়ার টাকা নেই। রাত ১২টা পর্যন্ত ইউটিউব আর পুরনো নোটস দেখে পড়েছেন। বলছেন, ‘‘অভাব ছিল, তাই বলে পড়া ছাড়িনি।” উত্তর চাচন্ডের সুমা খাতুন। র্যাঙ্ক ১৬৬৮৯। বাবা ফুটপাথে ব্যবসা করেন। মা বিড়ি বাঁধেন। মাথার উপর গঙ্গা ভাঙনের আতঙ্ক। ভাঙা ঘরে বৃষ্টির জল পড়ে। তবুও হারিকেনের আলোয় বই নিয়ে বসতেন। পাশের ঘরে বিড়ির গন্ধ, আর তিনি ডাক্তারি বই খুলে বসতেন। তাঁর কথায়, “বাড়িতে টাকা নেই, কিন্তু বই কেনার জেদ ছিল।” সামশেরগঞ্জের তানভীরের র্যাঙ্ক ২০০, রঘুনাথগঞ্জের মাহামদুলের নাম তালিকায় ৪৫৪৪ নম্বরে রয়েছে। হাসিবাতুন নেশা ১০৮৪৯, মাসিদুর হোসেনের র্যাঙ্ক ৫৪৭৫। তাঁরা সকলে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন, তাঁরা জেলার গর্ব।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কলকাতার পর এবার দুর্গাপুরের ক্লাসরুমে বিশাল চন্দ্রবোড়া! কী হল তারপর?
-
দিলদরিয়া ভাইজান, ভ্রাতৃসম ‘বডি-ডবল’ পারভেজের অস্ত্রোপচারের খরচ জোগালেন সলমন
-
জাতগণনার প্রশ্নপত্রে বিভ্রান্তি! মোদিকে চিঠি উদ্বিগ্ন রাহুল-খাড়গের
-
‘নবাবের জেলা’তেও টুলুর ২০০ কোটির সাম্রাজ্যের জাল ছড়িয়ে! বড় সূত্রের খোঁজে পুলিশ
-
লেকের জলে মারণ অ্যামিবা, সাঁতারের পরেই মস্তিষ্কে সংক্রমণ, প্রাণ গেল ৮ বছরের শিশুর