নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ২০ একর জমি এখনও হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। ওই জমির প্রক্রিয়া আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
গত এক বছরে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে বহু অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে। বিশেষ করে রাতের দিকে সীমান্ত অতিক্রম করে বেআইনিভাবে ভারতে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
জেলায় সীমান্ত সংক্রান্ত কাজে বিএসএফকে মোট ১২৭ একর জমি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তার মধ্যে প্রায় ১০৮ একর ইতিমধ্যেই হস্তান্তর হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ শেষ পর্যায়ে এসে প্রায় ২০ একর জমির কাজই মূলত বাকি রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক তিন মাসে প্রায় ৩২ একর জমির হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। সীমান্তে বেড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয় জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন স্তরে কাজ চলছিল। জমি সংক্রান্ত প্রশাসনিক এবং আইনি জটিলতার কারণে এক সময়ে সেই প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর আগে প্রায় ৭৫ একর জমি বিএসএফকে দেওয়া হয়েছিল। পরে বিএসএফ ও জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির মধ্যে একাধিক বৈঠকের পর আটকে থাকা কাজ ফের গতি পায়।
জেলার বিভিন্ন সীমান্তের পরিস্থিতিও এক নয়। করিমপুর, তেহট্ট এবং চাপড়ার অধিকাংশ এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে চলে গিয়েছে। অন্যদিকে রানাঘাট ও হাঁসখালি এলাকার কিছু অংশে জমি হস্তান্তরের কাজ এখনও শেষ হয়নি। সেই জায়গাগুলির কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, নদিয়ার প্রায় ১৭ কিলোমিটার সীমান্তে এখনও কাঁটাতারের বেড়া বসানো বাকি। জমি হাতে পাওয়ার পর ওই অংশে বেড়া নির্মাণের কাজ এগোনোর ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সীমান্তে অবৈধ পারাপার রুখতে বেড়া নির্মাণকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাঁসখালি-সহ কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় অতীতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। বিএসএফের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত এক বছরে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে বহু অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে। বিশেষ করে রাতের দিকে সীমান্ত অতিক্রম করে বেআইনিভাবে ভারতে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও এই কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএসএফের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। জেলা প্রশাসন সুত্রে খবর হাতে থাকা প্রায় ২০ একর জমির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে। ১৫ আগস্টের মধ্যে জমি হস্তান্তর হয়ে গেলে নদীয়ায় বিএসএফকে জমি দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর বাকি থাকা সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ আরও দ্রুত এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
বন্যায় কাঁদছে অসম! এখনও ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষ, ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন, মৃত ১০০
-
পরমাণু চুক্তি নিয়ে সুর নরম, ইরান হরমুজে খুলে দিলেই নিষ্ফলা যুদ্ধে ইতি টানবেন ট্রাম্প!
-
মোটা মাইনের চাকরির টোপ দিয়ে কলকাতার যুবকদের উজবেকিস্তানে ‘পাচার’, তারপর…
-
রাজারহাটের অভিজাত আবাসনে পানীয় জলদূষণ! অসুস্থ বহু বাসিন্দা, তুমুল উত্তেজনা এলাকায়
-
অটো চালিয়ে অসুস্থকে বিনামূল্যে পৌঁছে দেন হাসপাতালে, ভাইরাল গভীর রাতের ‘শেরনি’