খড়ের চাল-মাটির কুঁড়েঘরে যেন আলোর রোশনাই! কিছু সময় আগে দিল্লি যাওয়া হবে কিনা, সেই গভীর সংশয়ে ছিল পরিবার। দিল্লির লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছে সুন্দরবনের মেধাবী ছাত্রী সেলিমা মোল্লা। দুস্থ পরিবারের সাধ্য নেই মেয়েকে দিল্লি পাঠানো। শেষপর্যন্ত সেলিমার মুখে হাসি ফুটল। ব্যাগপত্র গুছিয়ে বেরিয়ে পড়া। দমদম বিমানবন্দর থেকে বিমানে সোজা দিল্লি। কিন্তু এই অসাধ্যসাধন হল কীভাবে? সেলিমার কথা শুনে এগিয়ে আসেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস। তাঁর সাহায্যেই দিল্লি গেল নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী।
সুন্দরবনের ওই দরিদ্র পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা। তবে মেয়ের পড়াশোনায় কোনও খামতি রাখেননি সেলিমার বাবা। ‘বিকশিত ভারত’ নিয়ে প্রবন্ধ লিখে যথাস্থানে পাঠিয়েছিল ওই কিশোরী। খবর আসে সেলিমার লেঝা প্রশংসিত হয়েছে। ১৫ আগস্ট দিল্লির লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণপত্রও আসে। মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়েছিল ওই পরিবারের। হাতে গোনা কয়েকটা টাকাই তো আছে, সেই দিয়ে তো মেয়েকে দিল্লি পাঠানো সম্ভব নয়। তাহলে কি মেয়ের দিল্লি যাওয়া হবে না? দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন বাবা-মা।
আরও পড়ুন:

সেলিমাও আশা ছেড়ে দিয়েছিল দিল্লি যাওয়ার। ওই ছাত্রীর কথা শুনে সাহায্যের হাত বাড়িতে দিলেন বিধায়ক। দিল্লি যাতায়াতের জন্য বিমানের টিকিট কেটে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে থাকার জন্য ১০ হাজার নগদ টাকাও দেওয়া হয়েছে। মেয়ে শেষ মুহূর্তে দিল্লিতে পৌঁছতে পেরে আপ্লুত ওই পরিবারট। উল্লেখ্য ‘বিকশিত ভারত’ প্রবন্ধ লিখে দিল্লির লালকেল্লায় ১৫ আগস্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পায় বাসন্তীর ফুল মালঞ্চ গ্রামের ঋতুভগত হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী সেলিমা মোল্লা। আর্থিক অনটনের জন্য সেলিমার দিল্লি যাওয়ায় সংশয় দেখা যায়। সব কথা শুনে দ্রুত তাঁকে দিল্লি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন বিধায়ক।

তাঁরই সহযোগিতায় শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ শুক্রবার সকালেই দিল্লি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিধায়ক পরেশ রাম দাস নিজের গাড়িতে করেই বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন। দিল্লিতে থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিধায়ক পরেশ রাম দাস বলেন, “সংবাদ মাধ্যম থেকে জানতে পারলাম আমাদের সুন্দরবনের ছাত্রী লালকেল্লার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও যেতে পারছে না আর্থিক কারণে। তারপর সমস্ত ব্যবস্থা করলাম। প্রশাসনের সাহায্য নিয়েই সেখানে পৌঁছনোর পর যে অনুমতিপত্র লাগে, তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমার বিধায়কের বেতন থেকে এই পরিবারটিকে সাহায্য করেছি।”
নবম শ্রেণির ছাত্রী বিমানে উঠে আপ্লুত। ছবিও তুলেছে। দিল্লি পৌঁছে টেলিফোনে পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছে সেলিমা। সে বলে, “৫০০ শব্দের প্রবন্ধ লিখে দিল্লির লালকেল্লা যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি ভারতের স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলনের অংশ নেওয়ার জন্য। বিধায়ক পাশে এসে দাঁড়ানোই আমরা দিল্লি পৌঁছতে পারলাম।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
থেঁতলে গিয়েছে খুলি, সাঁকরাইলে বৃদ্ধার রহস্যমৃত্যু! ঝোপের ধারে লাশ দেখে থ পুলিশও
-
ভারতীয় বায়ুসেনার অসামান্য বীরগাথা ‘অপারেশন সফেদ সাগর’, পড়ুন রিভিউ
-
শ্রুতি হাসানের মতো বিড়ালে অ্যালার্জি? এই লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন
-
লালকেল্লা নয়, স্বাধীনতার মুহূর্তে তেরঙ্গা উত্তোলন কোথায় হয়েছিল জানেন? নেপথ্যে ঐতিহাসিক কারণ
-
নেতাজির নামে ‘কুকথা’য় অনন্তের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা রুজু! শিক্ষক-সহ ৫ অনুগামী গ্রেপ্তার কোচবিহারে