গোটা পাড়াটাই যেন মেসবাড়ি। যত বাড়ি তত মেস। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী তো থাকছেই, সেই সঙ্গে দেখা যায় বছর ত্রিশ-চল্লিশ বা পঞ্চাশ-ষাটের লোককেও। আর সন্দেহটা এখানেই। মেসবাড়িতে কারা এই বয়স্ক ‘সন্দেহভাজন’ মানুষ? উঠছে এমন একাধিক প্রশ্ন। পুরসভার এক কাউন্সিলরের কথায়, “মালদহ শহর থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব খুব বেশি নয়। মহদিপুর, বেকি, কেষ্টপুর, আদমপুর হয়ে সীমান্ত টপকে ওপার থেকে এই শহরে ঢোকা খুব সহজ। জনা চার-পাঁচেক লোক শহরে ঢুকে কারও বাড়িতে গেলেই মাস দু’-তিনেকের জন্যে ঘরভাড়া পেয়ে যায়। সেই বাড়িতে আস্তানা গেড়ে নিজেরাই রান্না করে খাওয়াদাওয়া করে। তারা কারা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জানেন না বাড়ির মালিক। খোঁজখবরও নেন না। ভাড়া পেলেই কাজ শেষ।” এবার এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের পথে জেলা প্রশাসন।
এই বিষয়ে আরও খবর
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা মালদহে তৃণমূল জমানায় অন্তত বছর দশেক ধরে বাড়ি বাড়ি এমন মেসবাড়ির ব্যবসা চললেও এতদিন পুলিশ ও প্রশাসন সেগুলির বিষয়ে খোঁজখবর নেয়নি বলে অভিযোগ। বাংলাদেশ থেকে ঢুকে ‘সন্দেহভাজন’ কেউ কলেজ পড়ুয়ার ছদ্মবেশে এই শহরের কোনও মেসে আশ্রয় নিয়েছে কি না, সেদিকেও নজর নেই প্রশাসনের বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি নতুন করে তৈরি হয়েছে একাধিক বহুতল ফ্ল্যাট-আবাসন। সেগুলিতেও রমরমিয়ে চলছে মেসবাড়ির ব্যবসা। পড়ুয়া ও চাকরিজীবী ছাড়াও আর কারা কারা থাকছেন, কেউ জানেন না।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা মালদহে তৃণমূল জমানায় অন্তত বছর দশেক ধরে বাড়ি বাড়ি এমন মেসবাড়ির ব্যবসা চললেও এতদিন পুলিশ ও প্রশাসন সেগুলির বিষয়ে খোঁজখবর নেয়নি বলে অভিযোগ।
শহরের কুট্টিটোলার এক মালিকের সাফ কথা, “এটা তো হোটেল নয়, এটা বাড়ি। সব বাড়িতেই গেস্ট থাকেন।” শুধু বাড়িই নয়, এই ব্যবসার জন্য গজিয়ে উঠেছে বহুতলও। অভিযোগ, সরকারি লাইসেন্স বা অন্য কোনও ছাড়পত্র-অনুমোদন ছাড়াই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে মেসবাড়ির ব্যবসা। একটি-দু’টি নয়, অন্তত শতাধিক বহুতল মেস ইদানিং গজিয়ে উঠেছে মালদহ শহরজুড়ে। বহুতল মেসগুলি দেখলে মনে হবে, আস্ত একটা হোটেল কিংবা লজ। হোটেলে-লজের ক্ষেত্রে আগন্তুকদের রাত্রিবাসের ক্ষেত্রে পুলিশ যেভাবে নজরদারি চালায়, মেসে কিন্তু সেই নজরদারি এখনও নেই। মেসে কারা থাকছেন, ভিনরাজ্যের মানুষ ভাড়া নিয়ে থাকছেন কি না, বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন কি না, সেই সব বিষয়ে এতদিন কোনও তথ্য সংগ্রহ করেনি পুলিশও। আর এখানেই সমস্যাটা ভাবিয়ে তুলেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্তাদের।
মেসে কারা থাকছেন, ভিনরাজ্যের মানুষ ভাড়া নিয়ে থাকছেন কি না, বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন কি না, সেই সব বিষয়ে এতদিন কোনও তথ্য সংগ্রহ করেনি পুলিশও। আর এখানেই সমস্যাটা ভাবিয়ে তুলেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্তাদের।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই টনক নড়েছে সব মহলের। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সীমান্তবর্তী জেলা মালদহের মেসগুলি বাংলাদেশিদের নিরাপদ আস্তানা নয় তো? এনিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ করা উচিত প্রশাসনের বলে তাঁরা মনে করছেন। অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একেবারেই উদাসীন পুর কর্তৃপক্ষ। মেসবাড়িগুলির নেই কোনও ট্রেড লাইসেন্স। তা-ও চলছে ব্যবসা। ইংলিশবাজার থানার পুলিশকেও আবাসিকদের পরিচয় ও নথির বিষয়টি জানানো হয় না।
পুলিশকে অন্ধকারে রেখেই বহুতলে ঘর ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। মালদহের ইংলিশবাজার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, “আমার আমলে পুরসভার লাইসেন্স রয়েছে কি না, সেগুলি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নেতা-প্রমোটাররা তা করতে দেয়নি। সেই সময় পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায়নি।” মালদহ জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে চলেছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
বাংলায় শুরু হচ্ছে জনগণনার কাজ, বিএলও’র পর ফের বড় দায়িত্বে শিক্ষকরা
-
তারাতলা বিপর্যয়ে গ্রেপ্তার ৩, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যেই ‘অ্যাকশন’
-
শূন্য কাটিয়ে এবার নজর সংখ্যালঘু ভোটে, আত্মবিশ্লেষণে আগস্টেই বিশেষ অধিবেশন সিপিএমের
-
মাওবাদীকে আইনি সহায়তা নয়! আইনজীবী না পেয়ে আদালতে নিজেই সওয়াল অর্জুন মুণ্ডার
-
পিছিয়ে গেল কলকাতা! জন্মদিনে আত্মপ্রকাশ বিশ্বের বৃহত্তম মেসি-মূর্তির



