Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Purulia

প্রখর গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ছোঁবে ৪৫ ডিগ্রি! পানীয় জলসংকট কাটাতে পুরুলিয়ায় ‘সামার ওয়াটার সাপ্লাই প্ল্যান’

তীব্র গরমের পূর্বাভাসের কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপ। পুরুলিয়ার মহকুমাশাসক উৎপলকুমার ঘোষ একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করছেন।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৮:৩৮

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৮:৩৮

options
link
প্রখর গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ছোঁবে ৪৫ ডিগ্রি! পানীয় জলসংকট কাটাতে পুরুলিয়ায় ‘সামার ওয়াটার সাপ্লাই প্ল্যান’ zoom
গ্রীষ্মে পুরুলিয়ার আড়শার চিত্র। ফাইল ছবি

লা নিনার প্রভাবে হাড় হিম শীতের মতোই পাথুরে পুরুলিয়ায় এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনই পূর্বাভাস আবহাওয়া দপ্তরের। ওই প্রখর গ্রীষ্মে রুখাশুখা এই জেলায় যাতে কোনওভাবেই পানীয় জলের হাহাকার না হয় তাই ‘সামার ওয়াটার সাপ্লাই প্ল্যান’ রূপায়িত করছে জেলা প্রশাসন। যে ব্লক এবং শহরগুলিতে পানীয় জলের সংকট সবচেয়ে বেশি সেগুলিকে চিহ্নিত করে, আলাদাভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা জুড়ে কোথায় অকেজো নলকূপ রয়েছে, কোন এলাকায় নতুন করে টিউবওয়েল বসানো প্রয়োজন, কোন এলাকায় ট্যাঙ্কারে জল সরবরাহ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই – ব্লকে ব্লকে বিডিও-দের এই তালিকা প্রস্তুত করার কথা বলেছেন জেলাশাসক। এই কাজে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং ওসি-আইসি দেরও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শহর এলাকাতেও পুরপ্রধান এবং প্রশাসকদের সেই সঙ্গে মহকুমাশাসকের তত্ত্বাবধানে এই তালিকা তৈরির কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে আলাদাভাবে এই কাজ করছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর। উভয়ের তালিকা নিয়ে কোথায় ফাঁকফোকর রয়েছে, তা দেখে খুব শীঘ্রই ওই ‘সামার ওয়াটার সাপ্লাই প্ল্যান’ রূপায়ণে বৈঠক ডাকবেন জেলাশাসক। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ওই বৈঠক হতে পারে বলে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন, “পুরুলিয়ায় এবার ভয়াবহ গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে আমরা আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছি। প্রখর দাবদাহে যাতে মানুষজনের কোনো রকম জল কষ্ট না হয় সেই বিষয়টি আমরা দেখছি। সুসংহত পরিকল্পনা করে তা রূপায়ণ করা হবে।”

Advertisement
এভাবেই গরমে জলসংকট তৈরি হয় পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে। নিজস্ব ছবি

এবার গরমের আবহে এই বিধানসভা ভোট। ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা পশ্চিমাঞ্চলের এই পাথুরে জেলার আবহাওয়া অনুযায়ী প্রায় মার্চের গোড়া থেকেই অর্থাৎ চৈত্র আসার আগেই প্রাক গ্রীষ্মের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। গরম হাওয়া বইতে থাকে। তখনই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। হু হু করে জলস্তর নামতে থাকে। সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয় অর্থাৎ পানীয় জলের হাহাকার দেখা যায় পুরুলিয়া শহর-সহ বাঘমুন্ডি ব্লকের অযোধ্যা পাহাড় এবং পাহাড়তলি এলাকায়। জলকষ্ট দেখা দেয় ঝালদা, শিল্প শহর রঘুনাথপুরে। এছাড়া জয়পুর, ঝালদা ২, আড়শা, খনি অঞ্চল নিতুড়িয়া, বান্দোয়ান ও মানবাজার দুইও রীতিমতো জল সংকট পড়ে। ফলে পুরুলিয়া পুরসভা এই শহরের সমস্যা মেটাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার কাজে হাত দিয়েছে।

এই শহরে পানীয় জলের সংকট এমন জায়গায় পৌঁছায় যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। পাড়ায় পাড়ায় অবরোধ এমন কি তার আঁচ এসে পড়ে জাতীয় সড়কে। বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় তাই প্রশাসক পরিচালিত পুরুলিয়া পুরসভার কাছে এবার মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। জেলাশাসকের নির্দেশের পরেই পুরুলিয়া পুরসভার প্রশাসক তথা পুরুলিয়া (সদর) মহকুমাশাসক উৎপলকুমার ঘোষ এই পুরসভার আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপার্ট কালীপ্রসন্ন গঙ্গোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ করছেন, যা খুব শীঘ্রই জমা পড়বে জেলাশাসকের কাছে। ওই মাস্টার প্ল্যানে রয়েছে মাটির নিচে ম্যাপিং। অর্থাৎ কোথায় কি ভাল্ভ রয়েছে তা চিহ্নিত করা। সেইসঙ্গে পাইপ লাইনের অবস্থা কেমন। কারণ ভাল্ভ এবং পাইপ লাইনের ত্রুটিতে
জলের অপচয় হয়। এছাড়া শহর জুড়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ এমন স্ট্যান্ড পোস্ট রয়েছে। যেখানে কলের মাথা নেই। ফলত জল অপচয় হয়েই যাচ্ছে। সেই পোস্ট গুলি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। এছাড়া শহর জুড়ে কোথায় কোথায় জলের উৎস রয়েছে? যেগুলি বর্তমানে বুজে গিয়েছে। সেগুলিকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা।

সেইসঙ্গে পুরুলিয়া শহরের জলের উৎস কাঁসাই নদীগর্ভে পানীয় জলের খোঁজে সার্চিং করবে পুর কর্তৃপক্ষ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩০ টি ট্যাঙ্কার। পুরুলিয়া পুরসভার প্রশাসক তথা পুরুলিয়া (সদর) মহকুমাশাসক উৎপলকুমার ঘোষ বলেন, “শহরের জল সমস্যা মেটাতে আমরা প্রাথমিকভাবে যে মাস্টার প্ল্যান করার কথা ভেবেছি তাতে সবুজ সংকেত পড়লেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে যেগুলি দ্রুত করা দরকার সেই কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি অতীতের পরিস্থিতি যাতে এবার কোনওভাবেই না হয়।”

গ্রামীণ এলাকায় জেলার সমস্ত জলস্তর এবং ওয়াটার লিফটিং স্টেশন গুলির বৈদ্যুতিক, যান্ত্রিক এবং কার্যকরী দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন থেকেই বিডিও ও মহকুমা শাসকদেরকে পানীয় জল সমস্যার বিষয়ে হাই এলার্ট করে নিয়মিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে জেলা প্রশাসন। ফলে ইতিমধ্যেই জনসঙ্কট প্রবণ ক্রিটিক্যাল জোন বা অতি সংবেদনশীল এলাকাগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরকে দেওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জেলায় থাকা সমস্ত টিউবওয়েল বা নলকূপকে সচল রাখতে হবে। সেই সঙ্গে মেরামত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

এভাবে কষ্ট করেই বহু দূর থেকে জল আনতে হয় প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দাদের। নিজস্ব ছবি

আসলে পুরুলিয়ার মাটির গঠন ও দুর্বল জলস্তরের কারণে প্রাকৃতিক উপায়ে ভূগর্ভস্থ জল রিচার্জ হওয়া ভীষণ কঠিন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে যেখানে জলের স্থায়ী উৎস নেই। সেখানে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল সরবরাহ ছাড়া কোনও রাস্তা নেই। পুরুলিয়া পুরসভার আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপার্ট কালীপ্রসন্ন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “পুরুলিয়ার মতো জেলায় বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ জলস্তর বৃদ্ধি জলের অপচয় রোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিং ব্যবস্থা, পুরানো পাম্পিং পরিকাঠামো সংস্কার ভীষণই প্রয়োজন। এছাড়া নদীপক্ষে যেসব নলকূপ গুলি রয়েছে সেগুলি সময়মত সংস্কার করতে হবে।”

জেলাশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী পাম্প মোটর এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া পাইপলাইন দ্রুত মেরামত করতে বলা হয়েছে। যান্ত্রিক কাজগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শেষ করার নির্দেশ রয়েছে। এই জেলায় বৃষ্টির জল সংরক্ষণে সেভাবে কাজ হয়নি বলেই ফি গ্রীষ্মে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে এই পাথুরে জেলা। এবার সেই কথা মাথায় রেখে বৃষ্টির জল সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.