Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২৫ জুন ২০২৬
Maoist

মাওবাদীকে আইনি সহায়তা নয়! আইনজীবী না পেয়ে আদালতে নিজেই সওয়াল অর্জুন মুণ্ডার

২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলায় তিনি ও একাধিক মাওবাদী আগ্নেয়াস্ত্র সমেত আত্মসমর্পণ করেন।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ২১:২৯

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ২১:২৯

options
link
মাওবাদীকে আইনি সহায়তা নয়! আইনজীবী না পেয়ে আদালতে নিজেই সওয়াল অর্জুন মুণ্ডার zoom
মাওবাদী নেতা অর্জুন মুণ্ডা আদালতে নিজের হয়ে সওয়াল করলেন নিজেই, বুধবার, পুরুলিয়ায়। নিজস্ব ছবি

এগিয়ে আসেননি কোনও আইনজীবী। এমন পরিস্থিতিতে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ থেকে উকিল দেওয়া হয়ে থাকে, এটাই বিধি। কিন্তু পুরুলিয়া বার অ্যাসোসিয়েশন লোক আদালতকে নিয়ে সমস্যার জেরে গত ১৬ জুন থেকে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ ও জেলা জজের এজলাস বয়কট করেছে। ফলে সেখান থেকেও মেলেনি কোনও আইনজীবী। তাই পুরুলিয়া আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেই সওয়াল করলেন ঝাড়খণ্ডের আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী কানুরাম মুণ্ডা ওরফে অর্জুন মুণ্ডা। আত্মসমর্পণের ৯ বছর পর পুরুলিয়ায় বাঘমুন্ডি থানার অধীনে ফরওয়ার্ড ব্লকের লোকাল কমিটির সম্পাদক সূর্যকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে সোনা খুনে বুধবার এক সময়ের দুর্ধর্ষ মাওবাদী নেতা অর্জুনকে পুরুলিয়া আদালতে তোলা হয়। নিজেই আত্মপক্ষের সমর্থনে সওয়াল করেন তিনি। জমা দেন হলফনামাও।

আদালত থেকে বার হওয়ার পথে কানুরাম ওরফে অর্জুন বলেন, ‘‘এখন সশস্ত্র আন্দোলন করার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। তাই যারা এখনও জঙ্গল জীবনে লড়াই করছেন তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি।” সম্প্রতি শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা মাহাতোর আত্মসমর্পণকেও স্বাগত জানান তিনি।

এদিন বিভিন্ন মামলায় সমস্ত অভিযুক্তদের এজলাস থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর বিচারক তাঁর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। জানতে চান তিনি বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারেন কিনা? সিপিআই (মাওবাদী)-র একসময়ের বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশার সীমান্ত অঞ্চলিক কমিটির সদস্য জানিয়ে দেন, বাংলা ছাড়াও একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারেন তিনি। এদিন পুরুলিয়া জেলা পুলিশ তাকে ১৪ দিন হেফাজতে চাইলে বিচারক ১০ দিন মঞ্জুর করেন। আদালত থেকে বার হওয়ার পথে কানুরাম ওরফে অর্জুন বলেন, ‘‘এখন সশস্ত্র আন্দোলন করার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। তাই যারা এখনও জঙ্গল জীবনে লড়াই করছেন তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি।” সম্প্রতি শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা মাহাতোর আত্মসমর্পণকেও স্বাগত জানান তিনি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
জঙ্গল জীবনে কানুরাম ওরফে অর্জুন মুণ্ডা। ফাইল ছবি

কানুরাম মুণ্ডা ওরফে অর্জুন মুণ্ডা। তাঁর বাড়ি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার ঘাটশিলা থানার জিয়ানকোচা গ্রামে। ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার অমিত টি ম্যাথুর কাছে তিনি ও একাধিক মাওবাদী আগ্নেয়াস্ত্র সমেত আত্মসমর্পণ করেন। তারপর অর্জুনের ঠিকানা হয় হাজারিবাগের সেফ হাউস। ঝাড়খণ্ডে মাও আত্মসমর্পণের নীতিতে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের যে সকল মামলা থাকবে, তার সবকটিতেই হাজিরা দিতে হবে – এটাই বিধি। গত ৯ বছর ধরে ঝাড়খণ্ডে একাধিক মামলায় হাজিরা দিয়ে শুধুমাত্র বাংলার এই ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা খুন ছাড়া আর সব মামলাতেই বেকসুর খালাস পেয়েছেন তিনি।

পুরুলিয়া আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালের ২৭ জুন সন্ধ্যে ৭ টা নাগাজ বাঘমুন্ডির মাদলা গ্রামের বাসিন্দা ফরওয়ার্ড ব্লকের লোকাল কমিটির সম্পাদক সূর্যকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে সোনাকে অযোধ্যা মোড়ে খুন করেছিল মাওবাদীরা। সেই ঘটনাতেই অভিযুক্ত এই কানুরাম ওরফে অর্জুন মুণ্ডা। গত সোমবার তাঁকে ঘাটশিলা থেকে পুরুলিয়া জেলা সংশোধনাগারে নিয়ে আসা হয়। পুরুলিয়া বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অরুণাভ সিং মহাপাত্র জানান, ‘‘লোক আদালত নিয়ে একটি সমস্যায় পুরুলিয়া বার অ্যাসোসিয়েশন জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ ও জেলা জজের এজলাস বয়কট করেছে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.