Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Mamata Banerjee

ইন্দাসে খুন শেখ মাফিক, ‘কাগজপত্র নিয়ে এসো’, ‘আরশোলা’ সমর্থক ছেলেকে ফোন মমতার

ককরোচ জনতা পার্টির এক কর্মীর বাবাকে 'পিটিয়ে খুনে'র ঘটনায় বাড়ল রাজনৈতিক চাপানউতোর। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা ওই পরিবারের বাড়িতে উপস্থিত হন তৃণমূল কংগ্রেসের কালীঘাট পন্থীদের প্রতিনিধিরা।

অসিত রজক
অসিত রজক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০০:১১

link
অসিত রজক
অসিত রজক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০০:১১

options
link
ইন্দাসে খুন শেখ মাফিক, ‘কাগজপত্র নিয়ে এসো’, ‘আরশোলা’ সমর্থক ছেলেকে ফোন মমতার zoom
'আরশোলা' সমর্থক ছেলেকে ফোন মমতার।
Advertisement

ককরোচ জনতা পার্টির এক কর্মীর বাবাকে ‘পিটিয়ে খুনে’র ঘটনায় বাড়ল রাজনৈতিক চাপানউতোর। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা ওই পরিবারের বাড়িতে উপস্থিত হন তৃণমূল কংগ্রেসের কালীঘাট পন্থীদের প্রতিনিধিরা। ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার বার্তা দিলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নেত্রী, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগপত্র, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট-সহ যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে কালীঘাটে তাঁর কাছে ওই পরিবারকে দ্রুত যেতে বলেছেন মমতা। রাজ্যের বিজেপি সরকারের উপরেও এদিন মোবাইল বার্তায় উষ্মাপ্রকাশ করেছেন নেত্রী।

এদিন দুপুরে কালীঘাট তৃণমূলের বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক সুখেন বিদ-সহ দলের কয়েকজন নেতা করিশুণ্ডায় আবদুল হাফিজের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়। পরে সুখেন বিদের ফোন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয় হাফিজের পরিবারের। “এটা আমার কর্তব্য। পাশে থাকার।” এমনই বার্তা দিয়েছেন মমতা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সমস্ত কাগজ, সার্টিফিকেটের কপি, পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট তুলে নিয়ে আমার কাছে চলে এস। কাল অথবা পরশু নিয়ে এসো। তিন-চার দিনের মধ্যে চলে এসো।’’ শুধু তাই নয়, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা করার দায়িত্বও দিয়েছেন মমতা। প্রায় দু’মিনিট ওই পরিবারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছেন কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন, সেই বিষয়ে ফোনেই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আবদুল হাফিজ। সেই প্রেক্ষিতে মমতা বলেন, “না রে বাবু, এটা আমার কর্তব্য।” বিজেপি সরকারের প্রতিও ক্ষোভ উগরে মমতা বলেন, “এরা যা ইচ্ছে করছে, যাকে-তাকে মেরে দিচ্ছে। জঘন্যতম একটা রাজত্ব চলছে।” 

Mamata Banerjee spoke over the phone with a 'Cockroach Janata Party' worker
ককরোচ জনতা পার্টির দিল্লির নেতৃত্ব আশুতোষ রাঙ্কা ও সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষও এদিন পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। নিজস্ব চিত্র

 ঘটনা ঠিক কী ঘটেছিল? জানা যাচ্ছে, ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবদুল হাফিজ গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ২০ জুলাই রাজীব চকে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। এমনকী পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। গত ২৭ জুলাই হাফিজ বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরতেই বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। বলা হয়, ‘‘৯ অগস্ট তোকে মারব।’’ গুরুত্ব দেননি হাফিজ। বৃহস্পতিবার করিশুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অব্যবস্থা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার পর হাফিজ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। স্কুলের বেহাল দশার ভিডিও তুলে রেখেছিলেন।

অভিযোগ, সেদিন রাতেই বিজেপির লোকজন তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। হাফিজকে মারধর করা হয়। এমনকী ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, ছবিও ডিলিট করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা শেখ মহম্মদ মাফিককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা বলেছিল, ‘‘তোকে যখন মারতে পারছি না, তোর বাবাকেই মারব।’’ ১৪ আগস্ট কার্যত গৃহবন্দি ছিলেন তাঁরা। এরপর রাতে বছর ৫১-এর মাফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে পুলিশি সহযোগিতায় প্রথমে ইন্দাস হাসপাতাল ও পরদিন সকালে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি মারা যান। অভিযোগ, এই মৃত্যুর নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে। 

ককরোচ জনতা পার্টির দিল্লির নেতৃত্ব আশুতোষ রাঙ্কাও এদিন বাঁকুড়ায় যান। ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। প্রসঙ্গত, ওই ঘটনায় ৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.