বিধানসভা ভোটে বিজেপির বিপুল জয়ের কারিগর বিজেপির নেতা-কর্মী বা সাধুরা নন। কৃতিত্ব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়, বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, হুমায়ুন কবিরদের! মঙ্গলবার কালনায় বিজেপি কার্যালয়ে এসে এমনই মন্তব্য করলেন কার্তিক মহারাজ। তিনি বলেন, “রাজ্যজুড়ে গীতাপাঠ কর্মসূচি হিন্দু চেতনার ভিত তৈরি করেছিল। কিন্তু হুমায়ুন কবীর, ফিরহাদ হাকিমদের লাগাতার সাম্প্রদায়িক মন্তব্য বিজেপির ভোটব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করে তুলেছে।” তিনি আরও বলেন, “মমতা ব্যানার্জি যেদিন বললেন, আমি আছি বলে আপনারা আছেন, না হলে ১ সেকেন্ড লাগবে না, সেদিন কলকাতার বাবুদের টনক নড়ল। বুঝতে পারলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে শুধু আগুনই জ্বলবে না, খুনোখুনি, হানাহানিই হবে না, রাজ্যটা গ্রেটার বাংলাদেশে ঢুকে যাবে।”
বিজেপির জয়ের কারিগর হিসেবে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের কৃতিত্বের কথা বলতে গিয়ে কার্তিক মহারাজ বলেন, “ওই যে উনি হুঙ্কার দিয়েছিলেন, ৪ তারিখের পর দেখব। এই অহঙ্কার, দম্ভের প্রতিবাদ হিসেবে ব্যালটবাক্সকে বেছে নেন বাংলার মানুষ।” বিজেপির অতি বড় নেতাও এবার ১৬৫ টার বেশি আসন কল্পনা করেননি বলে জানান কার্তিক মহারাজ। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের লেখা নিয়ে মহারাজ বলেন, “প্রণববাবুই লিখেছিলেন, নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী না হলে দেশটা শেষ হয়ে যেত।”
আরও পড়ুন:
ডিলিমিটেশনের ফলে রাজ্যে প্রায় ৬০টি বিধানসভা বেড়ে ৩৫০-এ দাঁড়াবে বলে মনে করেন কার্তিক মহারাজ। এর ফলে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন আরও বাড়বে। এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া চালু করার জন্য তিনি সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। সেইসঙ্গে ‘পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার পটভূমি রচনা’র জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন কার্তিক মহারাজ। তিনি বলেন, “আমাদের ভাষা ও খাদ্যাভ্যাস অন্য রাজ্যের তুলনায় আলাদা। এই জিগির তুলে উনি বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবাংলার সংযুক্তির পরিবেশ তৈরি করছিলেন।”
উল্লেখ্য, মন্দিরময় শহর কালনায় এবার তৈরি হতে চলেছে ১৩১ ফুটের শিবলিঙ্গ। এদিন সেই জমি পরিদর্শন করেন কার্তিক মহারাজ। উপস্থিত ছিলেন কালনার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার, মূল উদ্যোক্তা জমির মালিক তথা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী সুব্রত পাল। কোন দিকে শিবলিঙ্গের মুখ থাকবে, সেই বিষয়ে কার্তিক মহারাজ পরামর্শ দেন সুব্রত বাবুকে। এ প্রসঙ্গে ওই ব্যবসায়ী তথা সমাজসেবী বলেন, “আমাদের আগেই ঘোষণা ছিল আমরা এখানে শিবলিঙ্গ তৈরি করব। আগে সরকারের আমলে তা তৈরি করতে পারিনি, তবে এ সরকারের আমলে আমরা তৈরি করতে পারব বলে আশাবাদী।” পাশাপাশি সুব্রতবাবু জানান, একটি টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুকুরে ভেসেই কাটছিল জীবন! অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে মুম্বইয়ে চিকিৎসা পাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সেই ইকবাল
-
এবার রাজ্য ও জাতীয় টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করবে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর! বড়সড় ইঙ্গিত মন্ত্রীর
-
জলে ভেসেই ইউএসজি, রক্ত পরীক্ষা! দুর্গম দ্বীপ থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসবে ফ্লোটিং অ্যাম্বুল্যান্স
-
শুধু ব্রাজিল নয়, বিশ্বকাপ মাতানো কেপ ভার্দের বিরুদ্ধেও খেলবে ভারত! মেগা পরিকল্পনা ফেডারেশনের
-
বাতিল নিয়োগ! ‘চাইলে বিয়ে ভাঙতে পারো’, চাকরি হারানোর আশঙ্কায় স্ত্রীকে বললেন ঝাড়খণ্ডের যুবক