Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ১৪ জুন ২০২৬
Purulia

গরিবের রেশন কার্ড বন্ধক রেখে চাল-গম লুট মহাজনদের! কোটশিলায় কেলেঙ্কারি

রাজ্যে পালাবদল হতেই পুরুলিয়ার এই বিরাট রেশন দুর্নীতি এল প্রকাশ্যে। রেশন কার্ডগুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুন ১৩, ২০২৬, ১৪:২৫

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুন ১৩, ২০২৬, ১৪:২৫

options
link
গরিবের রেশন কার্ড বন্ধক রেখে চাল-গম লুট মহাজনদের! কোটশিলায় কেলেঙ্কারি zoom
পুরুলিয়ার কোটশিলার গ্রামে রেশন কার্ড বন্ধক। পদক্ষেপ ঝালদা থানার পুলিশের। নিজস্ব ছবি

অভাবের তাড়নায় বন্ধক রেশন কার্ডও! ঋণ আর সুদের টাকা না দিতে পেরে কেউ সাত বছর, আবার কেউ পাঁচ বছর ধরে মহাজনের কাছে রেশন কার্ড বন্ধক রাখতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগ, আর এই দরিদ্র মানুষজনের অভাবের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুরুলিয়ার ঝালদা দু’নম্বর ব্লকের কোটশিলার উকমা গ্রামে দিনের পর দিন গণবণ্টনের চাল, গম, চিনি হাতিয়ে নিয়েছে ওই মহাজনরা। রাজ্যের পালাবদলের পর অন্যান্য দুর্নীতির মতো কোটশিলার এহেন রেশন কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আর তারপরেই ঝালদা থানার পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে। শুক্রবার গ্রামে গিয়ে রেশন গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেইসঙ্গে যে সকল প্রান্তিক মানুষের রেশন কার্ড বন্ধক ছিল মহাজনের কাছে। সেই কার্ডগুলি উদ্ধার করেছে ঝালদা থানার পুলিশ।

এতগুলি রেশন কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিজস্ব ছবি

কোটশিলার এই রেশন কেলেঙ্কারি ঘিরে গণবণ্টন নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। সরকারি নথি হিসাবে পরিচিত রেশন কার্ড যা হস্তান্তরযোগ্য নয়। সেখানে বছরের পর বছর ধরে তা মহাজনের কাছে বন্ধক থাকল। আর তার বিনিময়ে অন্যের রেশন কার্ড দেখিয়ে গণবণ্টনের পণ্য তোলা হল। অথচ তৃণমূলের জমানায় তা কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেল? এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার রেশন কার্ড বন্ধক রেখেছিলেন ওই গ্রামের তফসিলি জাতিভুক্ত কালিন্দী পরিবারের কয়েকজন। যাদের ঘরে কার্যত নুন আনতে পান্তা ফুরনোর মতো অবস্থা। কেউ মহাজনদের কাছে ৬ হাজার টাকা ধার নিয়েছেন। আবার কেউ ৭ হাজার টাকা। কিন্তু না পারছেন সেই মূল টাকা শোধ করতে, না পারছেন চড়া সুদ দিতে। এদিকে সুদ নিতে মহাজনদের লাগাতার চোখরাঙানি। ফলে মহাজনকেই রেশন কার্ড বন্ধক রাখতে বাধ্য হন ওই প্রান্তিক পরিবারগুলি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
পুলিশকে দেখেই নালিশ স্থানীয়দের। নিজস্ব ছবি

যাঁদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তাঁরা ওই এলাকারই বাসিন্দা। সুষেন মাহাতো, মুরুলি মাহাতো চন্ডী মাহাতো সহ আরও কয়েকজন রয়েছেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা ভাদু কালিন্দি, সন্ধ্যা কালিন্দী বলেন, ‘‘আমরা কোনওভাবে হস্তশিল্পের কাজ করে সংসার চালাই। কিন্তু আর্থিক অনটন থেকেই যায়। আমরা কেউ স্বামীর চিকিৎসার জন্য মহাজনের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছি। আবার কেউ দু’বেলা খাবার খেতে না পারায় কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন।” ঝালদা দু’নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীপককুমার সিংহ বলেন, ‘‘এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত হোক। যারা এই ঘটনায় দোষী। তাদেরকে কড়া শাস্তি দিতে হবে।” যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই সুষেন মাহাতো বলেন, “আমরা ওই রেশন কার্ড নিইনি। ওরাই আমাদের কাছে কার্ড দিয়ে গিয়েছে।” আর সেই কার্ডের বিনিময়ে তাহলে রেশন পণ্য কেন তোলা হচ্ছে? এই বিষয়টি খুলে বলতে পারেননি ওই মহাজনরা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.