Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
ED

কালো টাকার খেল! শান্তিনিকেতনে শান্তনু-জয় কামদারের কোটি টাকার আবাসনে নজর ইডির

প্রান্তিক সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা একটি বহুতল আবাসন প্রকল্প এখন তদন্তকারীদের নজরে। প্রায় দু’বিঘারও বেশি জমির উপর নির্মিত আবাসনে একাধিক টু-বিএইচকে ও থ্রি-বিএইচকে ফ্ল্যাট রয়েছে।

দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: মে ২৯, ২০২৬, ২১:২৪

link
দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: মে ২৯, ২০২৬, ২১:২৪

options
link
কালো টাকার খেল! শান্তিনিকেতনে শান্তনু-জয় কামদারের কোটি টাকার আবাসনে নজর ইডির zoom
শান্তিনিকেতনে প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা ও প্রোমোটার জয় কামদারের বিপুল বেআইনি সম্পত্তিতে নজর ইডির
Advertisement

শান্তিনিকেতনে জমি, আবাসন আর বেনামী সাম্রাজ্য! নতুন করে ইডির নজরে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং প্রোমোটার জয় এস কামদারের কোটি কোটি টাকা বেনামী সম্পত্তি। কম দামে জমি কিনে বানিয়েছিলেন কোটি টাকার আবাসন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের তদন্তে উঠে আসছে এসব নতুন তথ্য। বহুতল আবাসনের আড়ালে কি কালো টাকার খেল? তদন্তে নামলেন ইডি আধিকারিকরা। আর তাতেই বোলপুর, শান্তিনিকেতন জুড়ে কোটি কোটি টাকার জমি ও আবাসন দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসছে।

ইডির দাবি, শান্তিনিকেতন ও বোলপুর জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার জমি এবং কম মূল্যের বেসরকারি জমি হাতিয়ে বিলাসবহুল আবাসন গড়ে তোলার অভিযোগ সামনে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, একটি সংস্থাকে ব্যবহার করেই বিপুল বিনিয়োগ এবং নির্মাণকাজ চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক জমির দলিল, নথি এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু জমি কেনাবেচাই নয়, কোথাও সরকারি জমি দখল, কোথাও আবার কমদামে জমি কিনে বহুগুণ বেশি দামে ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

Advertisement

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই যে, এত বিপুল অর্থ এল কোথা থেকে? সরকারি জমি দখলের অভিযোগ কতটা সত্য? এবং প্রশাসনের কোন স্তরে থেকে এই নির্মাণে মদত দেওয়া হয়েছে? শুধু তাই নয়, শান্তিনিকেতনকে কেন্দ্র করে গত এক দশকে যে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার বিস্তার হয়েছে, তার আড়ালে কালো টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনাও নজরে রেখেছে।

কম দামে জমি কিনে কোটি কোটি টাকায় আবাসন বিক্রি, কাঠগড়ায় প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহাষ নিজস্ব ছবি

শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক বছরে যেভাবে একের পর এক বিলাসবহুল আবাসন গড়ে উঠেছে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শান্তিনিকেতনের তালতোড় মৌজার প্রান্তিক সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা একটি বহুতল আবাসন প্রকল্প এখন তদন্তকারীদের নজরে। প্রায় দু’বিঘারও বেশি জমির উপর নির্মিত ওই প্রকল্পে রয়েছে একাধিক টু-বিএইচকে ও থ্রি-বিএইচকে ফ্ল্যাট। স্থানীয়দের দাবি, একসময় কম দামে কেনা ওই জমির উপর ২০২২ সালের দিকে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি হয়ে যায় ঝাঁ-চকচকে আবাসন। বর্তমানে যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। কয়েক বছর আগেও এলাকাটি ছিল প্রায় ফাঁকা। হঠাৎ করেই বড় বড় গাড়ির আনাগোনা, বহিরাগতদের যাতায়াত এবং দ্রুত নির্মাণকাজ নজরে আসে। পরে লোকমুখে শোনা যায়, প্রভাবশালী মহলের মদতেই এই প্রকল্প গড়ে উঠেছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই যে, এত বিপুল অর্থ এল কোথা থেকে? সরকারি জমি দখলের অভিযোগ কতটা সত্য? এবং প্রশাসনের কোন স্তরে থেকে এই নির্মাণে মদত দেওয়া হয়েছে? শুধু তাই নয়, শান্তিনিকেতনকে কেন্দ্র করে গত এক দশকে যে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার বিস্তার হয়েছে, তার আড়ালে কালো টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনাও নজরে রেখেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সমীর দাস, রিন্টু হাজরাদের কথায়, “খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যায়। আবাসনের চাকচিক্য দেখলে যে কেউ অবাক হবেন। মাঝেমধ্যে কলকাতা থেকে অনেক মানুষকে আসতে দেখা যেত। এখন আর তেমন কাউকে দেখা যায় না। লোকমুখে শুনছি, এটি জয় কামদার ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সম্পত্তি।”

এ প্রসঙ্গে বোলপুরের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুজিত কুমার পাঁজা বলেন, “আমি নতুন দায়িত্বে এসেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তকারী সংস্থা তথ্য চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।” সরকারি জমি দখল, বেনামী সম্পত্তি এবং বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে ইডির তদন্ত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.