Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৮ আগস্ট ২০২৬
Purulia

নিলাম করেও সম্পত্তি ফেরায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে ঠাঁই পেল পঞ্চকোট সাম্রাজ্যের ইতিহাস

পুরুলিয়ার প্রাচীন এই রাজপরিবারের অজানা ইতিহাসকে দুটি মলাটে বন্দি করেছেন পরিবারেরই সদস্য সূর্য নারায়ণ সিং দেও।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৮:৪৮

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৮:৪৮

options
link
নিলাম করেও সম্পত্তি ফেরায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে ঠাঁই পেল পঞ্চকোট সাম্রাজ্যের ইতিহাস zoom
ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে পুরুলিয়ার পঞ্চকোট সাম্রাজ্যের ইতিহাসের ঠাঁই, নিজস্ব ছবি
Advertisement

অধ্যায় ১: তখন ভরতশেখর সিং দেও-র রাজত্বকাল। সময়টা ১৭৯৮-র জুলাই। পঞ্চকোটের ৮৬ টি মৌজা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিলামে বিক্রি করে দেয়। কিন্তু খাজনা দিতে অস্বীকার করেন প্রজারা। বলপ্রয়োগ করেও আদায় হয়নি খাজনা। শেষ পর্যন্ত ওই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাধ্য হয় সেই নিলাম বাতিল করতে। ওই সম্পত্তি রাজার হাতে তুলে দিতে। যা ব্রিটিশ ভারতের শাসনের ইতিহাসে এই ঘটনা বিরলতম হয়ে রয়েছে।

অধ্যায় ২: রাজপরিবারের দ্বন্দ্বে রাজ্যপাট লাভের আশায় কাঁটা হয়ে গিয়েছিলেন রাজা নীলমণি সিং দেও। তাই মাত্র ৯ বছর বয়সে প্রাসাদের বাগান বাড়িতে বালক নীলমণি যখন খেলা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় গুলি। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তারপর নীলমণির মা ওড়িশার কেওনঝড়ের রাজকন্যা বিদূষী মহিলা গোপনে কাশিপুরে প্রাসাদ নির্মাণ করেন। চলে যান ছেলেকে নিয়ে।

Advertisement

অধ্যায় ৩: পঞ্চকোট রাজপ্রাসাদে ‘জ্যোতি বিলাসে’ হীরা, পান্না, রুবি, নীলা, পোখরাজ, সোনা-সহ কোটি কোটি টাকার বহু মূল্যবান প্রাচীন সম্পদ শুধু নয়। রাজাদের শিকার করা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, লেপার্ড, হাতির পা, বাইসনের মুখ, বারোশিঙা-সহ আরও কত কী রয়েছে!

রাজাদের শিকার করা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, লেপার্ড, হাতির পা, বাইসনের মুখ, বারোশিঙা,নিজস্ব ছবি

১৮৯২ বছরের ৭ রাজধানীর পঞ্চকোট সাম্রাজ্যের এমন নানান অকথিত কাহিনি। যা ১৩ টি অধ্যায়ে ১০৩ পৃষ্ঠায় দু’মলাটে বন্দি করে লন্ডনের ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে জায়গা করে নিলো পঞ্চকোট রাজপরিবারের বই। পোশাকি নাম ‘ফুটপ্রিন্টস অফ পঞ্চকোট পার্মার ডাইনেস্টি অফ বেঙ্গল’। যা ওই সাম্রাজ্যের কার্যত এক জীবন্ত দলিল। যে অজানা ইতিহাসকে দুটি মলাটে কফি টেবিল বই-র রূপ দেন ওই রাজপরিবারের সদস্য, কেন্দ্রীয় রেশম বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র বিজ্ঞানী সূর্য নারায়ণ সিং দেও। প্রায় ২০ বছর ধরে তথ্য সংগ্রহ করে ৬ বছর ধরে রচনায় মুদ্রিত হয়েছে পঞ্চকোট রাজপরিবারের কোন সন্তানের লেখা এমন গ্রন্থ।

১৩ অধ্যায়ের ‘ফুটপ্রিন্টস অফ পঞ্চকোট পার্মার ডাইনেস্টি অফ বেঙ্গল’-এ ধরা পঞ্চকোট রাজপরিবারের ইতিহাস, নিজস্ব ছবি

লেখকের কথায়, “রাজপুরোহিত রাখাল চক্রবর্তী ও লোকসংস্কৃতি গবেষক দিলীপ গোস্বামী পঞ্চকোটের ইতিহাসকে তুলে ধরেন। কিন্তু দীর্ঘ সাম্রাজ্যের যে আনটোল্ড স্টোরি তা বোধহয় সেভাবে প্রকাশ পায়নি। তাছাড়া ইতিহাস নিয়ে নানা অপপ্রচার হয়েছে। একটি সিনেমায় দেখানো হয়, এই সাম্রাজ্যে রাজারা নরবলি দিতেন। ফলে বইয়ের মাধ্যমে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল। আমাদের রাজপরিবার বরাবর ব্রিটিশ বিরোধী। ওই পুস্তকের ছত্রে ছত্রে তা বর্ণিত হয়েছে। তবুও বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম লাইব্রেরিতে কর্তৃপক্ষ আমাদের বইকে জায়গা দিয়েছে। এ আমাদের কাছে কম গর্বের নয়।”

প্রথমে ভিন মহাদেশীয় বইয়ের জন্য পৃথক ই-মেল জোগাড় করে কিছু তথ্য দিয়ে আবেদন। তারপর তাদের কথা মতো সারসংক্ষেপ পাঠানো। এরপর নির্দিষ্ট কমিটি সব কিছু বিবেচনা করে দেয় অনুমোদন। দেড় মাসের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সম্প্রতি ওই গ্রন্থাগারে জায়গা মেলে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.