ঝাড়গ্রামে রামলাল নামে তাকে একডাকে সকলে চেনে। কেবল ঝাড়গ্রামই নয়, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়খণ্ডেও তার অবলীলায় চষে বেড়ানো। সেখানেও একইভাবে লোকসমাজে অতিকায় রামলালের কদর রয়েছে। রামলালকে দেখলে মানুষজন খাবারও দেয় নির্ধিদ্বায়। গরমকালে জলের পাত্র ঘরের দাওয়ায়, রাস্তার ধারে রাখা থাকে রামলালের জন্য। স্থানীয়দের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, রামলাল কি প্রেমে পড়েছে? একটি হাতির সঙ্গে তাকে মাঝেমধ্যে দেখাও যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বছর ৫২-এর ‘যুবক’কে নিয়ে এখন জোর চর্চা জঙ্গলমহলে।
জঙ্গলমহল এলাকায় একাকি ঘুরে বেড়ানো দাঁতাল রামলাল নামেই পরিচিত। নিতান্ত শান্ত স্বভাবের এই হাতিটিকে নিয়ে লালমাটি এলাকায় চর্চারও শেষ নেই। পিছনের বাঁ পা টেনে হেঁটে বেড়ায় গ্রামের রাস্তায়। একসময় ওই হাতিকে দেখে মানুষজন দূরে ভয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। এখন সেই ভয়, দূরত্ব কেটে গিয়েছে। রামলালের কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতেও কোনও ভয় নেই গ্রামের ছেলে-ছোকরাদের! মহিলারা হাতে ধরে খাবারও দেয়।
আরও পড়ুন:

সেই রামলাল এই মুহূর্তে ফের চর্চায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, রামলালকে বেশ কিছুদিন ধরে একটি হাতির সঙ্গে দেখা গিয়েছে। তাহলে কি রামলাল প্রেমে পড়েছে? প্রেমের ভেলায় ভেসে জঙ্গলের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে রামলাল! দিন কয়েক আগে রামলালকে একটি পুরুষ হাতির সঙ্গে লড়াই করতে দেখা গিয়েছিল। নিতান্ত শান্ত স্বভাবের রামলাল ধুলো উড়িয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল ওই হাতিকে দেখে। রামলালের প্রতিরোধে একসময় রণে ভঙ্গ দিয়ে অপর হাতিটি পালিয়েও যায়। এলাকা দখল নাকি সঙ্গীনি দখলের লড়াইয়ে রামলাল নেমেছিল? সেই প্রশ্ন তখন থেকেই ঘুরপাক খেয়েছে। ওই ঘটনার কিছু দিন পরেই কানাঘুষো শোনা যায় রামলালকে একটি হাতির সঙ্গে দেখা গিয়েছে। তাহলে কি সঙ্গী পেল রামলাল?

তবে বনদপ্তরের তরফে এখনই এই বিষয়ে কিছু বলতে চাওনা হয়নি। এই সময় পশুপাখিরা মিলিত হয়। হাতিরাও মস্তিতে থাকে। তাই রামলালের ক্ষেত্রে তেমন হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়, এমনই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্মী। বনদপ্তর সূত্রেই জানা গিয়েছে, রামলালের বয়স বছর ৫২। হাতিদের আয়ুকাল প্রায় ৯০ বছর। ফলে ‘যুবক’ রামলাল কোনও তরুণী হাতির প্রেমে পড়তেই পারে। বহু আগে কিশোর বয়সে দলছুট হয়ে পড়েছিল সে। এরপর যাযাবরদের মতো ঘুরে বেড়িয়েছে এই ঐরাবত। অনেক সময় মানুষের ছোড়া হুলা, পাথরে ঘায়েল হতে হয়েছে তাকে। দু’চোখ বেয়ে জলের ধারা নামতেও দেখেছেন সাধারণ গ্রামবাসী, বনকর্মীরা। তবে এখন আর রামলালকে কেউ বিরক্ত করেন না। মানুষরাই ভালোবেসে তার নাম রেখেছে রামলাল। মানুষের সঙ্গেও কোনও অচেনা সুতোয় বাঁধা পড়েছে সে।
তবে বন্য হাতিদের দলেও রামলাল মিশে যেতে পারে। সেই ঘটনাও অতীতে দেখা গিয়েছে। সাধারণত মানুষের কাছাকাছি গেলে কোনও হাতি আর দলে ফিরতে পারে না। বলা ভালো, মিশতে দেওয়া হয় না। কিন্তু রামলালকে তেমন কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়নি বলেই খবর। অতি সম্প্রতি জনপ্রিয় রামলালের নামে ঝাড়গ্রাম-কলকাতা একটি বাস চালু হয়েছে। ‘নিঃসঙ্গ’ রামলাল এবার সংসার পাতুক, এমনই চাইছেন সাধারণ মানুষজন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রান্নাঘর ভর্তি আরশোলা, ক্রিকেটারদের আমিষ চা! মুম্বই ক্রিকেট সংস্থার রেস্তরাঁ দেখে অগ্নিশর্মা তুখারাম
-
পাহাড় ডাকছে? পিঠে ব্যাগ তোলার আগে শরীরের এই পরীক্ষাগুলি করিয়ে নিন
-
ব্রহ্মপুত্রে ‘টাইমবোমা’ চিনের, নেপাল বিপর্যয়ে বিপদঘণ্টা ভারতের! কী করবে দিল্লি?
-
ইপিএফও এবং আয়করের তথ্যও বেসরকারি হাতে! ‘উদ্বেগজনক, ব্যবস্থা নিন’, কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট
-
সন্দেশখালিতে পুকুর থেকে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি, গ্রেপ্তার শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা