Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Garia

সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা, নিঃসন্তান দম্পতির পালিত পুত্রকে অপমান আত্মীয়দের! ‘আত্মঘাতী’ যুবক

পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার।।

দেবব্রত মণ্ডল
দেবব্রত মণ্ডল

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১৪:৪২

link
দেবব্রত মণ্ডল
দেবব্রত মণ্ডল

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১৪:৪২

options
link
সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা, নিঃসন্তান দম্পতির পালিত পুত্রকে অপমান আত্মীয়দের! ‘আত্মঘাতী’ যুবক zoom
মৃত পলাশ বাগচী।
Advertisement

দীর্ঘ ১৪ বছর নিঃসন্তান এক দম্পতিকে দেখাশোনার ভার ছিল তাঁর উপর। আর সেই সুবাদে ওই দম্পতি নিজের সমস্ত সম্পত্তির উইল করে দেন দূর সম্পর্কের এক যুবককে। চিকিৎসা করা থেকে পারোলৌকিক ক্রিয়াকর্ম সবই করেছিলেন তিনি। অবশেষে শরিকি গণ্ডগোলে এবং স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীদের সহযোগিতায় সেই যুবককে বাড়ি থেকে উৎখাত করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর এরপরেই বাড়িতে গিয়ে আত্মঘাতী হন ওই যুবক। মৃত যুবকের নাম পলাশ বাগচী। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা নরেন্দ্রপুর থানার গড়িয়া (Garia) এলাকায়। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

প্রিয়া বাগচী বলেন, ওই বাড়িতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। বাড়ির উইল থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক মিটার সমস্ত কিছুই আমাদের নামে। অথচ কোনরকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া আমাদেরকে জোর করে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, সবিতা ঘোষ এবং অমল ঘোষের কোন সন্তান ছিলেন না। পলাশ বাগচীর নদিয়া থেকে কলকাতায় এসে তাদের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন। বৃদ্ধ দম্পতিকে সমস্ত দেখাশুনা কাজকর্ম তিনিই করতেন। আর তাই বৃদ্ধ দম্পতি উইল করে দিয়ে যান পলাশ বাগচীকে। অভিযোগ, স্বামী স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অমল ঘোষের পরিবারের অন্য সদস্যরা ওই বাড়ি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দিতে থাকে পলাশকে। কিন্তু উইল অনুযায়ী পরিবার নিয়ে তিনি অমল ঘোষের বাড়িতেই থাকছিলেন। এর মধ্যেই লাগাতার চলছিল হুমকি। অভিযোগ, এরমধ্যেই পলাশের উপর চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। মারধর করে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় পলাশকে। এরপরেই ঘটনায় নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়। বিপুল ঘোষ, শ্যামল ঘোষ, সজল ঘোষ সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানাতে অভিযোগ জানানো হয়। শুধু তাই নয়, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে সাদা কাগজে তাঁদের দিয়ে সই করিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও।

বর্তমানে আতঙ্কে এলাকা ছাড়া হয়েছে ওই পরিবারটি। শুধু তাই নয় যার নামে উইল করে দেওয়া হয়েছিল সেই পলাশ বাগচী ইতিমধ্যেই নদীয়ার বাড়িতে গিয়ে আত্মঘাতী ও হয়েছেন। অন্য পরিবারের বৃদ্ধ বাবা মা-সহ অন্যদেরকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। স্বভাবতই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। নিহত পলাশ বাগচীর দিদি প্রিয়া বাগচী বলেন, ওই বাড়িতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। বাড়ির উইল থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক মিটার সমস্ত কিছুই আমাদের নামে। অথচ কোনরকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া আমাদেরকে জোর করে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। প্রিয়াদেবীর কথায়, দুষ্কৃতীরা আমাদের পরিবারের সবাইকে আক্রমণ করেছে। ভাই এর উপর এত চাপ দেওয়া হয়েছে যে ভাই বাড়িতে গিয়ে আত্মঘাতীও হয়েছে। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরও পুলিশ কোন রকম ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি আমাদেরকে ওই বাড়িতে থাকতেও পর্যন্ত দিচ্ছে না। আমরা চাই প্রশাসন সঠিকভাবে তদন্ত করুন। শুধু তাই নয় যখন একটি বিষয় নিয়ে বারুইপুর কোর্টে মামলা চলছে সেই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগে কি করে বাড়ি থেকে উৎপাত করতে পারেন। তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত বিকাশ ঘোষকে বারবার ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.