জুলাই মাস পড়লেও এখনও বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে আসেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা! যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। এবার সেই সমস্ত উপভোক্তাদের টার্গেট করে সক্রিয় হচ্ছে সাইবার প্রতারণা চক্র! টাকা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ফোন করে আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য-সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বীরভূমের বিভিন্ন প্রান্তে এমন একাধিক অভিযোগ সামনে আসতেই ছড়িয়েছে উদ্বেগ। শুধু তাই নয়, এহেন ঘটনায় রীতিমত সতর্ক পুলিশ-প্রশাসনও।
পুলিশ কর্তাদের কথায়, সরকারি প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে ফোন করে কেউ ব্যক্তিগত বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য চাইলে কোনওভাবেই তা দেওয়া উচিত নয়। সন্দেহজনক ফোন বা বার্তা পেলেই নিকটবর্তী থানায় অথবা সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সিউড়ির বাসিন্দা নমিতা চক্রবর্তী জানান, তাঁর মোবাইলে ফোন করে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাঠানোর কথা বলে আধার ও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা কোনও তথ্য দেননি। সঙ্গে সঙ্গে ওই ফোন কেটে দেন বলে জানান নমিতাদেবী। শুধু তিনিই নন, একই অভিযোগ ওই এলাকারই বাসিন্দা রাইকমল চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর অভিযোগ, যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়। সন্দেহ মনে হতে রাইকমলবাবুও ফোন কেটে দেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কেউই প্রতারকদের ফাঁদে পা দেননি। এরপরেই এই বিষয়ে তাঁরা পুলিশে মৌখিক অভিযোগ জানান বলে খবর।
অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন করেছেন, এমন বহু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি। কারণ নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে ইতিমধ্যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। কিন্তু এহেন পরিস্থিতিতেই কাজে লাগাচ্ছে সাইবার প্রতারকরা! প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এক বা একাধিক সাইবার প্রতারণা চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ওটিপি বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারণার ছক কষা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরপরেই বিষয়টি নিয়ে নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজও করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত। পুলিশ কর্তাদের কথায়, সরকারি প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে ফোন করে কেউ ব্যক্তিগত বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য চাইলে কোনওভাবেই তা দেওয়া উচিত নয়। সন্দেহজনক ফোন বা বার্তা পেলেই নিকটবর্তী থানায় অথবা সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে এবং গুজব বা ভুয়ো ফোনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আবেদনও জানাচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
সর্বশেষ খবর
-
বিদ্রোহীরা মমতার ‘সোনার টুকরো ভাই’, কংগ্রেসে থাকলে সারাজীবন চা-জল দিতে হত! কটাক্ষ শমীকের
-
মিনাখাঁয় টিউশনের পথে কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ! কলকাতায় প্রৌঢ়র লালসার শিকার নাবালিকা
-
‘আসল’ তৃণমূলের দাবি কীসের ভিত্তিতে? জবাব দিতে ঋতব্রতকে সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশন
-
এক চামচ তেলেই বয়সের ঘড়ি ছুটবে পিছনদিকে! জেনে নিন কীভাবে করা যায় ‘অয়েল পুলিং’
-
কঙ্কালের আঙুলে ব্রাহ্মী লিপি! থাইল্যান্ডে খোঁজ মিলল ২০০০ বছর প্রাচীন ভারতীয় আংটির