Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১১ জুন ২০২৬
Birbhum

সোনাঝুরিতে বসন্ত উৎসবে ‘না’ বনবিভাগের, ডিএমকে চিঠি পরিবেশবিদ সুভাষের

শান্তিনিকেতনে দোলে সোনাঝুরিতে রঙ খেলায় নিষেধাজ্ঞার দাবি নিয়ে জেলাশাসককে চিঠি পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের। সোনাঝুরি জঙ্গলে দোল উৎসবের দিন আবির ও রঙ খেলাকে কেন্দ্র করে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সেই মর্মে জেলাশাসক ধবল জৈনকে ইমেল মারফত চিঠি দেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত।

Advertisement
দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ২০:৫৩

link
দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ২০:৫৩

options
link
সোনাঝুরিতে বসন্ত উৎসবে ‘না’ বনবিভাগের, ডিএমকে চিঠি পরিবেশবিদ সুভাষের zoom
প্রতীকী ছবি।

শান্তিনিকেতনে সোনাঝুরির জঙ্গলে এবারও বসন্ত উৎসব নয়,  রং খেলাও যাবে না! এবারও সেই কড়া নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে বনদপ্তর। বসন্ত উৎসব ঘিরে সোনাঝুরির হাটে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। এইসময় অরণ্যের ক্ষতি , পরিবেশের ক্ষতি হয় বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সেজন্যই এবার আরও কড়াকড়ি করতে চলেছে বনদপ্তর। বীরভূমের (Birbhum) জেলাশাসক ধবল জৈন ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, জঙ্গলের ক্ষতি কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে জেলাশাসককে চিঠিও দিয়েছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। বোলপুরের রেঞ্জ অফিসার জ্যোতিষ বর্মণ জানিয়েছেন, এবারও জঙ্গলের মধ্যে দোল খেলা, যাবে না। গত বছরেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। এবারও সেই পথেই হাঁটছে বনদপ্তর। উপরমহলের চিঠি পেলেই নির্দেশিকা জারি হবে।

শান্তিনিকেতনে দোলে সোনাঝুরিতে রঙ খেলায় নিষেধাজ্ঞার দাবি নিয়ে জেলাশাসককে চিঠি পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের। সোনাঝুরি জঙ্গলে দোল উৎসবের দিন আবির ও রঙ খেলাকে কেন্দ্র করে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সেই মর্মে জেলাশাসক ধবল জৈনকে ইমেল মারফত চিঠি দেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। তাঁর অভিযোগ, সোনাঝুরির খোয়াই হাট বেআইনিভাবে বনভূমির উপর রয়েছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতীয় পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে দোলের দিন যাতে অরণ্যভূমিতে কোনও অরণ্য-বহির্ভূত কার্যকলাপ না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিশ্বভারতী বেশ কয়েক বছর ধরে বসন্ত উৎসব বন্ধ করে দিলেও দোলের দিন বিপুল জনসমাগমে জঙ্গলের ক্ষতি হয়। চারচাকা ও বাইক জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশ করে, গাছপালা নষ্ট হয়, প্লাস্টিক বর্জ্যে দূষিত হয় পরিবেশ। সুভাষ দত্ত বলেন, “সোনাঝুরির হাট সংক্রান্ত মামলা চলছে। এই অবস্থায় দোলের দিন রঙের উৎসব হতে দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই আশা করছি। অন্যথায় বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”

সুভাষ দত্ত বলেন, “সোনাঝুরির হাট সংক্রান্ত মামলা চলছে। এই অবস্থায় দোলের দিন রঙের উৎসব হতে দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই আশা করছি। অন্যথায় বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে বিশ্বভারতীর বসন্তোৎসবে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছিল। তার জেরে পরিবেশ ও আশ্রম প্রাঙ্গণের সুরক্ষার স্বার্থে পরবর্তী বছর থেকে দোলের দিন বসন্তোৎসব বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্বভারতী। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর ঐতিহ্য রক্ষায় এখন আর দোলের দিন ক্যাম্পাসে বসন্তোৎসব হয় না। চলতি বছর ৬ মার্চ ঘরোয়া পরিবেশে বসন্তোৎসব পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তবে ২০২০ সাল থেকে দোলের দিন সোনাঝুরি জঙ্গলে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে বলেই অভিযোগ। চিঠিতে সুভাষ দত্ত উল্লেখ করেছেন, সোনাঝুরির খোয়াই হাট নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা চলমান। এই আবহে দোলের দিন অরণ্যভূমিতে অরণ্য-বহির্ভূত কার্যকলাপ বন্ধ রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, “সোনাঝুরির জঙ্গল বনদপ্তরের অধীন। তবে অবশ্যই জঙ্গলের ক্ষতি কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’’

খোয়াই হাট কমিটির সম্পাদক তন্ময় মিত্র বলেন, “দোলের দিন আমরা কোনও উৎসবের আয়োজন করছি না। মানুষ যাতে জঙ্গলে প্রবেশ না করেন, সে বিষয়ে বন দপ্তর ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।” বনদপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশিকা এলে পালন করা হবে। তবে কোনওভাবেই সোনাঝুরি জঙ্গলে বসন্ত উৎসব এবং রং খেলার অনুমতি দেওয়া হবে না।

জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, “সোনাঝুরির জঙ্গল বনদপ্তরের অধীন। তবে অবশ্যই জঙ্গলের ক্ষতি কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’’ মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘‘বোলপুর শহরে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই প্রতিবছরের মত এ বছর বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। যেহেতু বিশ্বভারতী বসন্ত উৎসব বন্ধ করেছে তাই বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অর্থনীতি জড়িয়ে। পর্যটকদের কোনও অসুবিধা হবে না। বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাঁরা দোল উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।’’

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.