৬ মাস থেকে অনাবৃষ্টিতে বিপর্যয়ের পথে উত্তরের চা শিল্প! শুরু হয়েছে বছরের সেরা ‘ফার্স্ট ফ্লাশে’-র চা পাতা তোলার সময়। কিন্তু সেপ্টেম্বর থেকে মাঝারি মাপের বৃষ্টি না-মেলায় একদিকে যেমন গুণমানে উন্নত পাতা মিলছে না। অন্যদিকে তেমন পোকার আক্রমণে পাতা নষ্ট হতে বসেছে। কৃত্রিম সেচের ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চললেও জ্বালানি খরচের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারছেন না অনেকেই।
চা চাষিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃষ্টির অভাবে সমতলের তরাই-ডুয়ার্সের চা বাগানে উদ্বেগজনক ভাবে রেড স্পাইডার, লুপার, লাল পোকা, গ্রিন ফ্লাই অর্থাৎ সবুজ মাছি, চা মশার উপদ্রব বেড়েছে। পোকা দমনে খরচ বেড়েই চলেছে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “এবার মার্চে কিছু পাতা উঠলেও পরের মাসগুলো সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।” তিনি জানান, গত বছর ফার্স্ট এবং সেকেন্ড ফ্ল্যাশ মার খেয়েছে। অতিবর্ষণের জন্য বর্ষাকালীন উৎপাদন উদ্বেগজনক ভাবে কমেছে। এবার বৃষ্টি নেই। উত্তরের সমতলে দশ হাজারের বেশি ছোট চা বাগান রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের পক্ষে একটানা কৃত্রিম সেচের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাগান শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
চা চাষিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্চে যে পাতা উঠবে সেটাই ‘ফার্স্ট ফ্লাস’। অর্থাৎ মরশুমের প্রথম চা পাতা। দু’মাস পাতা তোলার কাজ চলবে। কিন্তু এবার কী হবে, কেউ বুঝতে পারছেন না।
চা চাষিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্চে যে পাতা উঠবে সেটাই ‘ফার্স্ট ফ্লাস’। অর্থাৎ মরশুমের প্রথম চা পাতা। দু’মাস পাতা তোলার কাজ চলবে। কিন্তু এবার কী হবে, কেউ বুঝতে পারছেন না। কারণ, গাছের বৃদ্ধির জন্য যে রোদ ও বৃষ্টি প্রয়োজন সেটা মিলছে না। অথচ, ফার্স্ট ফ্লাসের দিকে তাকিয়ে চাষিদের প্রত্যেকে। কারণ, এই সময় যে পাতা হয়, সেটার কেজি প্রতি দাম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা থাকে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফোরাম অব স্মল টি গ্রোয়ার্স’-এর চেয়ারম্যান রজত কার্জি বলেন, “প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে উত্তরের পাহাড়-সমতলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়ে থাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে ঠান্ডার প্রকোপ কমতে থাকে। এবার অক্টোবর থেকে পাহাড়-সমতলে বৃষ্টি নেই। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাস থেকে চা গাছ ছেঁটে দেওয়ার কাজ চলে। এরপর বৃষ্টির ছোঁয়া মিলতে দুটি পাতার কুশি চলে আসে। এবার গাছ ছেঁটে ফেলা হলেও বৃষ্টি না মেলায় দুটি পাতার কুশি এসেছে দেরিতে।”
চা গবেষকরা জানান, ভালো মানের চা পাতা উৎপাদনের জন্য যেমন ঝলমলে রোদের লম্বা দিন প্রয়োজন। একইভাবে প্রয়োজন বৃষ্টি। সেটা শুধু মরশুমের শুরুর পাতা উৎপাদনের জন্য নয়। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সেচের জলের জোগানের জন্য বিশেষভাবে দরকার। এবার সেটারই অভাব দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে সেচের জলেও টান পড়বে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মোদির প্রস্তাবনায় সায় দিয়েছিল ১৭৭ দেশ, কেন ২১ জুনই পালিত হয় আন্তর্জাতিক যোগদিবস?
-
রচনা আউট, স্বস্তিকা ইন! ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর নতুন সঞ্চালক নিয়ে সরগরম টেলিপাড়া
-
‘মরতে মরতে বেঁচে ফিরেছি’, কেদার-বদ্রীর পৌরাণিক পুরোহিত পথ জিতে নজির হিমালয়ান উইজার্ডের
-
যোগীরাজ্যে নজরে মাদ্রাসা, এবার বাধ্যতামূলক আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক হাজিরা!
-
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত! এবার ‘বোরখা’ মন্তব্যে মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের