Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৮ আগস্ট ২০২৬
Jhargram

নিটে দুর্দান্ত ফল, ক্যানসারে আক্রান্ত বাবার মুখে হাসি, পুলিশকে ধন্যবাদ ঝাড়গ্রামের সাগরের

বাবার ক্যানসারের চিকিৎসা, সংসারে আর্থিক অনটন। এই টানাপোড়েনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নটাও ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল বিনপুরের ছাত্র সাগর গোস্বামীর।

সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১৮:৪৪

link
সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১৮:৪৪

options
link
নিটে দুর্দান্ত ফল, ক্যানসারে আক্রান্ত বাবার মুখে হাসি, পুলিশকে ধন্যবাদ ঝাড়গ্রামের সাগরের zoom
নিটে দুর্দান্ত ফল ঝাড়গ্রামের সাগরের।
Advertisement

বাবার ক্যানসারের চিকিৎসা, সংসারে আর্থিক অনটন। এই টানাপোড়েনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নটাও ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল বিনপুরের ছাত্র সাগর গোস্বামীর। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল পুলিশ-প্রশাসন। ওই পড়ুয়ার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিনপুর থানার পুলিশ কর্মীরাও এগিয়ে আসেন। অদম্য জেদ আর অধ্যবসায়ে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নিট পরীক্ষায় নজরকাড়া ফল সাগরের।

নিটে সর্বভারতীয় ২২,৬৬২ র‌্যাঙ্ক সাগরের। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে আরও এক ধাপ এগোল সে। ছোট থেকেই মেধাবী সাগর। মাধ্যমিকে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৯৬ শতাংশ। কিন্তু পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি তাঁর উচ্চশিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেসবের মধ্যেই পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ক্যানসারে আক্রান্ত হন বাবা। বাবার চিকিৎসার খরচ এবং সংসারের নানা প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে সাগরের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল। সাগরের মেধা এবং বাড়ির পরিস্থিতির কথা জানতে পারে বিনপুর থানার পুলিশ। ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলার তত্ত্বাবধানে থানার তরফে সাগরকে আর্থিক সাহায্য করা হয়। পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেওয়া হয় মানসিক উৎসাহও। সেই সহযোগিতাতেই প্রতিকূলতার মধ্যে নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যায় সাগর। নিট পরীক্ষাতেও বসে সে।

Advertisement

নিটের ফল প্রকাশের পরে দেখা যায়, সর্বভারতীয় স্তরে ২২,৬৬২ র‌্যাঙ্ক করেছে সে। সাফল্যের খবর পৌঁছতেই খুশি সাগর ও তার পরিবারের সদস্যরা। প্রবল সংকটে পড়াশোনা থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেসময় পুলিশের সাহায্য তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাও জানিয়েছেন সাগর। সাগরের কথায়, “আমি পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ।তারা না থাকলে এটা সম্ভব হত না। তাদের সাহায্যেই আমি দুর্গাপুরে নিটে কোচিং নিতে পেরেছি। ছোট থেকে স্বপ্ন দেখেছি ডাক্তার হব।”

জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, “সাগর অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে সে যে ভাবে পড়াশোনা চালিয়ে নিটে সাফল্য পেয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তার স্বপ্নপূরণের পথে সামান্য হলেও পাশে থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতে সে চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াক—এটাই আমাদের শুভেচ্ছা।” সাগরের পরিবারের সদস্যরাও এই সাফল্যে খুশি। ছেলে আরও এগিয়ে যাক তার লক্ষ্যে। তেমনই চাইছেন সাগরের বাবা।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.