Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
Tamluk Medical College

প্রতি বছর বর্ষায় জলে ভাসে তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ

সরকারি হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার ভিত কতটা মজবুত? কোথায় দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবা? পরিকাঠামোর অভাবই কি বাড়াচ্ছে রোগীদের দুর্ভোগ? চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা সচেষ্ট, তবু গাফিলতি কোথায়? ‘সংবাদ প্রতিদিন’ অন্তর্তদন্ত। আজ শেষ পর্ব।

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২৬, ১৬:৪৪

link
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২৬, ১৬:৪৪

options
link
প্রতি বছর বর্ষায় জলে ভাসে তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ zoom
সবং, পিংলার পাশাপাশি হাওড়ার বাগনান থেকেও বহু রোগী আসেন এই প্রতিষ্ঠানে।
Advertisement

তমলুক: একসময়ের তমলুক জেলা হাসপাতালই  (Tamluk Medical College) এখন তাম্রলিপ্ত মেডিক‌্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল। চিকিৎসার ক্ষেত্রে সুনাম থাকার কারণে পার্শ্ববর্তী জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং, পিংলা থেকে যেমন রোগী এখানে আসেন, পাশাপাশি হাওড়া জেলার বাগনান এলাকার বহু রোগীও আসেন এই প্রতিষ্ঠানে। এখানকার চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে সেভাবে আঙুল না উঠলেও হাসপাতালের পারিপার্শ্বিক বহু পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ যথেষ্টই। নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়ায় হাসপাতাল চত্বরে দুর্গন্ধ ছড়ানো ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে সরব রোগী থেকে স্বজন সকলেই। নিকাশি ঠিকঠাক না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে হাসপাতালের গেট জল থইথই। ফলে রোগী ও রোগীর পরিবারের সদস্যদের হাঁটুজল পেরিয়ে হাসপাতালে ঢুকতে হয়। ফি বছর বর্ষায় এ যেন নিত্যদিনের ছবি হয়ে ওঠে। আর হয়রানি নিয়ে অভিযোগ যেন অন্তহীন। পাঁশকুড়ার বাসিন্দা রেবতী মেইকাপের কথায়, ‘‘আমরা গরিব। আমাদের কাছে এটাই বড় হাসপাতাল । কিন্তু চিকিৎসা করাতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ডাক্তারবাবু দেখেন অনেক পরে।’’

সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত বৈঠকে হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের মধ্যে অবাধে ঘোরে বিড়াল, কুকুর। ফলে পরিচ্ছন্নতায় গাফিলতি যে রয়েছে, সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই। জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটিতে রোগীদের চাপ বিপুল। তাই এক্স-রে বিভাগে আরও একটি এক্স-রে মেশিন-সহ গোটা বিভাগের সংস্কারের দাবি তোলা হয়েছে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেই। চিকিৎসকদের দাবি, এক্স-রে বিভাগটি একটি ভগ্নপ্রায় ঘরে চলে। যে কোনও মুহূর্তে বিপদ ঘটতে পারে। আবার একরত্তি এক্স-রে মেশিনটি বিগড়ালেই বিপত্তি। রোগীদের দীর্ঘক্ষণ লাইন দিয়ে দাঁড়াতে হয় এবং সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। পানীয় জল নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। পরিস্রুত পানীয় জলের সংকট রয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। রোগী বা রোগীর পরিবারকে পয়সা দিয়ে জল কিনে খেতে হয়। পাশাপাশি জেলা হাসপাতালের মর্গে দীর্ঘদিন ধরে দেহ পড়ে থাকায় দূষণ ছড়ায় বলেও অভিযোগ।

Advertisement

রাধামণির বাসিন্দা জয়দেব ভৌমিক বলেন, ‘‘বর্ষার সময় ওয়ার্ডের দুয়ার পর্যন্ত প্রায় জল জমে থাকে। ফলে জলযন্ত্রণা যেমন সহ্য করতে হয় রোগী ও রোগীর পরিবারকে, আবার জীবাণু ছড়ানোর প্রবল সম্ভবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’’ আশার কথা হল, নিকাশি, সাফাই নিয়ে অভিযোগের আবহেই গত সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, জেলা সভাধিপতি এবং জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে হাসপাতালের পরিষেবা সংক্রান্ত নানা সমস্যা ও তার দ্রুত সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা সভাধিপতি বলেন, তৃণমূল সরকার তাম্রলিপ্ত মেডিক‌্যাল কলেজে তৈরি করলেও পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়নি। এক আধিকারিকের বক্তব‌্য, আগের সরকার অবহেলা করেছে। নতুন সরকার গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.