Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
Katwa

ভোটের ড্রাই ডে-তে মিলবে না মদ, সুরাপ্রেমীরা মজে তালরসে!

বন্ধ মদের দোকান। সুরাপ্রেমীদের এখন অস্থায়ী ঠিকানা তালবাগান। নির্বাচনকে ঘিরে জারি হয়েছে 'ড্রাই ডে'। প্রশাসনিক নির্দেশে বন্ধ সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান। আর তার জেরেই সুরাপ্রেমীদের ভিড় এখন অস্থায়ীভাবে ঘুরে গিয়েছে তালতলার দিকে। তালরস বা তাড়িতেই আপাতত তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন বহু মানুষ।

ধীমান রায়
ধীমান রায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১১:৪৪

link
ধীমান রায়
ধীমান রায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১১:৪৪

options
link
ভোটের ড্রাই ডে-তে মিলবে না মদ, সুরাপ্রেমীরা মজে তালরসে! zoom
চলছে তালরস বিক্রি। নিজস্ব চিত্র
Advertisement

বন্ধ মদের দোকান। সুরাপ্রেমীদের এখন অস্থায়ী ঠিকানা তালবাগান। নির্বাচনকে ঘিরে জারি হয়েছে ‘ড্রাই ডে’। প্রশাসনিক নির্দেশে বন্ধ সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান। আর তার জেরেই সুরাপ্রেমীদের ভিড় এখন অস্থায়ীভাবে ঘুরে গিয়েছে তালতলার দিকে। তালরস বা তাড়িতেই আপাতত তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন বহু মানুষ। প্রতিদিনের অভ্যাসে সন্ধ্যার পর মদ্যপান যাঁদের জীবনের অংশ, তাঁদের কাছে এই সময়টা বেশ কঠিন! আবগারি দপ্তরের নির্দেশে মদের দোকান, পানশালা ইত্যাদি বন্ধ থাকায় বিকল্প খুঁজতে গিয়ে অনেকেই ভরসা রাখছেন তালরসের উপর।

গুসকরা শহর ও সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েকদিনে তালরসের চাহিদা বেড়েছে। গুসকরার রায়পাড়া, মাঠপাড়া, লাইপাড় এলাকায় প্রচুর তালগাছ রয়েছে। গ্রীষ্মকালে এইসব এলাকায় নিয়মিত তালরস সংগ্রহ করা হয়। গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে তালরস বা তাড়ি পান করার প্রবণতাও এই সময় বাড়ে। তালরস সংগ্রহের প্রক্রিয়াও বেশ নির্দিষ্ট। সূর্যাস্তের পর গাছে হাঁড়ি বেঁধে রাখা হয়, আর ভোরের আগেই তা নামানো হয়। তখন রস থাকে মিষ্টি স্বাদের। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ফারমেন্টেশন, আর সেই গেঁজে যাওয়া রসই তাড়ি হিসেবে পরিচিত, যা পান করলে নেশা হয়। এখন সেই তাড়িরই রমরমা বাজার। গুসকরার লাইনপাড়া, মাঠপাড়া ও রায়পাড়ায় মিলিয়ে প্রায় ১৪-১৫ জন বিক্রেতা সকাল সাড়ে আটটা থেকেই চলছে তাড়ি বিক্রি।

Advertisement

হাঁড়ি নিয়ে বসে পড়ছেন। এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রতি লিটার তালরস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০ টাকায়। তালরস বিক্রেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, “প্রতিবছরই এই সময় তালরস বিক্রি করি। তবে গত কয়েকদিনে চাহিদা অনেক বেড়েছে। ভোটের জন্য মদের দোকান বন্ধ থাকায় অনেকেই তালরসের দিকে ঝুঁকছেন।” শুধু গুসকরা নয়, আশপাশের আউশগ্রাম, ভাতার, মঙ্গলকোট এমনকী মানকর থেকেও মানুষ তালরস কিনতে আসছেন। কেউ সেখানেই বসে পান করছেন, কেউ আবার বোতল বা বড় জারে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। তালবাগানগুলিতে সকালবেলায় ছোট ছোট আসরও বসছে।

এক সুরাপ্রেমীর কথায়, “মদের দোকান বন্ধ থাকায় তালরসই ভরসা। খরচও কম, আবার প্রাকৃতিক জিনিস বলে অনেকেই এটাকে নিরাপদ মনে করছেন।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারমেন্টেড তালরসও এক ধরনের মদ্যপ পদার্থ। তাই অতিরিক্ত সেবন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। তবু পরিস্থিতির চাপে আপাতত তালরসই হয়ে উঠেছে বহু সুরা প্রেমীর ‘বিকল্প’ পানীয়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.