‘নির্বাসন’ পর্ব কাটিয়ে প্রায় ২০ বছর পর ‘মুক্ত’ বাংলায় পা রাখতে চলেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন লেখিকা। বদলের বাংলায় সংস্কৃতি জগতের জন্য যা সত্যিই বড় খবর। দীর্ঘসময় পর কলকাতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আবেগে ভাসছেন খোদ তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) নিজে। এরমধ্যেই লেখিকাকে দিলীপ ঘোষের বার্তা, তসলিমা নাসরিন ফিরতে চাইলে বাংলায় থাকার সুযোগ পাবেন। এই ইস্যুতে একযোগে বাম এবং তৃণমূলকেও আক্রমণ শানান মন্ত্রী।
কলকাতায় আসা নিয়ে তসলিমা বলছেন, ”১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর কলকাতায় ফিরছি। অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কলকাতা আমার কাছে শুধু শহর নয়। আমার হারিয়ে যাওয়া ঘর।”
আরও পড়ুন:
আজ, বুধবার হরিণঘাটার মোহনপুরে বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘কাঁঠাল উৎসব ২০২৬’- এ যোগ দেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেখানেই সাংবাদিক বৈঠকে তসলিমা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ”পশ্চিমবঙ্গে অনেকেই ফিরছেন। শিল্প ফিরছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিযায়ীরাও ফিরছেন। তসলিমা নাসরিন বিদেশে রয়েছেন। মানবতা যেখানে কষ্ট পায়, সেখানে ভারতবর্ষ যুগ যুগ ধরে আশ্রয় দিয়েছে। তিব্বতের মানুষ থেকে শুরু করে ইহুদি সম্প্রদায়-অনেকেই এখানে আশ্রয় পেয়েছেন। তসলিমা নাসরিনও এ দেশে ছিলেন। মৌলবাদীদের চাপে তাঁকে চলে যেতে হয়েছিল। তাঁর ইচ্ছা থাকলে তিনি এখানেও থাকতে পারেন।”
শুধু তাই নয়, দিলীপ (Dilip Ghosh) আরও দাবি করেন, ”যাঁরা সবসময় বাঙালি-বাঙালি করেন, তাঁরাই তসলিমা নাসরিনকে তাড়িয়েছিলেন।” এই ইস্যুতে বাম এবং পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে মন্ত্রী বলেন, ”কমিউনিস্ট এবং তৃণমূলের লোকেরাই তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিল। আমরা শুধু বাঙালির কথা বলি না, ভারতমাতার কথা বলি। এই দেশ যুগ যুগ ধরে নিপীড়িত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেবে।” তসলিমা নাসরিনকে দেশছাড়া করার ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ আধিকারিক ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অনেকেরই ভূমিকা ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে সেকুলারিজমের নামে যে গুন্ডামি চলত, তা আর চলবে না। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কাজ করার সংস্কৃতির এখন প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে।”
এদিকে কলকাতায় আসা নিয়ে তসলিমা বলছেন, ”১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর কলকাতায় ফিরছি। অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কলকাতা আমার কাছে শুধু শহর নয়। আমার হারিয়ে যাওয়া ঘর। ২০০৭ সালের নভেম্বরে শহর ছাড়তে হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা আমার মনের ভিতর ছিলই। এতবছর পর কলকাতার মাটিতে পা রাখব। আনন্দ, আবেগ, বেদনা- একসঙ্গে সব অনুভূতি কাজ করছে। মনে হচ্ছে নির্বাসনের পর ঘরে ফিরছি।” জানা গিয়েছে, সেক্যুলার মিশন, এইচআরবিএফএফের উদ্যোগে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এই অনুষ্ঠান হতে চলেছে। যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও থাকতে পারেন বলে জল্পনা।
সর্বশেষ খবর
-
‘জনতার দরবারে’ লেকটাউনের নিহত ছাত্রের বাবা, ‘দেখব, ভাবব নয়, কাজ করব’, আশ্বাস শুভেন্দুর
-
মহিলার পরকীয়ার কথা স্বামীকে জানিয়ে দেওয়ায় খুন! প্রেমিককে ফাঁসির সাজা চুঁচুড়া আদালতের
-
ধ্বংসই লক্ষ্য! ইরানকে ‘শিক্ষা দিতে’ মধ্যপ্রাচ্যে ২০ মার্কিন ‘জলদানব’, পালটা জবাব তেহরানের
-
যেন সিনেমার স্ক্রিপ্ট, হাসপাতালে মেলে নিখোঁজের দেহ! শেষকৃত্যের আগে ঘরে ফিরলেন সেই ‘মৃত’ যুবক
-
লক্ষ্য স্থির হয়ে গিয়েছিল ১৩ মাস আগেই, স্পেন ফাইনালে উঠতেই ভাইরাল পেদ্রির পুরনো পোস্ট