Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
Hooghly

চারবার কন্যাসন্তান, সদ্যোজাতকে খুন করে দেহ খালে ভাসায় বাবা-মা, হুগলির দম্পতিকে যাবজ্জীবন আদালতের

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলির মানুসমারি গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা এবং নারায়ণ টুডু। ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর মানুসমারি গ্রামের বাড়িতেই চতুর্থবার কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় পূর্ণিমা। ওই দিনই স্বামী নারায়ণ টুডুর সঙ্গে মিলে সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে খুন করে দম্পতি।

সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: মে ২১, ২০২৬, ২১:১২

link
সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: মে ২১, ২০২৬, ২১:১২

options
link
চারবার কন্যাসন্তান, সদ্যোজাতকে খুন করে দেহ খালে ভাসায় বাবা-মা, হুগলির দম্পতিকে যাবজ্জীবন আদালতের zoom
প্রতীকী ছবি।
Advertisement

পরপর তিনবার কন্যাসন্তান। চতুর্থবার ফের কন্যাসন্তান। তারপরই সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুন বাবা-মার। প্রমাণ লোপাটে দেহ লাইলনের ব্যাগে ভরে পাশের খালে ফেলে দেয় দম্পতি। কন্যাসন্তানকে খুনের দায়ে মা-বাবা দু’জনকেই বৃহস্পতিবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল চুঁচুড়ার তৃতীয় দায়রা আদালতের বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায়।

হুগলির মানুসমারি গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা ও নারায়ণ টুডু। ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর মানুসমারি গ্রামের বাড়িতেই চতুর্থবার কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় পূর্ণিমা। ওই দিনই স্বামী নারায়ণ টুডুর সঙ্গে মিলে সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে খুন করে দম্পতি। বাড়ির কাছেই মানুসমারি খালে দেহ ফেলে দেয়। পরে খাল থেকে সেই শিশুকন্যার দেহ উদ্ধার হয়। প্রতিবেশী গণেশ মুর্মু পূর্ণিমা ও নারায়ণের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।

Advertisement

অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামেন পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ অফিসার বুদ্ধদেব সরকার। ময়নাতদন্তে উঠে আসে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয় দম্পতি। তবে সদ্যোজাতের দেহ উদ্ধারের পরেও পূর্ণিমা ও নারায়ণ তাদের সন্তান বলে মানতে চায়নি। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় তাদের ধরিয়ে দেয়। মামলায় ১৭ জনের সাক্ষী নেওয়া হয়। তথ্য প্রমাণ, সাক্ষ্য ও ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে বুধবার অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেন চুঁচুড়ার তৃতীয় দায়রা আদালতের বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায়। আজ, বৃহস্পতিবার বিচারক ৩০২ ধারায় পূর্ণিমা ও নারায়ণের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেন। সঙ্গে দশ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

হুগলি জেলা মুখ্য সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর পাণ্ডুয়া থানায় এফআইআর দায়ের হয়। তারপর তদন্ত শুরু হয়। সদ্যোজাতের মৃতদেহ উদ্ধার হলেও বাবা-মা তাদের সন্তান বলে মানতে চায়নি। আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় সদ্যজাতের সঙ্গে তার বাবা মায়ের ডিএনএ মিলে যায়। বুধবার দুই জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। আজ যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা হল।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.