Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
Purulia

কয়লা পাচারে ‘জিরো টলারেন্স’, বাজেয়াপ্ত ১.৯ টন, গ্রেপ্তার ৩

চালক কোনও বৈধ ট্রানজিট পারমিট, চালান, ইনভয়েস, রয়্যালটি রসিদ বা অন্য কোন নথি দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে চালক এবং ওই পণ্যের মালিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১৬:১৩

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১৬:১৩

options
link
কয়লা পাচারে ‘জিরো টলারেন্স’, বাজেয়াপ্ত ১.৯ টন, গ্রেপ্তার ৩ zoom
পুরুলিয়ার নাকা পয়েন্টে গিয়ে বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহনের নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার। নিজস্ব চিত্র

ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা পুরুলিয়ার (Purulia) সীমানায় এবার সিসিটিভি ব্যবস্থাপনায় রিয়েল টাইমে নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। এই জেলার ৩৮০ কিমি ঝাড়খণ্ড সীমানা শুধু সুরক্ষিত রাখাই নয়। পুরুলিয়ার যে চারটি ঝাড়খণ্ড সীমানা দিয়ে বেআইনি কয়লা বাংলায় প্রবেশ করতো তা রুখে দেওয়ার কারণেই রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ। অর্থাৎ ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকায় যে নাকা পয়েন্ট রয়েছে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরার ছবি জেলা পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট কন্ট্রোলরুমে ভেসে উঠছে। এই ছবি দেখেই তদারকি করছে পুলিশ। বেআইনি কয়লা পরিবহণের বিরুদ্ধে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের একেবারে জিরো টলারেন্স।

সে কারণেই মঙ্গলবার বিকেলে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ জেলা পুলিশের অন্যান্য ও সাধারণ প্রশাসনের আধিকারিকদেরকে নিয়ে ওই চারটি ঝাড়খণ্ড সীমানা পরিদর্শন করেন। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ওই সীমানার নাকা পয়েন্টগুলিতে পুলিশের পাশাপাশি জিএসটি এবং এমভিআই অর্থাৎ মোটর ভেহিকেল বিভাগের আধিকারিকদের সমন্বয়ে ২৪ ঘন্টা নজরদারি চলবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পুরুলিয়া (Purulia) জেলা পুলিশের এই পদক্ষেপের মধ্যেই বেআইনি কয়লা পাচার রুখতে বড় সাফল্য পেল। সোম ও মঙ্গলবার মোট ১.৯ টন বেআইনি কয়লা ও তিনটি গাড়ি বাজেয়াপ্তর পাশাপাশি তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই সাফল্যের পর পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তরফে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বেআইনি কয়লার বিরুদ্ধে একেবারেই জিরো টলারেন্স। এই জেলায় মোট ২৫০টি জায়গা থেকে সিসিটিভি ব্যবস্থাপনায় রিয়েল টাইম নজরদারি চলছে। বর্তমানে এই জেলায় নাকা পয়েন্ট রয়েছে ১২টি। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার কয়েকটি জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ যায় নবান্নতেও।

মঙ্গলবার পুলিশ সুপার ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী চারটি নাকা পয়েন্ট জয়পুর থানার কাঁঠালটাড়, পুরুলিয়া মফস্বল থানার ঘোঙা, পাড়া থানার দড়দা ও ঝালদার তুলিন নাকা পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুপার রীতিমতো সেই নাকা পয়েন্টে বসে সমস্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখেন। ওই সীমানা এলাকাগুলি দিয়ে যে সমস্ত লরি যাতায়াত করছে তার নথিপত্র নিজে যাচাই করেন। এই নাকা পয়েন্টগুলিতে সমস্ত ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের ই-ওয়ে বিল, ট্যাক্স ইনভয়েস, খনি সংক্রান্ত নথি ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা হচ্ছে। এই নজরদারির মূল লক্ষ্যই হল শুধুমাত্র বৈধভাবে পরিবাহিত কয়লাই যাতে বাংলায় প্রবেশ করতে পারে এবং কোনোভাবেই অবৈধ কয়লা পুরুলিয়ায় প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। এই চারটি নাকা পয়েন্ট দিয়ে মূলত ঝাড়খণ্ডের চন্দনকেয়ারি অর্থাৎ বোকারো ও ধানবাদ দিক থেকে বেআইনি কয়লা পুরুলিয়ায় ঢোকে। পুরুলিয়া জেলা পুলিশের কাছে খবর ছিল, কয়েকদিন ধরে এমন ঘটনা ঘটছে। তারপরেই নজরদারিতে সাফল্য মিলল।

গড় জয়পুর রেলস্টেশন থেকে আরপিএফ ও পুরুলিয়া জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে সিমেন্টের বস্তায় ভরা কয়লা একটি ট্রলি ভ্যানে তোলার সময় হাতেনাতে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ বস্তায় প্রায় ১ হাজার কেজি কাঁচা ও গুঁড়ো কয়লা সহ ট্রলি ভ্যান বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। অন্যদিকে এই জয়পুরের বারাগ্রাম এলাকায় ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে একটি সরু রাস্তা দিয়ে মোটরবাইকে কয়লা পাচারের সময় পুলিশ ধাওয়া করলে চালক মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। ওই মোটরসাইকেল থেকে ১২টি বস্তায় প্রায় ৬০০ কেজি কয়লা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। সেই সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশের টহলদারির সময় একটি রেজিস্ট্রিবিহীন বৈদ্যুতিক পণ্যবাহী গাড়ি আটক করে ওই গাড়িতে ১০ টি বস্তায় প্রায় ৩০০ কেজি পোড়া কয়লা ছিল। চালক কোনও বৈধ ট্রানজিট পারমিট, চালান, ইনভয়েস, রয়্যালটি রসিদ বা অন্য কোন নথি দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে চালক এবং ওই পণ্যের মালিককে গ্রেপ্তার করে পুরুলিয়া আদালতে তোলা হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.