বাম জমানায় একের পর এক কারখানার তালা। কাজ খুঁইয়ে শ্রমিকের আত্মহত্যা। বেকারের সংখ্যা লাফিয়ে বৃদ্ধি। পেটের ভাত জোগাতে ভিনরাজ্যে পাড়ি। ৩৪ বছরের শিল্পের ইতিহাসে ‘কালো অধ্যায়’ দেখেছে বাংলা। তৃণমূল আমলেও ধামা চাপাই রইল বাংলার শিল্পায়নের আশা। ‘এবার ডাবল ইঞ্জিনের জাদু দেখবে বাংলা।’ শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে গিয়ে বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, সবে তো শুরু। এবার ভোটের মতো বাংলায় শিল্পের কাউন্টিং শুরু হবে।’
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “বাংলা এখন উন্নতির পথে। প্রথমেই গুন্ডাদমন আইন এনেছি। কারখানার গেটে তালা লাগালে হাজতে থাকতে হবে। কারখানার গেট ভাঙলে, তিনগুণ আদায় করব। নো সিন্ডিকেট, নো কাটমানি, নো উসুলি। জানতে পারলেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব।”
বাম আমলে শ্রমিকের স্বার্থরক্ষার অছিলায় দিনের পর দিন ইউনিয়নগুলির গুন্ডারাজ রীতিমতো গলার ফাঁস হয়ে গিয়েছিল শ্রমিকদের কাছে। একে একে জুটমিলের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে। উত্তরোত্তর বেড়েছিল বাংলায় কর্মহারাদের সংখ্যা। এদিন শুভেন্দু বললেন, “গত ৫০ বছর ধরে রাজ্যজুড়ে ‘ইকোনমিক্যাল ডিজাস্টার’ হয়ে গিয়েছে। বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়েছেন বিনিয়োগকারী-শিল্পপতিরা।” তবে এবার বাংলায় ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে উদ্যোগী সরকার। পাশাপাশি বাম জমানায় শিল্প-ক্ষতের কথা মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “বাংলা এখন উন্নতির পথে। প্রথমেই গুন্ডাদমন আইন এনেছি। কারখানার গেটে তালা লাগালে হাজতে থাকতে হবে। কারখানার গেট ভাঙলে, তিনগুণ আদায় করব। নো সিন্ডিকেট, নো কাটমানি, নো উসুলি। জানতে পারলেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব।”
বিনিয়োগকারীদের শুভেন্দুর বার্তা, “কত বিনিয়োগ করলেন তার উপরে নয় বার্ষিক ইনটেনসিভ নয়, বরং কত রাজ্যে কত যুবক চাকরি পেল, তার উপরে নির্ধারণ হবে।”
বঙ্গে এবার বসতে লক্ষ্মী। বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “বাংলায় এবার ব্যবসা করতে আর মাথা ঘামাতে হবে না শিল্পপতি-বিনিয়োগকারীদের। সব ব্যবস্থা করবে সরকার। আগে তো উচ্চস্তর থেকে লাইসেন্স পাস হয়ে গেলেও মিউনিসিপ্যালিটি, পঞ্চায়েতগুলোকে কাটমানি দেত হত। এখন এসব চলবে না। বাংলায় আইনশৃঙ্খলা পরিবর্তন করেছি।” পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের শুভেন্দুর বার্তা, “কত বিনিয়োগ করলেন তার উপরে নয় বার্ষিক ইনটেনসিভ নয়, বরং কত রাজ্যে কত যুবক চাকরি পেল, তার উপরে নির্ধারণ হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় হিন্দিভাষী দেখলেই বলতেন-বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না। আমি বলছি, বাংলার সংস্কৃতি অটুট আছে। এবার সরকার পরিবর্তন না হলে সব বিনিয়োগ ওড়িশায় চলে যেত। বিজেপি সরকার আসতে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গেছেন। বিনিয়োগকারীরাও ফিরে আসতে শুরু করেছেন।”
নতুন সরকারের আমলে মাত্র ৯ সপ্তাহে ব্যাপক হারে লগ্নি এসেছে। পাশাপাশি অনেক গ্রুপের বিনিয়োগের প্রস্তাবও রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি,প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দুর পরামর্শ, তিনি যেন এই প্ল্যান্টের ভিতরটা এসে একবার ঘুরে দেখে যান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় হিন্দিভাষী দেখলেই বলতেন-বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না। আমি বলছি, বাংলার সংস্কৃতি অটুট আছে। এবার সরকার পরিবর্তন না হলে সব বিনিয়োগ ওড়িশায় চলে যেত। রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বেরলেই পুলিশ হাত পাতত। কীভাবে সিন্ডিকেট চালিয়েছেন এতদিন। বিজেপি সরকার আসতে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গেছেন। বিনিয়োগকারীরাও ফিরে আসতে শুরু করেছেন।” সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ইতিহাস মনে করিয়ে শুভেন্দু এদিন বলেন, শিল্পায়নের নামে ভিটেহারা হবেন না কেউ। সবটাই নির্ভর করবে আলোচনা, উভয়পক্ষের মতামত এবং নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ উপরেই।
সর্বশেষ খবর
-
‘বুদ্ধবাবুও শিল্পই চেয়েছিলেন, নারীসুরক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, বাংলার গৌরব ফেরান’, শুভেন্দুর প্রশংসায় মীরা
-
পাক সেনার কনভয়ে মারণ হামলা, মৃত অন্তত ৪৫ জওয়ান, দায় স্বীকার বালোচদের
-
বাড়িতে আনা গরুর দুধে ডিটারজেন্ট মিশে নেই তো? সহজ পরীক্ষায় বুঝে নিন
-
ছুটির দিনেও অফিসে আসতে হবে কর্মীদের! হাজিরা নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্য দপ্তরের
-
ভবানীভবনে নিখোঁজ রাইফেল শুটারের বাবা, তদন্তে ৪টি দল গঠন হাওড়া সিটি পুলিশের