কোন দিক থেকে আততায়ীরা হামলা চালিয়েছিল। কোথায় চন্দ্রনাথ রথের এসইউভি আটকানো হয়। কীভাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গুলি চালিয়ে এলাকা ছেড়ে পালায় অভিযুক্তরা। চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তভার হাতে নিয়ে ঘটনার পুনর্গঠন করেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। সঙ্গে ছিলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও। সব কিছু খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন তাঁরা।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই খুন অত্যন্ত পেশাদার। এবং বহুস্তরীয় সুপারি অপারেশন। টাকা ও নির্দেশ কয়েকটি স্তর ঘুরে শুটারদের কাছে পৌঁছেছিল। মূলচক্রীর সঙ্গে দুষ্কৃতীদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল না বলেই অনুমান। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রায় কোটি টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি গোটা ঘটনায় আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্রের যোগও খতিয়ে দেখছে সিবিআই। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার ছক এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে তদন্তকারীরা সহজে কোনও সূত্র না পান। সেই কারণেই হামলায় ব্যবহৃত গাড়ি ও বাইকের নম্বর প্লেট জাল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তদন্ত এড়াতে ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বরও ঘষে ফেলা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সূত্রের দাবি, খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল অস্ট্রিয়ায় তৈরি অত্যাধুনিক গ্লক পিস্তল। সাধারণত সেনাবাহিনী বা স্পেশাল ফোর্স ছাড়া এই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের নাগাল পাওয়া কঠিন। ফলে অস্ত্রের উৎস নিয়েও আলাদা তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই খুনের তদন্তে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় শার্প শুটার মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং রাজ সিংকে। রাজ্য পুলিশের সিট টোল প্লাজার ফাস্ট্যাগে ইউপিআই লেনদেনের সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের নাগাল পেয়েছে। ধৃতদের বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এবার ধৃতদের হেফাজতে নিতে চলেছে সিবিআই। ডিআইজি পঙ্কজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বাধীন দলে দিল্লি, ধানবাদ, পাটনা, রাঁচি ও লখনউয়ের অফিসারদের নিয়ে বিশেষ সিট গঠন করা হয়েছে। কলকাতা জোনের জয়েন্ট ডিরেক্টরের তত্ত্বাবধানে চলবে তদন্ত। প্রয়োজনে আরও আধিকারিককে এই তদন্তে যুক্ত করা হতে পারে বলে সিবিআই সূত্রে খবর।
প্রসঙ্গত, গত ৬ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাতে বাড়ি ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। সেই সময় থেকেই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল ঘাতকরা। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় পৌঁছতেই একটি রুপোলি ছোট চারচাকা গাড়ি তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে দু’টি বাইকে এসে হাজির হয় দুষ্কৃতীরা। তারপর এলোপাথাড়ি গুলি। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় গোটা অপারেশন। অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। চন্দ্রনাথ রথের শরীরে একাধিক গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। গুলিবিদ্ধ হন চালকও। সূত্রের দাবি, এই হামলায় অন্তত আটজন জড়িত ছিল। হামলার ধরন, টার্গেট বাছাই এবং পালানোর কৌশল দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, প্রায় দেড় মাস ধরেই রেকি চালানো হয়েছিল। এখন সিবিআইয়ের নজর মূলত সুপারির টাকার উৎস, অস্ত্র সরবরাহ চক্র এবং নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের চিহ্নিত করার দিকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অভয়াকাণ্ড নিয়ে জয়াপ্রদার সিনেমার চুক্তি বাতিল পরিবারের, শঙ্কুদেব বললেন, ‘তৃণমূলের থেকে টাকা খেয়েছিল?’
-
বদলের বাংলায় চালু আয়ুষ্মান ভারত, কলকাতায় রবিবারই মেগা কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা
-
এনআরএসে রহস্যমৃত্যু কর্মরত নার্সের! হাসপাতালের শৌচালয় থেকে উদ্ধার দেহ
-
দিল্লি বিস্ফোরণের নেপথ্যে আল কায়দাই! আরও জাল বিছাচ্ছে জেহাদিরা, সতর্ক করল রাষ্ট্রসংঘ
-
আর ইচ্ছামতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়! ‘ক্রিকেট বাঁচাতে’ বড় সিদ্ধান্তের পথে জয় শাহর আইসিসি