বর্ষার কয়েক মাস ফুলেফেঁপে থেকে ওঠা নদীগুলো যেন পাচারকারী ও অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা জোগায়! বিএসএফের পক্ষে নদী দ্বারা কার্যত বিচ্ছিন্ন সেই এলাকায় নজরদারি চালানো অত্যন্ত দুষ্কর হয়ে ওঠে! বিশেষভাবে দিনহাটা মহকুমার গীতালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের জারিধারলা এবং দরিবস দুটি গ্রামে এই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। ভৌগোলিকভাবে এই দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত একদিকে ধরলা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, অপরদিকে রয়েছে বাংলাদেশের খোলা সীমান্ত। কাজেই কয়েক বছর আগে পর্যন্ত সেখানে পাচারকারী ও অনুপ্রবেশকারীদের দাপাদাপি দেখা গেলেও এখন অনেকটাই বদলেছে পরিস্থিতি।
নদীর ওপারে ক্যাম্প তৈরি করেছে বিএসএফ। তবে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হলে পায়ে হেঁটে বিএসএফের পক্ষে নজরদারি চালানো কার্যত অসম্ভব। নদীর সেই এলাকাগুলিতে এবার বিএসএফ ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে শুরু করেছে নজরদারি। বিশেষভাবে বিএসএফের ৩ এবং ১৪ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের পক্ষ থেকে এই নজরদারির কাজ ইতিমধ্যে শুরু করে দেওয়া হয়েছে। ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে নজরদারি চালানো যায়, সেজন্য বার্তা জারি করা হয়েছে। সেই মোতাবেক কাজও কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। ড্রোন ক্যামেরা ফলে ব্যবহারের পাচারকারীদের চিহ্নিতকরণ বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিশেষভাবে সহযোগিতা মিলছে বলেও দাবি বিএসএফ জওয়ানদের।
আরও পড়ুন:
শুধু বিএসএফ নয়, পাল্লা দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও এই নজরদারি কয়েক গুণ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বৃদ্ধি হয়েছে। এমনকী বিএসএফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যৌথভাবে পুলিশ অভিযানো চালাচ্ছে বলেই পুলিশকর্তারা দাবি করেছেন।
তবে শুধু বিএসএফ নয়, পাল্লা দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও এই নজরদারি কয়েক গুণ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বৃদ্ধি হয়েছে। এমনকী বিএসএফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যৌথভাবে পুলিশ অভিযানো চালাচ্ছে বলেই পুলিশকর্তারা দাবি করেছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলায় প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া কার্যত নেই। তার মধ্যে একটি বড় এলাকা নদী পথ রয়েছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রথম ধাপে মোট ২৪০ একর জমি কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করার জন্য কোচবিহার জেলায় চাওয়া হয়েছিল।
তার অধিকাংশই জেলা প্রশাসন হস্তান্তর কার্যত করে দিয়েছে বা চিহ্নিত করে ফেলেছে। পরবর্তীতে আরও ৫৩ একর জমি বিএসএফের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছে। দ্রুত যাতে সমস্ত জমি হস্তান্তর করে দেওয়া যায়, তার জন্য প্রচেষ্টার চালিয়ে যাচ্ছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তবে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিশেষভাবে নদী এলাকাগুলিতে চ্যালেঞ্জের মুখ পড়তে হয় বিএসএফকে। আর সেই এলাকাগুলির মধ্যেই অন্যতম হচ্ছে বিচ্ছিন্ন দীপ হিসেবে পরিচিত জারিধরলা ও দরিবস।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার, ফিল্মি কায়দায় মুর্শিদাবাদে পুলিশের গাড়ি থেকে চম্পট ২ বাংলাদেশির!
-
জন্মদিনেই অভিষেকের কান ধরে ওঠবসের ভিডিও পোস্ট গুরু যুবরাজের, কেন শাস্তি পেলেন?
-
দিনে ইঞ্জিনিয়ার, রাতে ক্রিকেটার! আইপিএল খেলাই স্বপ্ন দিল্লির তরুণ পেসারের
-
শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী মহোৎসব ঘিরে ভারত সেবাশ্রম সংঘে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান
-
দুপুরে খাবার পরই চোখ জুড়িয়ে আসে? ‘ফুড কোমা’র আড়ালে কঠিন রোগ নেই তো?