Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Shantiniketan Poush Mela

প্রযুক্তির যুগেও বইয়ের রমরমা, পৌষমেলায় গ্রন্থের বিপণন ছাড়াল ৩৫ লক্ষের গণ্ডি!

বিশ্বভারতী গ্রন্থণ বিভাগের স্টলে ৫ লক্ষ টাকারও বেশি বই বিক্রি হয়েছে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ১৪:৪৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ১৪:৪৫

options
link
প্রযুক্তির যুগেও বইয়ের রমরমা, পৌষমেলায় গ্রন্থের বিপণন ছাড়াল ৩৫ লক্ষের গণ্ডি! zoom
ফাইল ছবি।

দেব গোস্বামী, বোলপুর: প্রযুক্তির যুগে বইয়ের বিক্রি কমছে, পাঠক হারিয়ে যাচ্ছে- এমন অভিযোগ সর্বত্র। ঠিক এই সময়ই তাঁর ব্যতিক্রমী ছবি উঠে এল শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায় (Shantiniketan Poush Mela)। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের দাপট সত্ত্বেও এবার মেলায় ১২টি স্টল থেকে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। মূলত হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের মেলা হলেও, বই বিপণনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল একাধিক প্রকাশনা সংস্থা। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ। গ্রন্থন বিভাগের স্টলে রেকর্ড প্রায় ৫ লক্ষ টাকারও বেশি বই বিক্রি হয়েছে।

এবার পাঠকদের সুবিধার জন্য স্টলে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে বইয়ের তালিকা দেখার ব্যবস্থা ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবিতে সত্যজিৎ রায়কে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে প্রকাশিত বইগুলি বইপ্রেমীদের বিশেষ আকর্ষণ করে। ছয় দিনব্যাপী মেলায় বিশ্বভারতীর গ্রন্থন বিভাগের বই বিপণন কেন্দ্রে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রবীন্দ্রনাথের রচনার চাহিদা ছিল তুঙ্গে। কপিরাইট উঠে যাওয়ার পরেও বিশ্বভারতী প্রকাশিত গ্রন্থের প্রতি পাঠকদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলেই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। উন্নত মানের কাগজ, নির্ভুল বানান, সুস্পষ্ট হরফ ও গাঢ় খয়েরি রঙের রেক্সিন বাঁধাই পাঠকদের কাছে বিশ্বভারতী প্রকাশনার বইকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। গ্রন্থন বিভাগ থেকে প্রকাশিত ১৮টি খণ্ডে রবীন্দ্রনাথের সুবিশাল সাহিত্যকর্মের সংকলন বিপুল সংখ্যক পর্যটক কিনেছেন। প্রায় ৫৫০ জন পাঠক এই সংকলন কেনার আগ্রহ জানিয়ে অর্ডারও দিয়েছেন। এছাড়াও কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র, বিভিন্ন ভাষায় ‘গীতাঞ্জলি’র অনুবাদ, ‘রবীন্দ্র পরিচয়’, ‘গীতবিতান’, ‘স্বরবিতান’ ও রবীন্দ্রসপ্তাহের বক্তৃতা সংকলনের চাহিদা ছিল যথেষ্টই।

Advertisement

বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষ বলেন, “পৌষমেলায় গ্রন্থন বিভাগের স্টলে বই বিক্রি হয়েছে। আমরা অত্যন্ত খুশি। বইপ্রেমীদের বইয়ের প্রতি অনুরাগ বাড়ছে-এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।” পৌষমেলায় রাজনৈতিক দলগুলির স্টলেও বই বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। সিপিএম, এসএফআই ও তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা স্টল ছাড়াও ছাত্র সংসদের স্টলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক বই এবং অনুব্রত মণ্ডলের ‘খেলা হবে’ বই যথেষ্ট বিক্রি হয়েছে। সিপিএমের স্টলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের লেখা বই ও ‘ইনসাফ যাত্রা’ পাঠকদের আগ্রহ কেড়েছে। বিভিন্ন প্রকাশনার মধ্যে ডুংরি প্রকাশনা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ওপার বাংলায় ব্রাত্য হলেও এপার বাংলার মেলায় পূর্ব বাংলার গণআন্দোলন ও শেখ মুজিব বিষয়ক বইয়ের বিক্রি ছিল উল্লেখযোগ্য। ডুংরি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সৈকত রক্ষিতের ‘বৃংহন’, পাশাপাশি ‘জেরুজালেমের যাত্রী’ ও ‘নাবিকালীর রিস্কা’-র মতো বইও ভালো সাড়া পেয়েছে। সব মিলিয়ে, ‘বইয়ের বিক্রি নেই’ এমন ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দিল শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা। প্রযুক্তিনির্ভর সময়েও পাঠকের হাতে বই যে এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, তারই প্রমাণ মিলল এই রবীন্দ্রভূমের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলায়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.