পাহাড়ে কালো চিতা বেশ কয়েকবার দেখা গেলেও শাবক আগে দেখতে পাওয়া যায়নি। এবার পাহাড়ি রাস্তায় সেই কালো চিতার শাবক দেখা গেল। জঙ্গল ছেড়ে মায়ের সঙ্গে রাস্তায় চলে এসেছিল তারা। পথচলতি পর্যটকরাই সেই ভিডিও তুলে সোস্যাল মিডিয়ায় দিয়েছে। যা দেখে সাধারণ মানুষ তো বটেই বনদপ্তরের আধিকারিকও উচ্ছ্বসিত। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
মংপু থেকে পুবং যাওয়ার পাহাড়ি রাস্তায় সম্প্রতি একটি মা চিতাবাঘকে তার দুটি ছোট শাবকের সঙ্গে দেখা যায়। তবে ঘটনার আসল চমক ছিল শাবক দুটির গায়ের রঙে। একটির গায়ে সাধারণ চিতাবাঘের মতো স্বাভাবিক ছোপ থাকলেও, অন্য শাবকটি ছিল কুচকুচে কালো রঙের ‘ম্যালানিস্টিক লেপার্ড’। মা বাঘটির সতর্ক নজরদারি সত্ত্বেও কোনও পরোয়া না করে রাস্তার ধারে খেলাধুলোয় মেতে ছিল ভিন্ন রূপের দুই শাবক।বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ম্যালানিজম’ হলো একটি বিশেষ জিনগত পরিবর্তন। এর ফলে শরীরে মেলানিন রঞ্জকের পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে প্রাণীর গায়ের চামড়া ও লোম কুচকুচে কালো হয়ে যায়।
তবে আলো পড়লে বা সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করলে এই কালো চামড়ার ওপরও চিতাবাঘের প্রথাগত ছোপগুলো ফুটে ওঠে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, মংপু-পুবংয়ের মতো শান্ত ও সুরক্ষিত অরণ্য যে বন্যপ্রাণীদের নিশ্চিন্তে বংশবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল, এই ছবি তারই স্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে। দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে কালো চিতাবাঘের আনাগোনা অবশ্য একেবারেই নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় এদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। ডাওহিলের ঘন পাইন ও ওক অরণ্যে ট্র্যাপ ক্যামেরায় কালো চিতার আনাগোনা ধরা পড়ার নজির যেমন রয়েছে, তেমনই সান্দাকফুর ৮,০০০ ফুট উঁচুতে এবং মিরিকের ওকাইতি চা বাগান সংলগ্ন জঙ্গলে কালো চিতাবাঘ রাস্তা পার হতে দেখেছেন পথচারীরা। এছাড়াও মহানন্দা অভয়ারণ্য, ধোত্রে ও ঘুম-জোড়বাংলোর জঙ্গল এলাকাতেও একাধিকবার এদের দেখা মিলেছে।
সাধারণত ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ ফুট উচ্চতার ঘন পাইন, ধূপ ও মেপল অরণ্যে চিতাবাঘ নিজেদের খুব সুন্দর মানিয়ে নিয়েছে। কার্শিয়াং, সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যান, মানেভঞ্জন, চটকপুর ও পাহাড়ি চা বাগান এলাকায় সাধারণ চিতাবাঘের বিচরণ অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাটিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, “পাহাড়ের পরিবেশ ও ইকো-সিস্টেম যে কতটা সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে, একই সঙ্গে দুই ভিন্ন বর্ণের শাবকের এই উপস্থিতি তারই ইতিবাচক সংকেত। তবে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে আমাদের বিশেষ অনুরোধ, বন্যপ্রাণীর এরকম স্পর্শকাতর মুহূর্তে কাছে গিয়ে বা আলো ফেলে তাদের বিরক্ত করবেন না। শাবক সঙ্গে থাকলে মা বাঘ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে, যা বিপজ্জনক।” এদিকে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে এলাকাটিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
বাংলার পর অসমের মামলাতেও জামিন, ১৩ বছর পর বিরাট স্বস্তিতে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন
-
পুকুরে ভেসেই কাটছিল জীবন! অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে মুম্বইয়ে চিকিৎসা পাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সেই ইকবাল
-
এবার রাজ্য ও জাতীয় টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করবে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর! বড়সড় ইঙ্গিত মন্ত্রীর
-
জলে ভেসেই ইউএসজি, রক্ত পরীক্ষা! দুর্গম দ্বীপ থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসবে ফ্লোটিং অ্যাম্বুল্যান্স
-
শুধু ব্রাজিল নয়, বিশ্বকাপ মাতানো কেপ ভার্দের বিরুদ্ধেও খেলবে ভারত! মেগা পরিকল্পনা ফেডারেশনের