সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: শিবরাত্রির অনুষ্ঠানে গলায় গোখরো সাপ জড়িয়ে ছবি পোস্ট করে তুমুল বিতর্কে জড়ালেন বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বিবেক রাঙ্গা। বুধবার পুরুলিয়া শহরের গাড়িখানা এলাকায় একাধিক সংস্থার আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় শিবরাত্রিকে ঘিরে শিব-অভিষেক, শিবজির বারাত, বরমালা, শোভাযাত্রা, ভজন সন্ধ্যা ও প্রসাদ বিতরণের অনুষ্ঠান হয়। ওই অনুষ্ঠানেই স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে থাকা তথা বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি নিজের গলায় সাপ জড়িয়ে নেন বলে অভিযোগ। ওই অবস্থায় ছবি তুলে তা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টও করেন। ভাইরাল হয়ে যায় সেই ছবি। শুরু হয়ে তুমুল বিতর্ক।

জেলার রাজনৈতিক মহল থেকে বন্যপ্রাণপ্রেমী, সকলেই এই ঘটনায় আপত্তি তোলেন। কড়া ভাষায় আক্রমণ করে শাসক দল তৃণমূল। কারণ, ওয়াইল্ড লাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ১৯৭২ অনুযায়ী এই কাজ আইনবিরোধী। কোনও বন্যপ্রাণকে এভাবে প্রদর্শন ও উত্যক্ত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। পুরুলিয়া শহরের এই এলাকা কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের পুরুলিয়া-পাড়া রেঞ্জের অন্তর্গত। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়টি বনদপ্তরের নজরেও আসে। কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের ডিএফও বিপাশা পারুল বলছেন, ”বিষয়টি দেখা হচ্ছে।”
ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা জঙ্গলমহলের এই জেলায় বনদপ্তরের ধারাবাহিক সচেতনতার প্রচারে এখানকার মানুষজন এখন অনেকটাই সচেতন। আগে বিষধর সাপ দেখলেই পিটিয়ে মেরে ফেলা হতো। এই জেলায় হায়না থেকে লেপার্ডও পিটিয়ে মারা হয়েছিল। হরিণ শিকার করে ভুরিভোজও চলত। কিন্তু এখন এসব অতীত। বুনো হাতি হামলা করে ফসল তছনছ করলেও এই জেলার মানুষজন ওই বন্যপ্রাণকে বিরক্ত করেন না। ওড়িশার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আসা জিনাত তারপর ঝাড়খণ্ডের পালামৌ থেকে আসা আরেক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার তথা জিনাত সঙ্গীকেও এই জেলার মানুষজন কোনও বিরক্ত করেননি। সেই জেলাতেই শিবরাত্রির অনুষ্ঠানে গলায় সাপ জড়িয়ে ছবি তোলা ও তা ফেসবুকে পোস্ট করায় বিজেপি জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

পুরুলিয়া শহর তৃণমূল সভাপতি প্রদীপকুমার ডাগা বলেন, “বিজেপি জেলা সভাপতির বন্যপ্রাণকে নিয়ে এই ধরনের প্রদর্শন করা উচিত হয়নি। শেষমেষ উনি কি জীবজন্তুকেও ধর্মীয় প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিক প্রচারেও ব্যবহার করতে চাইছেন? আমি মনে করি, এটা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসন এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের অনুরোধ, বিজেপি জেলা সভাপতির এই জঘন্য কাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” তবে বিজেপির জেলা সভাপতি বিবেক রাঙ্গা বলেন, “ওই অনুষ্ঠানে অনেকেই গলায় সাপ জড়িয়ে ছিলেন। তাই আমিও করি। তবে তা বেদেদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।” আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, পুরুলিয়া মফস্বল থানা এলাকা থেকে ওই অনুষ্ঠানে ১০ থেকে ১২ টি বেদে আনা হয়। তারাই ওই সাপকে নিয়ে আসে বলে অভিযোগ। যা একেবারে বিধিবহির্ভূত।
গলায় সাপ জড়িয়ে হাসি মুখে বিজেপি জেলা সভাপতি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে যে ছবি পোস্ট করেছেন, তা দেখে বনদপ্তর জানিয়েছে, ওই সাপটি গোখরো। যা মারাত্মক বিষধর। তবে তা বেদেদের কাছে থাকায় সাধারণভাবে তাঁরা সাপের বিষদাঁত ভেঙে দেন। তবে এক্ষেত্রে কী হয়েছে, তা জানে না বনদপ্তর। কংসাবতী উত্তর বনবিভাগ জানিয়েছে, তারা সমস্ত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে।
সর্বশেষ খবর
-
এমবাপে ম্যাজিকেই বাজিমাত, সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ফ্রান্স
-
প্রথমবার নেহরু টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, হকিতে ভারত জয় পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের
-
হকার উচ্ছেদ ঘিরে কৃষ্ণনগর স্টেশনে ধুন্ধুমার! পুলিশের সঙ্গে বচসা, হাতাহাতি সিটু, এসইউসিআই কর্মীদের
-
‘ভারতীয়দেরও প্রাণ গিয়েছে’, জি-৭ বৈঠকে ট্রাম্পের সামনেই নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে উষ্মা মোদির
-
সরকারি কাজেই আধারের অপব্যবহার? এবার কেন্দ্র ও UIDAI-কে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের