Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
Tulu Mondal

অক্টোপাসের মতো ছড়িয়ে টুলুর ‘হাত’, বছরে ২৫০-৩০০ কোটির দুর্নীতি! আদালতে বিস্ফোরক তথ্য

সরকারি আইনজীবীর দাবি, এই মামলার মাথা একটি হলেও টুলুর হাত অক্টোপাসের মতো চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে।

সৌরভ চক্রবর্তী
সৌরভ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১৯:৫৫

link
সৌরভ চক্রবর্তী
সৌরভ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১৯:৫৫

options
link
অক্টোপাসের মতো ছড়িয়ে টুলুর ‘হাত’, বছরে ২৫০-৩০০ কোটির দুর্নীতি! আদালতে বিস্ফোরক তথ্য zoom
ফাইল ছবি।
Advertisement

টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal)-কাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন খুলছে রহস্যের নতুন দরজা! একদিকে টুলুর বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে তাঁর সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত একের পর এক ব্যক্তির নাম এবং নথি সামনে আসছে। সেই মামলাতেই নতুন মোড়। আদালতে টুলু মণ্ডলের দুই ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিক ও নইমুদ্দিন মণ্ডলকে তোলা হলে বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর ‘অক্টোপাস’ তত্ত্ব।

সীতেশ প্রামাণিকের হাতে লেখা হিসাবের নথিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। সেই লেখাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করতে আদালতে হ্যান্ডরাইটিং বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

সরকারি আইনজীবীর দাবি, এই মামলার মাথা একটি হলেও টুলুর হাত অক্টোপাসের মতো চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। অর্থাৎ টুলুকে কেন্দ্র করে আরও বহু ব্যক্তি ও ব্যবস্থার যোগ থাকতে পারে বলেই তদন্তে ইঙ্গিত মিলছে। দুই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলেও আদালতে জানান তিনি।

Advertisement

তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে ডিসিআর বা পাথর সংক্রান্ত নথি। পুলিশ টুলুর বিভিন্ন ডেরা থেকে যে ডিসিআর উদ্ধার করেছিল, সেগুলির সবকটিই জাল বলে ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন বলে আদালতে দাবি করা হয়। সরকারি আইনজীবীর আরও দাবি, ওই জাল ডিসিআর ব্যবহার করেই প্রতি বছর অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে তদন্তে পুলিশ আধিকারিকরা। এখানেই শেষ নয়, সীতেশ প্রামাণিকের হাতে লেখা হিসাবের নথিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। সেই লেখাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করতে আদালতে হ্যান্ডরাইটিং বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলায় আরও চারটি ধারা—জালিয়াতি, প্রতারণা, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা এবং জাল নথি ব্যবহার—যুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

ফলে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত, টুলুর সাম্রাজ্যের আসল পরিধি কতটা? আর সেই ‘অক্টোপাস’-এর কতগুলি হাত এখনও তদন্তের নাগালের বাইরে? তদন্ত এগোতেই এখন সেই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে এদিন টুলু মন্ডল ঘনিষ্ঠ আউশগ্রামের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক মন্ডল-সহ একাধিক বাড়িতে হানা দেয় বীরভূম পুলিশ। আউসগ্রামের কাঁটাটিকুরি গ্রামে এই অভিযান ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা।

টুলু মণ্ডলের পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান শুরু করে বীরভূম জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী। অভিযানে বীরভূম পুলিশের পাশাপাশি ছিল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ছোড়া ফাঁড়ির পুলিশও। শুধু মোজাম্মেলের বাড়ি নয়, তাঁর ভাইপো মুর্শিদ কালাম মণ্ডল ওরফে কাজলের বাড়িও ঘিরে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.