Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
Banga Bhushan

পথ দেখিয়েছিলেন মহাশ্বেতা দেবীরা, ডাইনি কুপ্রথা রুখতে রাজ্য়ে আইন চান পুরুলিয়ার ‘বঙ্গভূষণ’ কলেন্দ্রনাথ মান্ডি

জঙ্গলমহল বান্দোয়ানের সিরিষগোড়া গ্রামে জন্ম তাঁর। বিষ্ণুপুর রামানন্দ কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর ১৯৮০ সালে রেলে চাকরি। তার আগে থেকেই ডাইনি বিরোধী আন্দোলনের কাজ শুরু। ১৯৮১ সালে শুরু সাহিত্যচর্চা। মোট গ্রন্থ ১০টি। তার মধ্যে 'আরসি' গ্রন্থ ডাইনির মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১৫:০৩

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১৫:০৩

options
link
পথ দেখিয়েছিলেন মহাশ্বেতা দেবীরা, ডাইনি কুপ্রথা রুখতে রাজ্য়ে আইন চান পুরুলিয়ার ‘বঙ্গভূষণ’ কলেন্দ্রনাথ মান্ডি zoom
আদিবাসী লেখক পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের কলেন্দ্রনাথ মান্ডিকে বঙ্গভূষণ সম্মাননা রাজ্যের। নিজস্ব চিত্র
Advertisement

কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু আজ আর নেই। জীবনাবসান হয়েছে লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীরও। কিন্তু তাঁদের অনুসৃত পথে আজও বাংলা-ঝাড়খণ্ডের গ্রামে গ্রামে ডাইনি বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাঁওতাল লেখক, সাহিত্যিক ‘বঙ্গভূষণ’ (Banga Bhushan) কলেন্দ্রনাথ মান্ডি।

এখনও তিনি জঙ্গলমহল পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম-সহ ঝাড়খণ্ডের অজ পাড়া গাঁয়ে খাটিয়ায় ঘরের দাওয়াই বসে পড়ে ডাইনির মতো কুসংস্কার সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে প্রচার করছেন। ওই সব কুসংস্কারগ্রস্থ গ্রামগুলির মানুষের মনে বিজ্ঞানমনস্ক ভাবনার বীজ পুঁতে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এভাবেই ডাইনি প্রথাকে ছেঁটে ফেলতে চাইছেন বছর ৭২-র কলেন্দ্রনাথ।

Advertisement

সম্প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত ধরে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মাননা গ্রহণ পান পিছিয়ে পড়া জনজাতির এই মানুষটি। ওই অনুষ্ঠানের ভিড়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেভাবে তিনি কথা বলতে পারেননি। তাঁর কথায়, “এবার যেভাবেই হোক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানাব ডাইনির সামাজিক ব্যাধি দূর করতে আইন প্রয়োজন। কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু ও লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর তত্ত্বাবধানে এই ডাইনি বিরোধী আন্দোলনের কাজ আমি শুরু করি । তাদের সান্নিধ্যে এসেই আমার সাহিত্যচর্চা শুরু হয়। আর সেই সাহিত্যচর্চা থেকেই এই ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মাননা। রাজ্যের ওই সম্মানে আমি গর্বিত।” কলেন্দ্রনাথ পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্যও বটে। সোমবার জেলা পরিষদ থেকে তাঁকে সম্বর্ধনা জানানো হয়।

সোমবার জেলা পরিষদ থেকে তাঁকে সম্বর্ধনা জানানো হয়। নিজস্ব চিত্র

জঙ্গলমহল বান্দোয়ানের সিরিষগোড়া গ্রামে জন্ম তাঁর। বিষ্ণুপুর রামানন্দ কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর ১৯৮০ সালে রেলে চাকরি। তার আগে থেকেই ডাইনি বিরোধী আন্দোলনের কাজ শুরু। ১৯৮১ সালে শুরু সাহিত্যচর্চা। মোট গ্রন্থ ১০টি। তার মধ্যে ‘আরসি’ গ্রন্থ ডাইনির মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম। নয়ের দশকে এই আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রামবাসীদের আক্রোশের শিকার হন। তবুও তাঁর এই কাজ থেমে নেই। রীতিমতো টিম নিয়ে গ্রামে গ্রামে ডাইনি বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে চলছে তাঁর সাহিত্যচর্চাও।

২০০৭ সালে সাধু রামচাঁদ মুরমু পুরস্কার, ২০১৩ তে রাজ্যের গুণীজন সম্মাননা, ১৯৯২ সালে ভারতীয় দলিত সাহিত্য আকাদেমীর সম্মাননাও পান তিনি। একদিকে ডাইনি বিরোধী আন্দোলন সেইসঙ্গে সাঁওতালি ভাষা, সংস্কৃতি, পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ‘বঙ্গভূষণ’ কলেন্দ্রনাথ মান্ডি।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.