গত বছর সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছিল জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ানের মতো এলাকা। সেই ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতা ইনজামুল ইসলাম রাজার বিরুদ্ধে! এবার সেই তিনিই তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিলেন কংগ্রেসে। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে আজ, রবিবার কংগ্রেসে যোগ দেন ইনজামুল। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। দুর্নীতি থেকেই বাঁচতেই কংগ্রেসে যোগদান বলে কটাক্ষ বিজেপির। যদিও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে পালটা দাবি ইনজামুল ইসলাম রাজার।
রাজার দাবি, ”অশান্তিতে আমি কোনভাবেই জড়িত ছিলাম না। পরবর্তীতে রাজনৈতিক কারণে আমার নামে মিথ্যা মামলা রুজু করা হয়।”
আরও পড়ুন:
রাজ্যে পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর ভেঙে খান-খান। একদিকে কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল’ তৃণমূল। বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। এই অবস্থায় সামশেরগঞ্জ ও ফরাক্কা ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন। রবিবার ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ঘাটে এক যোগদান সভার মাধ্যমে এই দলবদল হয়। যেখানে ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান ইনজামুল ইসলাম রাজা, ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, কাউন্সিলর শারিফ শেখ, ফারহানা খাতুন-সহ পুরসভার একাধিক কাউন্সিলর ও কর্মী তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে শামিল হন।
একই সঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবাইদুর রহমানও কংগ্রেসে যোগদান করেন। তাৎপর্যপূর্ণ সামশেরগঞ্জে ওয়াকফ সংশোধনী নতুন আইন বাতিলের দাবিতে বছর দুয়েক আগে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। সেই অশান্তিতে নাম জড়ায় ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর বিরুদ্ধে হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে মামলা চলছে রাজার বিরুদ্ধে।

যা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ মালদহ বিজেপির সাংগঠনিক সহ-সভাপতি মিলন ঘোষ বলেন, ”যারা তৃণমূলে ছিল, আজ তাঁরাই কংগ্রেসের নৌকায় শামিল হচ্ছে। তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতে এই দলবদল।” বিজেপি নেতার কথায়, ”সামশেরগঞ্জের হিংসায় যারা জড়িত ছিল তারা নিজেদের বাঁচতে এই দলবদল বলে আমরা মনে করি। কিন্তু দলবদল করেও এরা নিজেদের বাঁচতে পারবেন না।” যদিও কোনও হিংসাতে কোনওভাবেই তিনি জড়িত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর পালটা দাবি, ”অশান্তিতে আমি কোনভাবেই জড়িত ছিলাম না। পরবর্তীতে রাজনৈতিক কারণে আমার নামে মিথ্যা মামলা রুজু করা হয়। তার মোকাবিলায় আইনি মোকাবিলায় নেমেছি।”
উল্লেখ্য, এদিনের কংগ্রেসের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, দক্ষিণ মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, ফরাক্কার বিধায়ক মোতাব শেখ এবং জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস-সহ জেলা ও ব্লক কংগ্রেস নেতৃত্ব।
সর্বশেষ খবর
-
গুরুত্ব বাড়ছে নতুন প্রজন্মের! এবার নন্দনে জেন জি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন, কী বললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’?
-
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, ফের পাক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি গাভাসকর, কপিল-সহ ২১ প্রাক্তন অধিনায়কের
-
আনন্দপুরে পরিচারিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছুরির কোপ! ফিল্মি কায়দায় চলন্ত ট্রেন থেকে রাঁধুনীকে ধরল পুলিশ
-
বরফ কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক! অসুস্থ শিশু-সহ কমপক্ষে ২৫, উত্তপ্ত হাড়োয়া
-
রাখিতে গেজেটপ্রেমী ভাই-বোনকে কী দেবেন ভাবছেন? রইল দারুণ গিফটের আইডিয়া