Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১ জুলাই ২০২৬
Asansol

তৃণমূলের জুলুমবাজিতে পড়েছিল তালা, পালাবদলে আসানসোলে খুলছে সুবিশাল বিস্কুটের কারখানা

রাজ্যে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই কারখানার মালিকদের চোখে এখন আবার নতুন করে আশার আলো। ২০২৬ সালে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার আসার পর শিল্প ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

Advertisement
শেখর চন্দ্র
শেখর চন্দ্র

শেষ আপডেট: জুলাই ১, ২০২৬, ১৫:২৪

link
শেখর চন্দ্র
শেখর চন্দ্র

শেষ আপডেট: জুলাই ১, ২০২৬, ১৫:২৪

options
link
তৃণমূলের জুলুমবাজিতে পড়েছিল তালা, পালাবদলে আসানসোলে খুলছে সুবিশাল বিস্কুটের কারখানা zoom
আসানসোলে ফের খুলছে বিস্কুটের কারখানা।

আসানসোল (Asansol) শিল্পাঞ্চলে নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে বাম জামানায় পথ চলা শুরু করেছিল কন্যাপুর শিল্প তালুক। সেই সময়েই ১৯৯৪ সালে সেখানে আসানসোল ইন্ডাস্ট্রিজ চেম্বার অফ কমার্সের উপদেষ্টা তথা শিল্পপতি প্রেমচাঁদ গোয়েলের উদ্যোগে গড়ে ওঠে একটি আধুনিক বিস্কুট কারখানা। প্রায় ৩০০ শ্রমিকের রুজি-রুটির সংস্থান হওয়া এই কারখানাটি প্রথম ১২ বছর অত্যন্ত সফলভাবে ও সুষ্ঠুভাবে উৎপাদন সচল রেখেছিল। শুরুর দিকে তৎকালীন সরকারের সহযোগিতায় বেশ রমরমিয়েই চলছিল কাজ। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার আসার পর। তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় শিল্প তালুকের শান্ত পরিবেশ রাতারাতি বদলে যায় এবং কারখানার মালিকদের ওপর শুরু হয় চরম রাজনৈতিক ও ইউনিয়নগত জুলুমবাজি।

প্রেমচাঁদ গোয়েল অত্যন্ত আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, “সরকারের এই নতুন উদ্যোগ ও আহ্বানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা নিজে তো এই বন্ধ কারখানা আবার নতুন করে খুলবোই, সেই সঙ্গে এলাকার অন্যান্য যুব সম্প্রদায়কেও নতুন শিল্প গড়তে উৎসাহিত করব।” 

কারখানার তৎকালীন পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে মালিক প্রেমচাঁদ গোয়েল জানান, ২০১১ সালের পর হঠাৎ করেই কারখানার ভেতর রাজনৈতিক আগ্রাসন ও ইউনিয়নবাজি বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কারখানার সুষ্ঠু পরিবেশের মধ্যে জোরপূর্বক দুটি বিরোধী ইউনিয়ন ঢুকে পড়ে। এর ফলে একদিকে যখন মাল তৈরি হতো, অন্যদিকের প্যাকিং সেকশনের কর্মীরা কাজ বন্ধ করে রাখতেন। এর জেরে তৈরি প্রচুর প্রোডাক্ট দিনের পর দিন বরবাদ হতে শুরু করে এবং কারখানাটি বড় লোকসানের মুখে পড়ে। প্রায় দেড় বছর ধরে এই বিপুল লোকসান টানার পর বাধ্য হয়েই তাঁরা কারখানায় তালা ঝোলাতে বাধ্য হন। গোয়েল আরও জানান, এই তীব্র সংকটের সময়ে তিনি তৎকালীন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মন্ত্রী মৌখিকভাবে সব ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাঁর দলের স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের তাণ্ডব ও অসহযোগিতার কারণে কোনও সুরাহা মেলেনি। এমনকি লেবার অফিসাররাও তৎকালীন শাসকদলের প্রভাবেই কাজ করেছিলেন। পরবর্তীকালে কারখানা বন্ধ থাকায় বহুমূল্যের সব যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে স্ক্র্যাপে চলে যায়। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই কারখানার মালিকদের চোখে এখন আবার নতুন করে আশার আলো। ২০২৬ সালে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার আসার পর শিল্প ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সরকারের নতুন শিল্প নীতি ও বাজেট ঘোষণায় তোলাবাজি ও জুলুমবাজির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস আসানসোলের শিল্পপতিদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে প্রেমচাঁদ গোয়েল অত্যন্ত আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, “সরকারের এই নতুন উদ্যোগ ও আহ্বানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা নিজে তো এই বন্ধ কারখানা আবার নতুন করে খুলবোই, সেই সঙ্গে এলাকার অন্যান্য যুব সম্প্রদায়কেও নতুন শিল্প গড়তে উৎসাহিত করব। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, নতুন জমানায় কাটমানি, তোলাবাজি ও নোংরা ইউনিয়নবাজির সংস্কৃতি বন্ধ হলে বাংলায় আবার বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং এ রাজ্যের যুবকদের কাজের জন্য বাইরে যেতে হবে না।” 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.