ধীমান রায়, কাটোয়া: মোবাইলে রিচার্জ করতে দোকানে পাঠিয়েছিলেন মা। কিন্তু পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রটি দোকানে গিয়ে মোবাইল নম্বর বলতে ভুল করে। তাই রিচার্জের টাকা চলে যায় অন্য কোনও নম্বরে। বাড়ি ফিরে সেই বিষয়ে জানতে পারলে ছেলেকে বকাবকি করেন মা। কিন্তু এতেই চরম পথ বেছে নেয় বছর এগারোর বালকটি। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে! এই ঘটনায় শোকের ছায়া পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার শীতলগ্রামে।
জানা গিয়েছে, মৃত সৌম্যদীপের মা রেখা দত্ত মঙ্গলকোট পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যা। ছেলেকে হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রেখাদেবী সোমবার সন্ধ্যার ছেলেকে ৩০০ টাকা দিয়ে গ্রামের একটি দোকানে মোবাইল ফোনের রিচার্জ করতে পাঠিয়েছিলেন। ওই দোকানে রিচার্জের টাকা মিটিয়ে বাড়ি ফিরে আসে সৌম্যদীপ। কিন্তু বেশকিছুক্ষণ পেরিয়ে গেলেও রেখাদেবী দেখেন তাঁর মোবাইলে রিচার্জের মেসেজ আসেনি। দোকানে গিয়ে জানতে পারেন ছেলে ওই দোকানদারকে মোবাইল নম্বর বলতে ভুল করেছিল। ফলে অন্য এক নম্বরে সেই টাকার রিচার্জ হয়ে গিয়েছে।
এর পর বাড়ি ফিরে এসে ছেলেকে বকাবকি করেন রেখাদেবী। খানিক বাদে মেয়েকে পাড়ার একটি বাড়ি থেকে পানীয়জল আনতে যান তিনি। সেসময় বাড়িতে একাই ছিল সৌম্যদীপ। মিনিট পনেরো পর বাড়িতে ফিরে রেখাদেবী দেখতে পান ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছার ফাঁস দিয়ে ঝুলছে ছেলে। চিৎকার করে পাড়াপড়শিদের ডাকেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীরা সৌম্যদীপকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রাতেই দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর মঙ্গলবার দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কাটোয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর স্তম্ভিত গ্রামবাসীরাও। একটু বকাবকির জন্য ছেলে এমন কাণ্ড ঘটাবে তা মানতেই পারছেন না রেখাদেবী। এই দুঃসময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী।
সর্বশেষ খবর
-
অসুস্থ হয়ে দিল্লি এইমসে ভর্তি বিমান বসু, কী জানাল বামফ্রন্ট রাজ্য নেতৃত্ব?
-
হাওড়ায় বাড়ির সামনে জমা জলে উদ্ধার ব্যক্তির দেহ, তদন্তকারী দল পাঠালেন মন্ত্রী, আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস
-
আচমকা অসুস্থ বুদ্ধদেবজায়া মীরা ভট্টাচার্য, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
-
বাবাকে ‘টার্গেট’ ভেবে ঘরে ঢুকে ছেলেকে খুন! যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল হাওড়া আদালত
-
অভয়া মামলা থেকে নিস্তার নেই! তোলাবাজিতে জামিন হলেও জেলেই প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব