বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ক্রমশ বাড়ছে ক্ষোভ। বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চলছে। এদিনও বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। গাড়িতে হামলার ঘটনায় এখনও অবধি একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার পর বিক্ষোভ, অবরোধের অভিযোগে ২ গেরুয়া কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনা নিয়েও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ গেরুয়া শিবিবের।
মঙ্গলবার বিকেলে বিজেপি বিধায়কের গাড়ি ভাঙচুর করে তাঁরস্ত্রীর উপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছিল গোপালনগর থানার বেলেডাঙা চারাতলায় এলাকায়৷ পালটা গ্রামের কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল৷ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’পক্ষের মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিধায়কের গাড়িতে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে গোপালনগর থানার বনগাঁ চাকদা সড়কের গোপালনগর বাজারে পথ অবরোধ করে বিজেপি কর্মীরা। যে অবরোধের নেতৃত্ব দেন বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। হাতে ঝাঁটা জুতো নিয়ে পথ অবরোধে সামিল হয় বিজেপি মহিলা কর্মীরা। কয়েকশো বিজেপি কর্মী সমর্থক এই অবরোধের সামিল হয়। প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ চলার পর অবশেষে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তোলা হয়।
আরও পড়ুন:

বিধায়ক স্বপন মজুমদারের দাবি, “পরিকল্পিতভাবে বিজেপি বিধায়কদের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তৃণমূলের হারের জন্যই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিধায়কের পরিবারের সদস্যরাই এ রাজ্যের সুরক্ষিত নয়, তাহলে সাধারণ বিজেপি কর্মীরা নিরাপত্তা পাবে কোথায়৷” যদিও তৃণমূল সেই অভিযোগ মানতে চায়নি। তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “এটা বিজেপির সেমসাইড হয়েছে। ওখানকার মানুষ ভোট দিয়েছে। ৫ বছর এলাকায় যায় না, যোগাযোগ রাখেন না।” তিনি আরও বলেন, “বিধায়কের গাড়ি দেখে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল সাধারণ বাসিন্দারা। কিন্তু সাধারণ বাসিন্দাদেরই উপর পালটা আক্রমণ হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, অশোক কীর্তনীয়ার স্ত্রী মৌমিতা কীর্তনীয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সৌমেন অধিকারী ও পালটা মারধরের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে রঞ্জিত দাস ও অভিজিৎ দাস নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি গোপালনগর থানার বেলেডাঙা এলাকায়। ধৃতদের বুধবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গোপালনগর থানার বেলেডাঙা চারাতলা এলাকায় বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার গাড়ি দেখে গ্রামের মধ্যে দাঁড় করায় বাসিন্দারা৷ এলাকায় কেন উন্নয়ন হচ্ছে না? অভিযোগ, সেই প্রশ্ন করতেই গাড়ির মধ্যে থেকে কটুক্তি করা হয়। সেসময় গাড়ির ভেতর থেকে একজন গ্রামবাসীর হাতে আঘাত করা হয়। এরপরেই উত্তেজিত গ্রামবাসী গাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ওই গাড়িতে বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী মৌমিতা কীর্তনীয়া-সহ কয়েকজন একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তৃণমূল ওই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জল্পনার অবসান! বিশ্বকাপ শুরুর পাঁচ দিন আগে ইরানেরকে ভিসা মঞ্জুর আমেরিকার
-
ইবোলা পরিসংখ্যানে আশার আলো কঙ্গোতে! বিপদ কাটেনি, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
-
‘রেল মানচিত্রে জুড়বে গোটা বাংলা’, নবান্নে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ শুভেন্দুর
-
উচ্ছিষ্ট ফুল থেকেই তৈরি হবে ধূপবাতি! রাজ্যের উদ্যোগে আশার আলো তারাপীঠ-সহ বীরভূমের বিভিন্ন মন্দিরে
-
কৃষ্ণনগরে হস্টেলের শৌচালয়ে খুদে ছাত্রীর দেহ! খুনের অভিযোগ পরিবারের