মৃত্যুর খাঁড়া ঝুলছে মাথার উপর। দেশের মাটিতে পা রাখলেই মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত! তবু অকুতোভয় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্ভীক ঘোষণা, ‘‘এবছরই আমি ফিরছি দেশে। এটা আমার ব্যক্তিগত কোনও লক্ষ্য নয়। দেশের গণতন্ত্র ফেরাতে, দেশবাসীর পাশে দাঁড়াতে এটা জরুরি। আর মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না।” চ্যালেঞ্জের সুরে তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘১৯৭৫ সালে গোটা পরিবারকে হারিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। আমাকেও বহুবার মারার চেষ্টা হয়েছে। ওরা আওয়ামি লিগকে রাজনীতির বৃত্ত থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে, কিন্তু তা হবে না। ওরা ব্যর্থ হবেই।”
মুজিবকন্যার কথায়, ‘‘নির্বাচনহীন, অসংসদীয় একটা সরকারের অনৈতিক বিচারপ্রক্রিয়া। আমাকে ফাঁসির সাজা শুনিয়ে ওরা আওয়ামি লিগকে নেতৃত্বহীন করে দেবে। আমি সাফ বলে দিচ্ছি, সমস্ত ষড়যন্ত্র, বাধা পেরিয়ে এবছরই দেশে ফিরব। মনে রাখবেন, আওয়ামি লিগ কাগজ-কলমের দল নয়, এটা জনগণের পার্টি। যতবার বাধা এসেছে, জনসমর্থনেই তা বেশি বেশি করে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।”
আরও পড়ুন:
২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংরক্ষণ-বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের জেরে গদিচ্যুত হতে হয় দেশের দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রীকে। বঙ্গভবন ছেড়ে হাসিনা আকাশপথে চলে আসেন দিল্লিতে। আপাতত এখানেই তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। ওদিকে, হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রায় বছর খানেক ধরে নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ছিল। তাঁর আমলে গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তৎকালীন বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকেও একই সাজা দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকেও নিষিদ্ধ করেছিল ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। তাই ছাব্বিশের সাধারণ নির্বাচনে লিগের কেউ ভোটে দাঁড়াতে পারেননি। যদিও বাংলাদেশের বাইরে নানা জায়গায় আওয়ামি লিগ সক্রিয়। নয়াদিল্লিতে বসে নানা সভায় দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর ভোকাল টনিক দিতে দেখা গিয়েছে হাসিনাকে। এবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। তারেক রহমান সরকারও হাসিনাকে প্রত্যর্পণে আগ্রহী হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে আবেদন জানায়নি।
এসবের মাঝে শেখ হাসিনার দাবি, ইউনুসের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে যেভাবে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে, তা সম্পূর্ণত বেআইনি। মুজিবকন্যার কথায়, ‘‘নির্বাচনহীন, অসংসদীয় একটা সরকারের অনৈতিক বিচারপ্রক্রিয়া। আমাকে ফাঁসির সাজা শুনিয়ে ওরা আওয়ামি লিগকে নেতৃত্বহীন করে দেবে। আমি সাফ বলে দিচ্ছি, সমস্ত ষড়যন্ত্র, বাধা পেরিয়ে এবছরই দেশে ফিরব। মনে রাখবেন, আওয়ামি লিগ কাগজ-কলমের দল নয়, এটা জনগণের পার্টি। যতবার বাধা এসেছে, জনসমর্থনেই তা বেশি বেশি করে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।” এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালেই অর্থাৎ এবছরের মধ্যেই স্বদেশে ফেরা নিয়ে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী মুজিবকন্যা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিজেপি নেতাকে প্রাণে মারার চেষ্টা! গ্রেপ্তার রহিম নবির ভাই-সহ দুই তৃণমূল নেতা
-
শহর ছাড়িয়ে বহরমপুরের চিকিৎসা কেন্দ্রে অরিজিৎ, অসুস্থ গায়ক? উদ্বিগ্ন ভক্তরা
-
জমি ‘দখল’ তৃণমূল নেতার, ১২ বছরেও সুবিচার না পেয়ে মন্ত্রী শংকর ঘোষের দ্বারস্থ জওয়ান
-
‘ভোজিনহার হাতেই মেসিদের ইতি’, নকআউট নিয়ে বিস্ফোরক ভবিষ্যদ্বাণী ঘানার সেই ওঝার
-
‘বগা বাইরে মার, পেনাল্টিতে আমরা গোল দিই না’, বাঙালির ফুটবল-আবেগ