তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে ঢাকায় যান লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। সৌজন্য সফরে বাংলাদেশের (Bangladesh) বিরোধী দলনেতা নেতা ও বাংলাদেশ জামাতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করলেন মিসরি। বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হওয়ায় শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন জানান তিনি। দু’জনেই ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়ে আস্থা ব্যক্ত করেছেন। মোদির ‘দূত’ বিক্রম মিসরির সঙ্গে জামাতের আমিরের সাক্ষাৎ উভয় দেশের কূটনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, বিদেশ সচিব দুই দেশের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমানকে তাঁর নতুন ভূমিকার জন্য শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের দীর্ঘস্থায়ী সমর্থন ব্যক্ত করেন মিসরি। পালটা শফিকুর রহমানও দুই দেশের সভ্যতাগত বন্ধনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। আরও শক্তিশালী দ্বিপক্ষিক সম্পর্কের বিষয়েও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
জামাতের আমিরের সঙ্গে ভারতের বিদেশ সচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ মোদি সরকারের কূটনীতির অংশ।
আরও পড়ুন:
জামাতের সোশাল মিডিয়া পোস্টেও ভারতের বিদেশ সচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শফিকুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ায় ভারত সরকারের তরফে আন্তরিক অভিনন্দন জানান বিক্রম মিসরি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে তাঁর নেতৃত্বে জামাত ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে। কেমন হবে কট্টরপন্থী জামাতের সেই ভূমিকা? সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয়ী হয়েছে বিএনপি। স্বভাবতই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে তারাই সরকার গড়েছে। কম তাৎপর্যপূর্ণ নয় বালাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় প্রধান বিরোধী দল হিসাবে জামাতের উত্থান। তারা দীর্ঘদিন বাংলাদেশে কট্টরপন্থার রাজনীতি করলেও ভোটের ময়দানে তেমন সুবিধা করতে পারছিল না। যদিও এবারের ভোটে একক ভাবে ৬৮টি এবং ‘জামাত জোট’ ৭৭টি আসন দখল করছে। শতাংশের হিসাবে ৩৮.৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে তারা।
এই অবস্থায় জামাতের আমিরের সঙ্গে ভারতের বিদেশ সচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ মোদি সরকারের কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাথায় রাখতে হবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ভোটে জিতেছেন জামাতের প্রার্থীরা। ফলে বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপির পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল জামাতের সঙ্গে সুসম্পর্কও জরুরি বলে মনে করছে দিল্লি। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বলেই পরিচিত জামাত শিবির। তাদের নেতার সঙ্গে ভারতের বিদেশ সচিবের বৈঠক, একে অপরের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বলা বাহুল্য। ভারত যে স্থবির কূটনীতিতে বিশ্বাস করে না এটা তার প্রমাণ। রাষ্ট্রতন্ত্রে পুরনো শত্রু কালের নিয়মে হতেই পারে নিকট বন্ধু!
সর্বশেষ খবর
-
‘ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন, খুলছে হরমুজ’, সাড়ে তিন মাসের সংঘাত পেরিয়ে বড় ঘোষণা ট্রাম্পের
-
ছাব্বিশে ফিরল ʼ১৪-র স্মৃতি, ৭ গোল দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু জার্মানির
-
সই জাল কাণ্ডে কুণাল-অভিষেককে মুখোমুখি জেরা, বয়ানে অসংগতি সাংসদের! ফের তলবের ভাবনা সিআইডির
-
লেবানন নিয়ে ইজরায়েল-ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা, ‘আমরা শান্তির দোরগোড়ায়’, বার্তা ট্রাম্পের
-
ক্রিকেট মাঠে ফের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ভারতের, পাকিস্তানকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু স্মৃতি-দীপ্তিদের